রবির শেয়ার ছেড়ে দিচ্ছে জাপানের ডোকোমো
বুধবার, ২৭শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

রবির শেয়ার ছেড়ে দিচ্ছে জাপানের ডোকোমো

পুঁজিবাজারে আসার প্রক্রিয়ায় থাকা রবি আজিয়াটার মালিকানা কাঠামোয় পরিবর্তন আসছে। কোম্পানিটি ছেড়ে যাচ্ছে জাপানের এনটিটি ডকোমো। প্রতিষ্ঠানটির সব শেয়ার কিনে নিচ্ছে কোম্পানির অপর এক শেয়ারহোল্ডার ভারতী এয়ারটেল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।


অর্থসূচকে প্রকাশিত পুঁজিবাজার ও ব্যাংক-বিমার খবর গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো এখন নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে আমাদের ফেসবুক গ্রুপ Sharebazaar-News & Analysis এ। প্রিয় পাঠক,গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।


জানা গেছে,দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম টেলিফোন অপারেটর রবি আজিয়াটায় ডোকোমোর ৬ দশমিক ৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। এর পুরোটাই বিক্রি করে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে ডকোমোর ছেড়ে দেওয়া সব শেয়ার কিনে নিচ্ছে কিনে নিচ্ছে ভারতের মোবাইল ফোন অপারেটর ভারতী এয়ারটেল। এরই মধ্যে বিষয়টির জন্য অনুমোদন দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সংস্থাটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে ফাইল পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

ডোকোমোর শেয়ার কিনে নেওয়ার ফলে রবিতে ভারতী এয়ারটেলের শেয়ার হবে ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ। অবশিষ্ট ৬৮ দশমিক ৭০ শতাংশের মালিকানা থাকছে মালয়েশিয়ান কোম্পানি রবি আজিয়াটার হাতেই।

এনটিটি ডকোমো কেন রবিকে ছেড়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে ডকোমার ব্যবসায়িক পরিকল্পনা মিলছে না। কারণ বাংলাদেশে ঘন ঘন নীতিমালার পরিবর্তন ঘটছে। আর নিয়ন্ত্রক সংস্থাও ব্যবসায় সহযোগিতার পরিবর্তে নানাভাবে বাধার সৃষ্টি করছে। এ ধরনের পরিবেশের সঙ্গে জাপানিরা কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না।

সূত্রটি বলছে, ২০০৮ সালে ডকোমো যখন বাংলাদেশে আসে, তখন টেলিকম ব্যবসায় অনেক সম্ভাবনা দেখেছিল। কিন্তু পরে সেই সম্ভাবনা ফিকে হয়ে আসতে থাকতে। এই সেক্টরে মধ্যবর্তী কিছু প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া যায়। যার ফলে রেভেনিউর একটি অংশ চলে যেতে থাকে ওইসব প্রতিষ্ঠানে। বর্তমানে একটি টেলিফোন অপারেটরের রাজস্বের (ভয়েস কল, ডাটা, ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস ইত্যাদি বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ)  ৫১ শতাংশ ট্যাক্স-ভ্যাট হিসেবে সরকারের কোষাগারে চলে যায়। আরও ১৭ শতাংশ যায় মধ্যবর্তী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে। বাকী অর্থ দিয়ে টিকে থাকা বেশ কঠিন। এর মধ্যেই অনেক আগে নিষ্পত্তি হয়ে থাকা ইস্যু নিয়ে (বিটিআরসির রাজস্ব প্রাপ্তির দাবি) টানা হেঁচড়া শুরু হয়েছে। এতে জাপানি কোম্পানি ডকোমো হতাশ হয়েই বাংলাদেশ ছাড়ছে।

উল্লেখ, কশলগত বিনিয়োগকারী (Strategic Investor) হিসেবে ডোকোমো ২০০৮ সালে রবিতে বিনিয়োগ করে। সে সময়ে তারা একটেলের (রবির আগের নাম) ৩০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে। ২০১৩ সালে জাপানের ডোকোমো তাদের শেয়ার ৮ শতাংশে নামিয়ে আনে। কিন্তু ২০১৬ সালে রবি ও এয়ারটেল একীভূত হলে মূল্যায়িত হয়ে এনটিটি ডোকোমোর শেয়ারের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশে। এই শেয়ার ডোকোমো বিক্রি করে দিচ্ছে ভারতী এয়ারটেলের কাছে।

এ বিষয়ে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, রবি আজিয়াটায় এনটিটি ডোকোমোর যে শেয়ার রয়েছে তা ভারতী এয়ারটেলের কাছে ট্রান্সফারের বিষয়ে বিটিআরসি অনুমোদন দিয়েছে বলে আমরা জেনেছি। বর্তমানে তা মন্ত্রণালয়ের (ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ) অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। দেশে চলমান সাধারণ ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

এই বিভাগের আরো সংবাদ