করোনা থেকে বাঁচতে যেসব বনৌষধি খাবেন
সোমবার, ১লা জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনা থেকে বাঁচতে যেসব বনৌষধি খাবেন

মহামারি করোনা রোধে আমরা মেনে নিয়েছি গৃহবন্দিত্ব। তবে করোনা সংক্রমণ এড়াতে এর পাশাপাশি নিজেদের সব সময় পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। সুষম খাবার গ্রহণের মাধ্যমে বাড়াতে হবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও। কেননা চিকিৎসকেরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে আমাদের শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলাটাই সবচেয়ে জরুরি। তাতে আমাদের শরীর যে কোনও ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সংক্রমণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিরোধ করবে। কিছু বনৌষধিও আমাদের শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে বলে গবেষণায় জানা গেছে। আজ এমন কিছু বনৌষধি সম্পর্কে জেনে নেব।

রসুন: রান্নার কাজে রসুন একটি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। আমাদের অনেক রকমের শারীরিক সমস্যা থেকে দূরে রাখে এটি। এর উপকারিতা সন্দেহাতীত বলেন বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকরা। এটি নিয়মিত গ্রহণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। রসুন অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যাকটেরিয়া বিনাশী এবং প্রদাহ প্রতিরোধী বনৌষধি।

আদা: আদাও ভীষণ উপকারী। এতে বিদ্যমান উপাদান আমাদের রক্তের শ্বেতকণিকার সংখ্যা বাড়ায়। আর শ্বেতকণিকাই আমাদের শরীরে ঢুকে পড়া ভাইরাস আর ব্যাকটেরিয়াদের মারে। আদা মেশানো চা খুব উপকারী। লবণ দিয়ে কাঁচা আদা খাওয়াও খুব ভাল।

গুলঞ্চ: গুলঞ্চের উপকারী গুণের কারণে আয়ুর্বেদের বিভিন্ন ওষুধে গুলঞ্চের ব্যবহার প্রচলিত আছে। এগুলো আমাদের শরীরের বিষকে বের করে দিতে সাহায্য করে। রক্ত শোধন করে। খারাপ ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিরোধ করে। চিকিৎসকেরা বলছেন, গুলঞ্চ খেলে আমাদের হজম ও প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে। স্বাস্থ্য ভাল থাকে। গ্লাসে ১৫ থেকে ৩০ মিলিমিটারের মতো গুলঞ্চের রস নিয়ে রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে খাওয়া উচিত।

মেথি: আমাদের দেশে এটি মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হলেও এটি খাওয়া খুব উপকারী। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এতে প্রচুর পরিমাণে থাকে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যেগুলো আমাদের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। আমাদের প্রদাহ কমায়। প্রদাহ ঠেকানোর জন্য দেহে যে ব্যবস্থা রয়েছে, তাকে সক্রিয় করে তোলে।

কুমড়ার বীজ: এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক, আয়রন এবং ভিটামিন-ই। কুমড়ার বীজ আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি ভাইরাস বিনাশী,পাশাপাশি ছত্রাকজনিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে। কোষের বৃদ্ধিতেও এটি সহায়ক। অনিদ্রাজনিত সমস্যায় খুব উপকারী কুমড়ার বীজ।

সূর্যমুখী বীজ: নানা ধরনের পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ সূর্যমুখী বীজে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। এই বীজে থাকে সেলেনিয়াম, যা কয়েক ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক। ত্বক ভাল রাখতেও সাহায্য করে সূর্যমুখী বীজ। সকালের নাস্তায় সূর্যমুখী বীজ রাখা যেতে পারে।

হলুদ: রান্নাঘরে হলুদ থাকেই। কারকাউমিন হলুদের প্রধান যৌগ। যা আমাদের দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই বাড়িয়ে তোলে। রক্তের শ্বেত কণিকার সংখ্যাও বাড়ায় এটি। যা ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস মারতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

দারুচিনি: খাবারে দারুচিনি ব্যবহৃত হয় এর নানা ধরনের গুণের জন্য। প্রদাহ ও সংক্রমণ কমিয়ে আনতে এর বড় ভূমিকা রয়েছে। দেহ কোষকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলে দারুচিনি। ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের চিকিৎসাতেও দারুচিনির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য- বলছেন চিকিৎসকেরা। সূত্র: আনন্দবাজার

অর্থসূচক/এসএস/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ