মানবিক বিবেচনায় ঈদের আগে লেনদেন শুরুর দাবি
শুক্রবার, ২৯শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

মানবিক বিবেচনায় ঈদের আগে লেনদেন শুরুর দাবি

করোনাভাইরাসের প্রকোপ মোকাবেলায় চলমান ছুটির কারণে বন্ধ আছে দেশের পুঁজিবাজার। দীর্ঘ সময় ধরে এই বাজার বন্ধ থাকায় বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারহাউজের কর্মীদের দুর্ভোগ চরমে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র পুঁজির বিনিয়োগকারীদের অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা মানবিক বিবেচনায় হলেও ঈদের আগেই বাজারে লেনদেন শুরু করার দাবি জানিয়েছেন।


অর্থসূচকে প্রকাশিত পুঁজিবাজার ও ব্যাংক-বিমার খবর গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো এখন নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে আমাদের ফেসবুক

গ্রুপ Sharebazaar-News & Analysis এ। প্রিয় পাঠক,গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।


উল্লেখ, দেশে করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য মহামারি ঠেকাতে গত ২৪ মার্চ সরকার সাধারণ  ছুটি ঘোষণা করে যা ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয়। সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকে পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ আছে। যদিও করোনার মধ্যেও সারা বিশ্বে পুঁজিবাজার চালু আছে, তবু বাংলাদেশে লেনদেন আর শুরু হয়নি। সীমিত সময়ের ব্যাংকিংসহ কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে বাংলাদেশে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে লেনদেন শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি’র দাবি।

সাধারণ ছুটির সঙ্গে মিল রেখে ২৬ মার্চ থেকে বিএসইসি, সিডিবিএল এবং স্টক এক্সচেঞ্জেও ছুটি চলছে। তাই বাজারে লেনদেন হয়নি। তবে গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পরিষদ নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে ১০ মে থেকে লেনদেন শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়। এর প্রেক্ষিতে গত ৩ মে বিএসইসির কাছে সীমিত পরিসরে লেনদেন শুরুর অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি বিএসইসি। এ অবস্থায় ডিএসই সাধারণ ছুটির  সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৬ মে পর্যন্ত লেনদেনসহ সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে। তবে ডিএসই এটিও বলেছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে লেনদেন শুরুর অনুমতি পাওয়া গেলে তারা ছুটি বাতিল করে লেনদেন শুরু করতে প্রস্তুত আছে।

বিএসইসি কর্তৃপক্ষ বলছে, কয়েকটি কারণে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর সুযোগ কম। প্রথমতঃ সরকার পুঁজিবাজারকে সাধারণ ছুটির আওতার বাইরে রাখেনি।

দ্বিতীয়তঃ ডিএসই বিদ্যমান আইনের কিছু ছাড় চেয়েছে, সেগুলোর জন্য কমিশন বৈঠকের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু সংস্থাটি বর্তমানে কোরামের অভাবে কমিশন বৈঠক সম্ভব নয়।

বিনিয়োগকারীদের একাংশ মানবিক বিবেচনায় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনুমতি নিয়ে বিশেষ বিবেচনায় হলেও ঈদের আগে লেনদেন চালু করার দাবি জানিয়েছেন। বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারী অর্থসূচকে ফোন করে তাদের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বাজার খোলার দাবি জানিয়েছেন। আবার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ গত সপ্তাহে লেনদেন চালুর দাবি জানিয়ে বিএসইসিকে চিঠি দিয়েছে।

ব্রোকারহাউজে লেনদেন-ফাইল ফটো

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, লেনদেন বন্ধ থাকার কারণে তাদেরকে দুইটি বড় সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে। যারা মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন তাদের ঋণের সুদের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। লেনদেন চালু থাকলেও হয়তো অনেকে তাদের শেয়ার কিছুটা বিক্রি করে ঋণের চাপ কমিয়ে নিতে পারতেন। তাতে সুদের বাড়তি বোঝা তাদের ঘাড়ে চেপে বসতো না। অথবা যাদের নতুন তহবিল ম্যানেজ করার ক্ষমতা আছে, তারা তার যোগান দিয়ে ঋণের পরিমাণ কমিয়ে নিতে পারতেন।

অন্যদিকে অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী আছেন যারা তাদের পুরো সঞ্চয়ই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। লকডাউনের কারণে  অনেকেরই বেতন হয়নি। ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের আয়-রোজগার বন্ধ। এমন অবস্থায় জীবন ধারণ করাই তাদের জন্য দুরুহ হয়ে পড়েছে। স্ত্রী সন্তানদের মুখে তিন বেলা খাবরের যোগান দেওয়া, অতি জরুরি কনো পণ্য কেনা অনেকের পক্ষেই সেভাবে সম্ভব হচ্ছে না। লেনদেন চালু থাকলে তারা তাদের শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগের একাংশ তুলে নিতে পারতেন। কারণ বিনিয়োগ ও লাভ-লোকসানের হিসাবের চেয়ে বেঁচে থাকাটা জরুরি।

অনেক বিনিয়োগকারী প্রতি বছর ঈদের আগে তাদের বিনিয়োগ থেকে কিছু টাকা তুলে নিয়ে উৎসবের ব্যয় মিটিয়ে থাকেন। কিন্তু লেনদেন বন্ধ থাকলে এবার এটি সম্ভব হবে না।

সব মিলিয়ে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে হলেও পুঁজিবাজার খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ