কমেছে পেঁয়াজ-রসুন ও আদার দাম, বাড়তি সবজির
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

কমেছে পেঁয়াজ-রসুন ও আদার দাম, বাড়তি সবজির

রাজধানীর পাইকারি বাজারগুলোতে বোরো মৌসুমে চাল আসতে শুরু করেছে। নতুন এই চালের দাম তুলনামূলক কম। ফলে বাজারে কমতে শুরু করেছে পুরনো চালের দামও। পাশাপাশি গত সপ্তাহের পর থেকে বাজারে পেঁয়াজ-রসুন, আদা ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে। তবে বেড়েছে শাক-সবজির দাম।

আজ (৮ মে) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকেই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে এবং নিজেদেরকে কোয়ারেন্টাইন রাখতে মানুষ বেশি করে কেনাকাটা শুরু করে। ফলে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। সে সময় বাজারে অন্যান্য সময় ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজি হওয়া সরু চাল একলাফে দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। যে চালের দাম গত নভেম্বরেও ৪৬ টাকার আশপাশে ছিল। তখন মাঝারি বিআর আটাশ ও সমজাতীয় চালের দাম বেড়ে ৫০ থেকে ৫৪ টাকায় উঠেছিল। ৩২ থেকে ৩৪ টাকায় বিক্রি হওয়া মোটা চাল দাম বেড়ে উঠে যায় ৪০ থেকে ৪২ টাকায়।

তবে এখন নতুন চাল উঠায় খুচরা বাজারের তুলনায় মিল পর্যায়ে ও পাইকারি বাজারে দাম বেশি কমেছে। আশা করা যায় আগামী সপ্তাহের মধ্যেই খুচরা বাজারে দাম কবে আসবে। রাজধানীর মিরপুর ১ নাম্বার চালের আড়তে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, নতুন মিনিকেট চাল ৪৯ থেকে ৫২ টাকা, পুরনো মিনিকেট ৫৩ থেকে ৫৫ টাকা ও বিআর আটাশ ৪০ থেকে ৪২ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

জানতে চাইলে মিরপুর-১ নম্বরের চাল ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, মানুষ আগে থেকেই অনেক চাল কিনে রেখেছে। নতুন চাল এসে গেছে। চাহিদাও তেমন নেই। তাই দাম কমছে। বাজারে চাহিদা বেশি হওয়ায় এবং সরকারি বেসরকারিভাবে ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করায় মোটা চালের দাম অবশ্য কমেনি। পাইকারি বাজারে মোটা চালের কেজি ৩৮ থেকে ৪০ টাকায়।

এদিকে বাজারে গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, ছোলা ও চিনির দাম কমেছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম কমেছে ৮ থেকে ১০ টাকা। গত সপ্তাহে যে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। তাই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। এদিকে প্রতি কেজি রসুনের দাম কমেছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। গত সপ্তাহে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ার রসুন বিক্রি হচ্ছে বর্তমানে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়। এছাড়া আমদানি করা চীনা আদা ২০০ থেকে ১৬০ টাকায় নেমেছে। গত ১৫ দিনে আদার দাম অবশ্য কেজিতে প্রায় ২০০ টাকা কমেছে।

এছাড়া বাজারে প্রতি কেজি ছোলা ৫ টাকা কমে ৭০ ও ৭৫ টাকা হয়েছে। ৭০ টাকা কেজির চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৩ থেকে ৫ টাকা কমে ৯০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। দুটি কোম্পানির বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমেছে। তাদের এক লিটারের বোতলের দাম এখন ১০৫ টাকা।

এ সপ্তাহে আবার সবজির দাম বেশ চড়া। মিরপুর-১ নম্বর সেকশনের পাইকারি বাজারে ভালো মানের লম্বা বেগুন ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ১০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের ভ্যানে করে বিভিন্ন সবজি ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা যায়।

এদিকে এ সপ্তাহে বাজারে কমেছে মুরগির দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১২০ টাকার আশপাশে ও কক মুরগি ২২০ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। অবশ্য দেশি মুরগি ও গরুর মাংসের দাম চড়া। প্রতি কেজি দেশি মুরগি ৫০০ টাকা ও গরুর মাংস ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা।

অর্থসূচক/এমআরএম/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ