গুদাম সঙ্কটে খাদ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশয়

করোনা সংকট মাথায় রেখে চলতি বছরে প্রায় ২১ লাখ টন খাদ্য সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সরকার। একই সঙ্গে চলতি বোরো মৌসুমে আগের বছরের তুলনায় বেশি ধান, সিদ্ধ ও আতপ চাল এবং গম সংগ্রহ করা হবে। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে গুদামের ধারণক্ষমতা কম হওয়ায় হুমকির মুখে পড়তে পারে সরকারের খাদ্য সংগ্রহ।

খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সারাদেশে খাদ্য অধিদপ্তরের মোট ৫টি সাইলো, ১৩টি সিএসডি এবং ৬৩১টি এলএসডি আছে। এসব খাদ্যগুদামে বর্তমান কার্যকরী ধারণক্ষমতা প্রায় ১৯ দশমিক ৫০ লাখ টন। আর বর্তমানে সরকারের গুদামে ১৭ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে ৬ লাখ টন ধান, সাড়ে ১১ লাখ টন চাল (আতপ ও সিদ্ধ) এবং ৭৫ হাজার টন গম কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৩৬ টাকা কেজি দরে ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল, ৩৫ টাকা কেজি দরে ১ লাখ ৫০ হাজার টন আতপ চাল এবং ২৬ টাকা কেজি দরে ৬ লাখ টন ধান কেনা হবে। কিন্তু পর্যান্ত গুদাম না থাকায় তা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান সংশ্লিষ্টরা।

বোরো ধান আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে এবং চাল ৭ মে থেকে সংগ্রহ শুরু হবে, শেষ হবে ৩১ আগস্ট। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ৭৫ হাজার টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৮ টাকা কেজি দরে এই গম সংগ্রহ করা হবে। ১৫ এপ্রিল শুরু হয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত গম সংগ্রহ চলবে।

গুদামের ধারণক্ষমতা বাড়তে ইতোমধ্যে ধান রাখার জন্য ২০০ সাইলো নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রতিটি সাইলোর ধারণক্ষমতা ৫ হাজার টন। ওই হিসাবে এ সাইলোগুলোতে মোট ১০ লাখ টন ধান সংরক্ষণ করা যাবে। কিন্তু ২০১৯ সালের মে মাসে এ ধানের সাইলো নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হলেও আইনি জটিলতার কারণে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

এ ব্যাপারে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ বলেন, সারাদেশে আগামী ৩ মাসে ওএমএস কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা দরে ৭৪ হাজার টন চাল বিক্রি চলমান রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ত্রাণ কর্মসূচির মাধ্যমে চাল বিতরণ হচ্ছে। তাই গুদামও ফাঁকা হচ্ছে। সরকারের ১৭০টি গুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া পুরনো গুদামগুলো দ্রুত মেরামত করে খাদ্যশস্য রাখার উপযোগী করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এবার বোরোতে ২২ উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকের কাছ থেকে বোরো ধান সংগ্রহ করবে সরকার। খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে অ্যাপে ধান সংগ্রহের উপজেলাগুলো অনুমোদন দিয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত আমন মৌসুমে ৭ বিভাগের ১৬ উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কৃষকের কাছ থেকে অ্যাপের মাধ্যমে ধান কেনা হয়। পরে খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এই বোরো মৌসুমে অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকের কাছ থেকে ৬৪ জেলার একটি করে উপজেলায় ধান ও ১৬ উপজেলায় (অ্যাপে আমন সংগ্রহ করা) মিলারদের কাছ থেকে চাল কেনা হবে। কিন্তু করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে মন্ত্রণালয়।

২২ উপজেলার মধ্যে আগের ১৬টি উপজেলাও রয়েছে। উপজেলাগুলো হলো- গাজীপুর সদর, নরসিংদী সদর, মানিকগঞ্জ সদর, কিশোরগঞ্জ সদর, রাজবাড়ী সদর, টাঙ্গাইল সদর, ময়মনসিংহ সদর, জামালপুর সদর, শেরপুর সদর, ভোলা সদর, নওগাঁ সদর, বগুড়া সদর, রংপুর সদর, দিনাজপুর সদর, ঝিনাইদহ সদর, যশোর সদর, হবিগঞ্জ সদর, মৌলভীবাজার সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও বরিশাল সদর।

খাদ্য অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, কৃষক তথ্য দিয়ে প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করবেন। রেজিস্ট্রেশন অ্যাপ্রুভড হলে তিনি ধান বিক্রির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন ডাটাবেজে জমা হবে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নেতৃত্বে উপজেলা কমিটি আবেদনকারীদের মধ্যে লটারি করবে। লটারির মাধ্যমে যেসব কৃষক নির্বাচিত হয়ে যাবে, তাদের অনলাইনেই বরাদ্দ দিয়ে দেয়া হবে। কৃষক এসব বিষয়ে এসএমএস পাবেন। এছাড়া একটা ওয়েটিং লিস্টও তৈরি করা হবে। নির্বাচিত কোনো কৃষক ধান না দিলে ওয়েটিং লিস্ট থেকে কৃষকদের কাছ থেকে ধান নেয়া হবে।

অর্থসূচক/এমআরএম/এমএস