রমজান সামনে রেখে বেড়েছে সব নিত্যপণ্যের দাম
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

রমজান সামনে রেখে বেড়েছে সব নিত্যপণ্যের দাম

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী শনি বা রোববার (২৫ বা ২৬ এপ্রিল) দেশে সিয়াম সাধনার মাস রমজান শুরু হবে। এদিকে রমজানকে সামনে রেখে চাল থেকে শুরু করে ডাল, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, মরিচ, আদা-রসুন, চিনি এমনকি রমজানে অতি ব্যবহৃত পণ্য ছোলা ও খেজুরের দাম বাড়ানো হয়েছে। রোজার আগে নিত্যপণ্যের এমন দাম বৃদ্ধিতে ক্রেতাদের মধ্যে রীতিমতো ‘নাভিশ্বাস’ উঠেছে।

সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এবারের পবিত্র রমজান মাস নিদারুণ কষ্টের। কারণ একদিকে গত বছরের রোজার তুলনায় এবার প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেক বেশি। অন্যদিকে করোনায় ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা। তাতে শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এদিকে বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও আমদানি স্বাভাবিক থাকার পরও প্রতি বছরের মতো এবারও রমজান ঘিরে ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফার লোভে কারসাজি শুরু করেছে। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে রমজানকে সামনে রেখে দুই মাস ধরে ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে একাধিক পণ্যের দাম।

আজ (২৪ এপ্রিল) সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে প্রতি কেজি মাঝারি আকারের মসুর ডালের দাম বেড়েছে ২৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ। সাত দিনে কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২১ দশমিক ০৫ শতাংশ। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি আদার দাম বেড়েছে ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। রসুনের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ। মাসের ব্যবধানে কেজিতে ছোলার দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। প্রতি কেজি চিনিতে দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। এছাড়া কেজিতে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে খেজুরের দাম।

দাম বাড়ার বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল জব্বার মণ্ডল বলেন, প্রতিদিন বাজার তদারকি করা হচ্ছে। যেসব পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে, তা কোন কারণে বেড়েছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি। কোন ধরনের অনিয়ম পেলে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা পরিস্থিতি ও রমজানে নিত্যপণ্যের দাম ভোক্তা সহনীয় রাখতে সংশ্লিষ্টদের বারবার নজর রাখতে বলেছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক সংস্থা বাজার তদারকিতেও নেমেছে। এরপরও এসব কার্যক্রমকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অসাধুরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে চলছে।

এদিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর-১, শেওড়াপাড়া বাজার ঘুরে এসব পণ্যের কোনও ধরনের সংকট দেখা যায়নি। বরং চাহিদার তুলনায় প্রতিটি দোকানে বেশি মজুদ লক্ষ করা গেছে। অন্যদিকে ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী এসব পণ্যের আমদানি পরিস্থিতিও পর্যাপ্ত বলা হয়েছে। কিন্তু বাজারে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী করোনা পরিস্থিতিতে পরিবহনের অভাবে সরবরাহের ঘাটতির কথা বলে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়েছে।

টিসিবির বাজারদর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ৬৫-৭৫ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৬৫-৭০ টাকা। রসুন বিক্রি হয়েছে ১১০-১৩০ টাকা কেজি। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৮০-১২০ টাকা। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫৫-৬০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ টাকা। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০-৫৫ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৪০-৫০ টাকা। প্রতি কেজি আমদানি করা আদা ৩০০-৩৫০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ২৫০-৩০০ টাকা। এছাড়া বাজারে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হয়েছে ৮০-৮৫ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৭৫-৮০ টাকা।

টিসিবি’র তথ্য মতে, প্রতি কেজি খেজুর বিক্রি হয়েছে ২৫০-৩৫০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ২৫০-৩০০ টাকা। মসুর ডাল (ছোট দানা) বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৪০ টাকা কেজি। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ১২০-১৩০ টাকা।

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা তামিম বলেন, রমজান আসার এক মাস আগ থেকেই বিক্রেতারা একাধিক পণ্যের দাম বাড়াতে শুরু করেছে। তবে সব থেকে এই এক সপ্তাহে বেশি বাড়াচ্ছে। কারণ আর মাত্র কয়েকদিন পর রমজান। প্রতি বছরের মতো এবারও বিক্রেতারা কারসাজি করছে। দেশের এই করোনা পরিস্থিতিতেও তারা অতি মুনাফা করতে ভোক্তার পকেট কাটছে।

একই বাজারের মুদি ব্যবসায়ী সাব্বির বলেন, পাইকাররা সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যার কারণে বেশি দাম দিয়ে এনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে বাজারে যেসব পণ্যের দাম বেড়েছে তার কোন সংকট নেই। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য আছে।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সব ধরনের পণ্য আছে। গত বছরের তুলনায় আমদানিও অনেক ভালো। তবে পরিবহন সংকটের কারণে বেশি ভাড়া দিয়ে পণ্য আনতে হচ্ছে যে কারণে দাম বাড়তি।

খুচরা চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, মোটা আতপ চাল প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ১ হাজার ৯শ’ থেকে ২ হাজার টাকা। গত সপ্তাহে যা ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। মোটা সিদ্ধ চাল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০ থেকে ২ হাজার ১শ’ টাকায়। আগে তা বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৮শ’ টাকায়। স্বর্ণা সিদ্ধ চাল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২৫০ টাকায়। গুটি সিদ্ধ চাল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১৫০ থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪শ’ টাকা। ১ হাজার ৯শ’ টাকা দামের বেতি আতপ চাল এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি বস্তা ৩০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ২শ’ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিনিকেট, জিরাশাইল, পাইজামসহ সব ধরনের চাল বস্তায় সর্বনিম্ন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে রমজানের অত্যাবশ্যকীয় চারটি ভোগ্যপণ্য- ছোলা, ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলের দামও হু-হু করে বেড়ে গেছে। মজুদ করে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার কারণে এমনটি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন। তারা বলছেন, এখনই সরকারের উচিত বাজার তদারকির ব্যবস্থা করা।

মেসার্স এসএম রাইস মিলের মালিক আবুল কালাম জানান, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চালের দাম বাড়ছে। মিল মালিকদের হাতে কোন চাল নেই। যা ছিল দাম বাড়ার আগেই বিক্রি করে দিয়েছে। এখন উত্তরবঙ্গ থেকে এনে বিক্রি করতে হচ্ছে। পরিবহন সংকটের কারণে চালের সরবরাহ কমে গেছে। সংকটের কারণে দাম বেড়েছে।

অন্যদিকে ৩৫ টাকার পেঁয়াজ এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ বেড়ে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সব ধরনের খেজুরের দামও বেড়েছে। খেজুর প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা। ৫০ কেজির প্রতি বস্তা চিড়ার দাম ১৮০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৭০০ টাকা। এই দাম বৃদ্ধির জন্য পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা আবার পরস্পরকেও দুষছেন।

অর্থসূচক/এমআরএম/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ