করোনায় বিপাকে পিপলস লিজিংয়ের আমানতকারীরা
মঙ্গলবার, ২রা জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনায় বিপাকে পিপলস লিজিংয়ের আমানতকারীরা

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে থমকে পড়েছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। বন্ধ হয়ে গেছে বেশিরভাগ পণ্যের আমদানি-রপ্তানি। ফলে মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলায় বাংলাদেশসহ প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছে আরও অনেক দেশ। বৃহৎ ও ক্ষুদ্র শিল্প, রপ্তানিমুখী শিল্প, পোশাক খাত, মাঝারি উদ্যোক্তা ও কৃষি খাতকে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতা করছে সরকার। তবে কোন ধরনের সহায়তা না পেয়ে রীতিমতো বিপাকে পড়েছেন পিপলস লিজিংয়ের আমানতকারীরা। অবসায়ন ঘোষণার পর অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে টাকা হারিয়ে আমানতকারীরা দিশেহারা হয়ে ঘুরছেন। চলমান ক্রান্তিকালে প্রণোদনার মাধ্যমে হলেও সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুকে’ ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে আমানতকারীরা বলেন, ‘আপনি প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা দেশের মানুষের কল্যাণে প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়ে জনগণের বাঁচার প্রেরণা দিয়েছেন। সেখানে আমাদের আমানতকারীদের আমানত অতি সামান্য। এমতাবস্থায় আপনিই আমাদের বাঁচাতে পারেন আমাদের আমানতকৃত অর্থ ফিরে পাবার একটা সুব্যবস্থা করে। আপনি অত্যন্ত দয়াবান ও অসহায়ের সহায়। করোনা মহামারির এই পরম ক্রান্তিলগ্নে আপনি দুর্গত সবাইকে সাহায্য করছেন; একইভাবে দয়া করে আমাদের দিকেও যদি আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। তাই আপনার কাছে মিনতি, আমাদের বাঁচাতে সাহায্য করুন।’

এর আগে আমানত ফিরে পেতে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সাথেও দেখা করেছেন আমানতকারীরা। তাৎক্ষণিকভাবে আমানত ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিলেও এখনও কোনো ব্যবস্থা হয়নি। তাই আদৌ টাকা ফেরত পাবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন পিপলসের প্রায় ৬ হাজার ব্যক্তি আমানতকারী।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পিপলস লিজিংয়ের গত ৫ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে একনাবিন চার্টার্ড একাউন্টেন্ট। সেই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে হাইকোর্টে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে হাইকোর্ট থেকে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর লুটপাটের অভিযোগে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (পিএলএফএসএল)-কে অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বছরের (২০১৯) ২১ মে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থমন্ত্রণালয়ে পিপলস লিজিংয়ের অবসায়নের আবেদন করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৬ জুন অর্থমন্ত্রণালয় তা অনুমোদন দেয়। ১০ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক অবসায়নের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে। এছাড়া অনিয়মের দায়ে বহিষ্কার করা হয় প্রতিষ্ঠানের নয় পরিচালককে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযোগ, বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ৫৭০ কোটি টাকা বের করে নেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকরা।

প্রসঙ্গত, প্রতিষ্ঠানটি অবসায়নের পর এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায় পিপলস লিজিং-এর মোট আমানত ২ হাজার ৩৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে। বাকি ৭শ কোটি টাকা ৬ হাজার ব্যক্তি শ্রেণির আমানত। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৪৮ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের বড় অংশই নিয়েছেন কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকরা। ধারাবাহিকভাবে লোকসানের কারণে ২০১৪ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি লভ্যাংশ দিতে পারছিল না।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ২৪ নভেম্বর পিপলস লিজিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনুমোদন পায়। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ