করোনা: শিক্ষাবর্ষ বাড়তে পারে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত
মঙ্গলবার, ২রা জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page
কমানো হবে সিলেবাস ও সাধারণ ছুটি

করোনা: শিক্ষাবর্ষ বাড়তে পারে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রেধে টানা দুই মাস ধরে বন্ধ প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে বন্ধ রয়েছে আনুষ্ঠানিক পাঠদান। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রধান দুটি বিকল্প নিয়ে কাজ করছেন শিক্ষা খাতের নীতিনির্ধারকরা। প্রথম বিকল্প হচ্ছে- করোনার আক্রমণ দ্রুত শেষ হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া। সিলেবাস কমিয়ে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকল ছুটি বাতিল করে শিক্ষাবর্ষ ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করা। দ্বিতীয় বিকল্প হচ্ছে- চলতি শিক্ষাবর্ষ (২০২০) আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো। এতে বার্ষিক পরীক্ষা ডিসেম্বরের পরিবর্তে আগামী ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে। আর পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ (২০২১) মার্চ মাসে শুরু হবে। নীতিনির্ধারকরা দ্বিতীয় বিকল্পের ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আগামী আগস্ট বা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলে কিভাবে পরবর্তী পর্যায়ে পড়ালেখা চলবে তা নিয়ে কাজ শুরু করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এরই মধ্যে এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এনসিটিবিকে বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা তৈরির মৌখিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এনসিটিবির শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞরা প্রথম বিকল্পের বিপক্ষে মত দিয়েছেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে সিলেবাস কমানোর বিপক্ষে তারা।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, প্রতিটি শ্রেণির সিলেবাস ওই শ্রেণির নির্ধারিত দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জন করে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য। সিলেবাস কমানো হলে নির্ধারিত জ্ঞান অর্জিত হবে না। এতে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। এ ছাড়া তাড়াহুড়ো করে সিলেবাস শেষ করলে শিক্ষর্থীরা ওই জ্ঞান ধারণ করতে পারবে না। তাই তারা শিক্ষাবর্ষ অন্তত দুই মাস বাড়ানোর পক্ষে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা এরই মধ্যে একটি মিটিং করেছি। সেখানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মূলত দুটি প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু কবে নাগাদ করোনার প্রকোপ শেষ হবে, আর কবে স্কুল-কলেজ খুলবে সেটার ব্যাপারে আমরা মোটামুটি একটা ধারণা না পেয়ে এগোতে পারছি না। তবে আমরা আরো বৈঠক করব।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান আরো বলেন, যদি আগস্ট বা সেপ্টেম্বরে স্কুল খোলে তাহলে আমাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিল চলতি শিক্ষাবর্ষকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। ফেব্রুয়ারিতেই বার্ষিক পরীক্ষাসহ অন্যান্য পরীক্ষা নেওয়া। এতে শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে পড়ে ও শিখে পরবর্তী শ্রেণীতে উন্নীত হতে পারবে। আর পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ ২০২১ সালের মার্চ থেকে শুরু করা। আগামী শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন ধরনের ছুটি কমিয়ে ১০ মাসে শিক্ষাবর্ষ শেষ করা। তবে বিকল্প প্রস্তাবও এসেছে। সেখানে ২০২০ সালের মধ্যেই সব পরীক্ষা শেষ করার কথা বলা হয়েছে। এতে সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা ও ঐচ্ছিক ছুটি কমানোর কথা বলা হয়েছে।

গত ১৭ মার্চ থেকে সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করোনার কারণে বন্ধ। এ সময়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের জন্য সংসদ টেলিভিশনে ক্লাস প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে নানা কারণে এসব ক্লাস শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে কোনো সাড়া ফেলতে পারেনি।

এদিকে গত ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। কিন্তু নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে এই পরীক্ষাসূচি স্থগিত করতে বাধ্য হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। করোনা ভাইরাসে গতিবিধি বোঝা না যাওয়ায় নতুন কোনো পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করতে পারছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে প্রায় ১২ লাখ পরীক্ষার্থী। এমনকি চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের কথা থাকলেও তা করা যাচ্ছে না।

এছাড়া প্রতি বছর নভেম্বর মাসের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী-পিইসি ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী-জেএসসি পরীক্ষা। কিন্তু প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সংসদ টেলিভিশনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ক্লাস প্রচার করলেও তা খুব একটা কাজে আসছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা খুব একটা এগোচ্ছে না। এ অবস্থায় সিলেবাস শেষ করা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ