লকডাউনে ক্যান্সারের রোগীদের করণীয়
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

লকডাউনে ক্যান্সারের রোগীদের করণীয়

করোনা ভাইরাসের মরণ থাবায় কাঁপছে সমগ্র বিশ্ব। আক্রান্ত আর মৃত্যুর সংখ্যা লাগামহীন বেড়ে যাওয়াতে লকডাউনের পথেই হাঁটছে সব দেশ। আর এই লাগাতার লকডাউনে সমস্যায় পড়েছেন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত অথবা ক্যান্সারের রোগী এবং নিয়মিত কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশন চলছে এমন রোগীরাও। একদিকে করোনার আতঙ্ক, অন্যদিকে নিয়মিত চিকিৎসা করানোর অসুবিধা, ফলে রোগী তো বটেই বাড়ির লোকজনও চিন্তায় পড়ছেন।

তাদের এই সময় হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া উচিত কিনা তা নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মত। প্রথমত, এখন হাসপাতালে পৌঁছনোর সমস্যা অনেক। অন্যদিকে হাসপাতালে গিয়ে কোভিড-১৯-এর সংক্রমণের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। এদিকে ক্যান্সারের মতো ক্রনিক অসুখে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা কমে যায় বলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।

ক্যান্সার রোগীদের দু’ভাগে ভাগ করে নিয়ে চিকিৎসা প্রোটোকল ঠিক করে দেওয়াই লাগাতার লকডাউনে সমস্যায় পড়েছেন ক্যানসার আক্রান্ত এবং নিয়মিত কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন চলছে এমন রোগীরা। এক দিকে করোনার আতঙ্ক, অন্য দিকে নিয়মিত চিকিৎসা করানোর অসুবিধা, এর ফলে রোগী তো বটেই বাড়ির লোকজনও আতান্তরে পড়েছেন।

সুতরাং ক্যানসারের রোগীর স্বাভাবিক চিকিৎসা বন্ধ করা নয়, বরং লকডাউনের সময়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে রোগীকে বিকল্প উপায়ে তাঁর প্রয়োজনীয় কোনও চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ভাল। যারা ক্যান্সার চিকিৎসায় সেরে উঠবেন বলে আশা করা যাচ্ছে এবং যাদের সেরে ওঠার সম্ভাবনা কম হওয়ায় প্যালিয়েটিভ থেরাপি চলছে, তাদের চিকিৎসার ব্যাপারে টিউমার বোর্ড গঠন করে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে বললেন চিকিৎসকরা।

টিউমার বোর্ড গঠন করা হয় মেডিক্যাল অঙ্কোলজিস্ট, সার্জিকাল অঙ্কোলজিস্ট, প্যাথোলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট, নার্স, সাইকোলজিস্ট ও সোশ্যাল ওয়ার্কারদের নিয়ে। কেননা, ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। চিকিৎসা চলাকালীন সময়েও রোগীদের শরীর কমজোরি থাকে। এই সময় অন্যান্য সংক্রমণের পাশাপাশি কোভিড-১৯-এর সংক্রমনের ঝুঁকি বহু গুণ বাড়ে।

তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, নিতান্ত দরকার না পড়লে হাসপাতালে না যাওয়াই ভাল। তবে যেসব ক্যান্সার আক্রান্তের কেমোথেরাপি চলছে এবং সেরে ওঠার সম্ভবনা রয়েছে ক্যান্সার তাদের কিন্তু থেরাপি নিতে হাসপাতালে যেতে হবে। তবে যদি খাওয়ার ওষুধ দিয়ে কেমো দেওয়া সম্ভব হয়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে সেই মতো কেমো নেওয়া যেতে পারে। তখন আর হাসপাতালে যাওয়ার দরকার হবে না। টার্মিনাল স্টেজের ক্যান্সার আক্রান্তদের এমন ওষুধ ও ইঞ্জেকশন দিয়ে বাড়িতে রাখাই ভাল। ৪-৬ সপ্তাহ পর্যন্ত ক্যান্সার রোগীদের এভাবে চিকিৎসা করা যায়।

আবার এখন যদি কেউ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, সক্ষেত্রে টিউমার বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে কীভাবে চিকিৎসা করা উচিত। অনেক ক্ষেত্রেই ক্যান্সার-যুক্ত টিউমারে অস্ত্রোপচার করতেই হয়। কিন্তু করোনার বাড়বাড়ন্তের সময়ে চট করে অস্ত্রোপচারে সায় নেই চিকিৎসকদের। তখন রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপির সাহায্যে টিউমারের বৃদ্ধি ঠেকিয়ে রাখাই এই পরিস্থিতিতে বাঞ্ছনীয়। কোভিড-১৯ ভাইরাসের প্রকোপ কমে গেলে অস্ত্রোপচার অথবা বোন ম্যারো ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশনের সিদ্ধান্ত নেয়া ভাল। তবে যদি কারো ব্রেন টিউমার বা স্পাইনাল কর্ডের ক্যান্সারের কারণে রক্তপাত শুরু হয়, সেক্ষেত্রে রোগীর জীবন বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করতেই হবে।

যাদের রেডিয়েশন নিতে হচ্ছে, তাদের ৪-৬ সপ্তাহ রেডিয়েশন পিছিয়ে দেওয়া যায়। এক্ষেত্রে ২৫টার পরিবর্তে ১২টা রেডিয়েশন দিয়ে রোগ আটকানোর চেষ্টা করা হয়। তবে কোন জরুরি অবস্থা হলে রোগীকে হাসপাতালে এনে রেডিয়েশন দিতেই হবে। অনেক সময় ব্রেস্ট ক্যান্সার, ওভারিয়ান ক্যান্সার, প্রস্টেট ক্যান্সারে হরমোন ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। নভেল করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কমলে এই ইঞ্জেকশনের ডোজ দেওয়া যেতে পারে। তবে যেকোন জরুরি অবস্থাতেই রোগী ও পরিবারের লোকজনকে হোয়াটসঅ্যাপ ও ফোনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

সুতরাং ক্যান্সারের রোগীর স্বাভাবিক চিকিৎসা বন্ধ করা নয়, বরং লকডাউনের সময়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে রোগীকে বিকল্প উপায়ে তার প্রয়োজনীয় কোন চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

অর্থসূচক/এনএম/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ