করোনার ঝুঁকি কমাবে এই খাবারগুলো
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনার ঝুঁকি কমাবে এই খাবারগুলো

যে কোন পরিবেশ ও আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। কেননা এতে শরীর প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকার পাশাপাশি যে কোন রোগের সংক্রমণ থেকেও নিজেকে সহজেই বাঁচাতে পারবে।

করোনা মহামারির এই ভয়াবহ সময়ে সুস্থ থাকার জন্য শরীরকে প্রস্তুত রাখতে হবে। সুস্থ শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদান হল ভিটামিন, প্রোটিন, মিনারেলস, ফাইবার। যে সকল খাবারে এই গুণগুলো রয়েছে সেগুলো নিয়মিত খেলে শরীর ভেতর থেকে মজবুত ও রোগ প্রতিরোধী হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সকলের ডায়েট-প্ল্যানে এই খাবারগুলো রাখা যেতে পারে। তাতে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে- আশা করা যায়। খুব সহজেই পাওয়া যায় এবং নিত্যদিনের ডায়েটের জন্যও উপযোগী, এমন কয়েকটি খাবার সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

বিনস: মটরশুটি, শিম, বরবটি ইত্যাদি নানা ধরণের বিনস পাওয়া যায় এবং প্রতিটি যথেষ্ট পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। এতে ফাইবার ও প্রোটিন পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। পাশাপাশি এগুলো কম ফ্যাটযুক্ত ও কোলেস্টেরলমুক্ত। এই খাবারগুলো থাকে ফলিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম, আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতন খনিজ উপাদানে ভরপুর। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ৩/৪ কাপ বিনস রাখা আবশ্যক।

ওটস: ওটস গমের তৈরি এক ধরণের খাবার যা সকাল বা সন্ধের জলখাবারে খেয়ে থাকেন। চিকিৎসকদের মতে, ওটসে প্রচুর ফাইবার থাকে যা শরীরের জন্য খুবই উপকারি। এতে রয়েছে অ্যাভিন্যানথ্রামাইড যা ধমনিতে প্রদাহ কমায় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ওটস রান্না করা সহজ, আর তা বিভিন্ন উপায়ে খাওয়া যায়। স্মুদি, মিল্কশেক, পরিজ ,কেক ও কুকি তৈরিতে ব্যবহার করা যায় ওটস। যাদের বয়স ৫০-এর বেশি তারা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ৩ গ্রাম ওটস রাখতে পারেন।

আপেল: আপেলের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। এর প্রাকৃতিক অ্যান্টি অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। বলা হয়ে থাকে, প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার দরকার হয় না। আপেলের বি কমপ্লেক্স ভিটামিন শরীরে লোহিত রক্ত কণিকা সৃষ্টি করে ও শরীরের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। আপেলের ডায়েটরি ফাইবার। রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা কমায়। এর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম,পটাশিয়াম,খনিজ উপাদান ও পানি। এর প্রতিটি উপাদানই শরীরের জন্য খুব উপকারী। কাজেই খাধ্যতালিকায় আপেল রাখুন।

বাদাম: পুষ্টিগুণ এবং শরীরিক উপকারিতায় বাদামের বিকল্প নেই। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ই, ফাইবার, সেলেনিয়াম,ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যামাইনো অ্যাসিড, পটাশিয়াম এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। হৃদরোগ ও স্ট্রোক নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। বাদাম নানা প্রকার হয়-কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম,চীনা বাদাম ইত্যাদি। যে কোন ধরনের বাদামই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

সবুজ শাকসবজি: যথার্থ ও পর্যাপ্ত খাবার গ্রহণ করলেই সুস্থ থাকা সম্ভব। সবুজ শাক সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি, ই, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, বিটা-ক্যারোটিন, অ্যান্টি -অক্সিডেন্ট সহ অনেক উপাদান। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর শাকসবজি রাখা জরুরি।

জাম: জাম খেতে হালকা টক ও মিষ্টি স্বাদের। জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, জিংক, কপার গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফ্রুকটোজ, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ও স্যালিসাইলেটসহ অসংখ্য উপাদান। জামের গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফ্রুকটোজ মানুষের কর্মক্ষমতার যোগান দেয়।

টক দই: দুধ থেকে তৈরি এই খাবারে আছে প্রচুর পরিমান ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি যা হাড় ও দাঁতের গঠনে সহায়ক। নারী ও শিশুদের জন্য টক দই বেশী উপযোগী। অনেকে ওজন কমাতে টক দই খেয়ে থাকেন।

গাজর: গাজর শীতকালীন সবজি হলেও প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। গাজরের উপকারিতা ও পুষ্টিগুনের কারণে গাজরকে বলা হয় সুপার ফুড। কাচা ও রান্না দুভাবেই খাওয়া যায় গাজর। তাই গাজরকে সবজি এবং ফল দুটাই বলা যায়।

ডার্ক চকোলেট: চকলেট বার থেকে শুরু করে চকলেট কেক, চকলেট মিল্ক শেক, চকলেট ব্রাউনি, চকলেট পেস্ট্রি- নাম শুনলেই সকলের জিভে জল চলে আসে। চকলেট শুধু সুস্বাদুই নয়, এর আছে নানা গুণ। গবেষণায় দেখা যায় চিনি ছাড়া ডার্ক চকলেট ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। চকলেটের ফ্লেভানয়েড দেহে নাইট্রিক অক্সাইড উৎপন্ন করে যা দেহের ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

অর্থসূচক/এসএস/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ