করোনার সঙ্গে বসবাস রপ্ত করতে হবে আমাদের: কাদের
বুধবার, ২৭শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনার সঙ্গে বসবাসের অভ্যাস রপ্ত করতে হবে: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, সামান্য উপেক্ষা বড় বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাই এখন থেকেই সতর্ক থাকার জন্য আমি সবাইকে অনুরোধ করছি। করোনার সঙ্গে বসবাস রপ্ত করতে হবে আমাদের সবাইকে।

আজ মঙ্গলবার (১২ মে) নিজ বাসভবন থেকে ভিডিও বার্তায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে বর্তমানে ২১২টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার বিস্তার ঘটেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সর্বশেষ ৩৪তম। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত, পাকিস্তানসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের অবস্থান ভালো হলেও পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতিশীল। ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে বলেই স্পষ্টত প্রতীয়মান হচ্ছে।

করোনা সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই কার্যকর পন্থা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এমন সংকটে আমাদের সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। অথচ আমরা লক্ষ্য করছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাধারণ ছুটি কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিথিল করার পর বাণিজ্য কেন্দ্র, ফেরিঘাট, তৈরি পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য কারখানায় এবং সর্বত্র স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান উপেক্ষিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জনগণকে সচেতন থাকতে সংক্রমণ রোধে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) চিকিৎসাসহ সার্বিক পরিস্থিতি গভীরভাবে মনিটরিং করছেন। আমরাও আমাদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছি। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা করাসহ সবাইকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করছি। আপনাদের মনোবল রাখতে হবে, সাহস রাখতে হবে। শেখ হাসিনা সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সৎ ও সাহসী নেতৃত্বে ইনশাআল্লাহ আমরা ঘুরে দাঁড়াব।

ত্রাণ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ত্রাণ কার্যক্রমে অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছে। এ ইস্যুতে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তসাপেক্ষে ইতোমধ্যে আইনগত, প্রশাসনিক ও দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ তারই প্রমাণ। ত্রাণ বিতরণ নিয়ে সামান্য অপরাধ করলেও কেউ রেহাই পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত এক দশকে বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সক্ষমতা অর্জন করেছে তার কারণেই এই সংকটকালে এত বিপুল পরিমাণ প্রণোদনা এবং ত্রাণ সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এই সংকটে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজে এক কোটি মানুষকে রেশনের আওতায় আনা হয়েছে। ৫০ লাখ মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া সমসাময়িক বিশ্বে নজিরবিহীন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা ও বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা করা সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ রোগীরা অন্যান্য রোগের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করে প্রতিদিন সামান্য সময়ে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার জন্য চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় ওবায়দুল কাদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে ঈদে অনলাইনে শপিং করারও আহ্বান জানান।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ