পদ্মা সেতু; মাওয়ায় বাড়ছে কর্মব্যস্ততা, বাজেটে বরাদ্দ

padma-bridge
পদ্মা সেতুর নকশা
পদ্মা সেতুর নকশা
পদ্মা সেতুর নকশা

পদ্মা সেতুর অ্যাপ্রোচ রোড ও তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং নদী শাসনসহ সব কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এজন্য মাওয়া এলাকায় বেড়েছে কর্মব্যস্ততা।পাশাপাশি আগামি অর্থবছরের বাজেটে প্রকল্পটিতে বাড়ছে অর্থ বরাদ্দ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাওয়া চৌরাস্তা থেকে দোগাছি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সেতুর কাজ শুরুর আগেই এ কাজ শেষ করা যাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া মাওয়া ঘাট পাশের শিমুলিয়ায় স্থানান্তরের কাজও ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে গেছে, আগামি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ৮ হাজার ১শ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে। এতে ভারতের ১হাজার ৬শ কোটি অর্থসহায়তা অন্তর্ভূক্ত থাকবে।
জানা গেছে, ভারতীয় অনুদানের দুটি কিস্তি ইতোমধ্যেই ছাড় হয়েছে। বাকি দুই কিস্তিতে আরও ১০ কোটি ডলার পাওয়া যাবে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে অনুদানের অর্থ যেকোন খাতে ব্যয় করা যাবে। সেতু প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ে দেশটির কোনো আপত্তি নেই।

এদিকে প্রকল্পের কাজে গতি আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বেশ সক্রিয় রয়েছেন। যোগাযোগমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী, নৌমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকায় ঘন ঘন তদারকির করছে। যার কারণে কাজের গুণগত মান এবং গতি দুটোই বৃদ্ধি পেয়েছে।

সেনাবাহিনীর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন, জমি অধিগ্রহণসহ অনেক কাজই ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

সেনাবাহিনীর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহ নূর জিলানী (পিএসসি) জানান, পদ্মা সেতু এলাকার মাওয়ায় ব্যাপক ভাঙন এবং ওই অঞ্চলের বাড়িঘর রক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নকশা অনুযায়ী এক হাজার ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনী প্রায় শেষ করে এনেছে।

তিনি বলেন, কাজের মান বজায় রাখতে ও মনিটর করতে সেনাবাহিনী এখানে বালুর মান নির্ণয়নের জন্য বসিয়েছে বিশেষ যন্ত্র। এ যন্ত্রের মাধ্যমে বালুর মান পরীক্ষা করে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলা হচ্ছে। ১৪ লাখ জিও ব্যাগভর্তি বালু নদীতে ফেলার কাজ ৮৫ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে।

মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও ইআরডি থেকে জানা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের এডিপিতে এ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার ৮শ ৫২ হাজার কোটি টাকা।তবে পরবর্তীতে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ কমিয়ে ২হাজার ৪২কোটি ৫৬লাখ টাকা রাখা হয়। আর আগামি অর্থবছরে এ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে ৮হাজার ১শ কোটি টাকা করা হয়েছে।
অবশ্য চলতি অর্থবছরের এডিপি সংশোধনের সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, আগামি অর্থবছরের বাজেটে পদ্মা সেতুর জন্য বড় অংকের অর্থবরাদ্দ দেওয়া হবে। কেননা ওই অর্থবছরেই সেতুর মূলকাজ শুরু হবে। সে অনুযায়ীই চাহিদাপত্র তৈরি করেছে সেতু বিভাগ।

এদিকে ২৪ এপ্রিল একমাত্র কোম্পানি হিসেবে মেজর ব্রিজ পদ্মা সেতুর জন্য তাদের আর্থিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এতে করে ওই চীনা কোম্পানিটিই যে পদ্মা সেতুর কাজ পাচ্ছে তা এক প্রকার নিশ্চিত। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও আগেই জাননো হয়েছে জুন মাসের মধ্যেই সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২০ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডেইলিম-এল অ্যান্ড টি জেভি,স্যামসাং সি অ্যান্ড টি করপোরেশন ও চায়না মেজর ব্রিজ মূল পদ্মাসেতু নির্মাণের কারিগরি প্রস্তাব জমা দেয়।

জানা যায়, অর্থমন্ত্রণালয় থেকে আগামি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য মোট এডিপির আকার ৭৯ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৫১ হাজার ৩০০ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ২৭ হাজার ৭০০কোটি টাকা ব্যয় করার লক্ষ্যনির্ধারণ করা হয়েছে।

 এইচকেবি/