দেশের সার্বিক উন্নয়নে সবচেয়ে বড় ভূমিকা প্রবাসীদের
রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

দেশের সার্বিক উন্নয়নে সবচেয়ে বড় ভূমিকা প্রবাসীদের

Ovibashi-Dibosh_1বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রবাসীরা সবচেয়ে বড় ভুমিকা রাখছেন। প্রায় ১কোটি প্রবাসী দেশের ৩-৪ কোটি মানুষের জীবিকা নির্বাহসহ জীবন-মানের সাথে জড়িত। তবে দেশের ভাবমূর্তি বিশ্বের সামনে টিকিয়ে রাখতে প্রবাসী শ্রমিকদের সতর্ক হওয়া দরকার বলে মনে করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব অভিবাসী দিবস উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমদ বক্তৃতা করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সচিব ও উপ-সচিবসহ সরকারি বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, অভিবাসী কর্মীদের মর্যাদা ও অধিকার সমুন্নত রাখার প্রয়াসে বিশ্বের ১৫৭টি দেশে বাংলাদেশের ৯০ লক্ষাধিক কর্মী কর্মরত আছেন। প্রতিবছর প্রায় ৬ লাখ কর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান হচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে অভিবাসী কর্মীরা যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, সে অনবদ্য অবদানকে মূল্যায়ন করাই এ দিবসের উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে তাদের পাঠানো রেমিটেন্সের কোনো বিকল্প নেই।

জনশক্তি রপ্তানিতে সরকারের সফলতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন,গত পাঁচ বছরে ২৪ লাখ শ্রমিক প্রেরণ করা হয়েছে। সরকার ১০৫টি থেকে বর্তমানে ১৫৭টি দেশে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি করার ব্যবস্থা করেছে। সরকারের প্রচেষ্টার ফলে মালয়েশিয়া সরকার ২ লাখ ৬৭ হাজার এবং সৌদিতে সাত লাখ শ্রমিককে বৈধতা দিয়েছে। মালয়েশিয়া সরকারের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করার মাধ্যমে কম খরচে শ্রমিক পাঠাতে সক্ষম হয়েছি। দক্ষ শ্রমিক প্রেরণের জন্য বাংলাদেশের সকল জেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য বৈদেশিক রেমিটেন্সের কোনো বিকল্প নেই। দেশের সার্বিক উন্নয়নে ও বেকারত্ব রোধে অভিবাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শ্রম অভিবাসীদের গমন খরচ কমালে এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো দায়িত্ব নিয়ে সতর্ক ও সততার সাথে কাজ করলে অভিবাসনের হার আরও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বর্তমানে একটা সময়ে অবস্থান করছি যেখানে আমাদের সামনে সহস্রাব্দ উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা ২০১৫ চ্যালেঞ্জ করছে। আমাদেরকে এ চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন করতে হলে এ বিরাট সংখ্যক জনসংখ্যার উল্লেখ্য যোগ্য অংশ দেশের বাহিরে গিয়ে রেমিটেন্স পাঠাতে হবে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমেদ বলেন, আমরা পৃথিবীর সকল দেশেই জনশক্তি রপ্তানির ব্যবস্থা করেছি। তবে বাংলাদেশের শ্রমিকরা উন্নত দেশগুলোতে গিয়ে হয়রানির শিকার হন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সকল দেশের অ্যাম্বাসির সাথে যোগাযোগ করলে এবং সেখানে বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য তথ্য কেন্দ্র খুললে এ সমস্যা থাকবে না। দেশ থেকে আরও অনেক অভিবাসী যেতে আগ্রহী হবে।

আলোচনা সভা শেষে মন্ত্রীরা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে দুই ব্যাপি অভিবাসী মেলা ঘুরে দেখেন এবং বেশি বেশি শ্রমিক প্রেরণে ব্যাংকগুলোকে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার পরামর্শ দেন।

 

এইউ নয়ন/এআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ