করোনা: বাঁচতে হলে ছাড়তে হবে ধূমপান
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনা: বাঁচতে হলে ছাড়তে হবে ধূমপান

করোনা ভাইরাসের ত্রাসে কাঁপিয়ে দিচ্ছে গোটা বিশ্ব। এই ভাইরাসের কারণে এখন সবাই আতঙ্কিত। এ যেন কোন বাঁধাই মানছে না। দিনকে দিন আক্রান্ত আর মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকা এই ভাইরাস সবার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, সকল বয়সের মানুষের জন্যই এটা বিপদজনক। তবে বয়স্কদের জন্য তো মরণব্যাধি। এছাড়াও যারা ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট বা বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে এর মরণ ছোবল অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।

Smokeএছাড়া ধূমপায়ীদের কথা তো আগেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ধূমপানমুক্ত থাকার জন্য পরামর্শও দিয়েছেন। কারণ ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রেও এটা মরণব্যাধি হতে পারে। এমনকি ধূমপায়ীদের আশেপাশে যারা থাকেন, তাদেরও প্রায় একই রকম বিপদ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বার বার অনুরোধ করছেন এই পরিস্থিতিতে ধূমপান ছেড়ে দিতে। একই আবেদন জানিয়েছেন ‘ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল’।

ধূমপায়ীদের জন্য বিপদ কতটা বেড়েছে, তা উঠে এসেছে বিশ্বব্যাপী কয়েকটি সমীক্ষা ও গবেষণায়। চীনে করোনায় আক্রান্ত মানুষদের মধ্যে ১ হাজার ৯৯ জনকে নিয়ে সমীক্ষা করে, ‘দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন’-এ সেই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, অধূমপায়ীদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ সংখ্যক ধূমপায়ী জটিল অবস্থায় ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন। তাদের কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস চালাতে হয়েছে। তারপরও তাদের বেশির ভাগই মারা গিয়েছেন। ৭৮ জন জটিল করোনা রোগীদের নিয়ে সমীক্ষা করে দেখা গেছে এদের অধিকাংশই ধূমপায়ী।

ইতালির স্বাস্থ্য গবেষণা এজেন্সি জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসে মৃতদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই পুরুষ। এবং তাদের অধিকাংশই ধূমপায়ী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হলে অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীর অবস্থা জটিল হতে পারে প্রায় ১৪ গুণ।

বিপদ ঠেকাতে ‘টোকিও মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’ ও ‘জাপান সোসাইটি ফর টোব্যাকো কন্ট্রোল’ এগিয়ে এসেছেন। টোব্যাকো কন্ট্রলের পক্ষ থেকে সমস্ত অফিস-আদালত ও বহুতল আবাসনের কতৃপক্ষের কাছে ধূমপান কক্ষ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। কারণ এসব জায়গা থেকেই একযোগে বেশ কিছু মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে, যাকে বলে ‘ক্লাস্টার ইনফেকশন’।

ধূমপায়ীদের সংক্রমণ বেশি হওয়ার কারণ:

লাগাতার ধূমপানে ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যায়। কারণ ফুসফুসে ছোট ছোট চুলের মতো দেখতে সিলিয়া থাকে। সাধারণ অবস্থায় এরা ধুলোবালি, জীবাণু, সব কিছুকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচুর ধূমপান করলে তারা অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে। তাই ধূমপায়ীদের মধ্যে যেকোন ধরনের ফুসফুসের সংক্রমণ বেশি হয়। নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, টিবি ইত্যাদির প্রকোপ তাদের মধ্যে বেশি। এই একই কারণে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কাও তাদের বেশি। নিয়মিত ধূমপানে ফুসফুসের কার্যকারিতা কমে যায় বলেও বিপদ হয়।

বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, ধূমপানের কারণে যদি ‘ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ’ বা ‘সিওপিডি’ নামের রোগ হয়ে থাকে, একবার করোনা পজিটিভ হলে তার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। এছাড়া যিনি ধূমপান করছেন, তার শরীরে যদি ভাইরাস থাকে, তিনি যখন ধোঁয়া ছাড়বেন, সেই ধোঁয়ায় ভর করে ভাইরাসও ছড়িয়ে পড়বে আশপাশে। ওই অ্যারোসল বা বাতাসবাহীত লালার কণায় ভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে তিন ঘণ্টা। কাজেই বদ্ধ ঘরে কাছাকাছি বসে ধূমপান করলে অন্যের মধ্যেও ছড়াবে ভাইরাস।

এখন উপায় একটাই। ধূমপান ছেড়ে দেওয়া। কিন্তু দীর্ঘদিন ধূমপান করলে এর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতা জন্মায়। হঠাৎ ছেড়ে দিলে যেসব উইথড্রয়াল সিম্পটম হয়, তা সামলাতে পারেন না অনেকেই। তাই বিপদ এড়াতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেমন- ধূমপান ছাড়তে চাইলে আগে ধূমপান কমান। আগে যদি ২০টা খেতেন, এখন তবে ১০টা খাওয়ার চেষ্টা করুন। সবচেয়ে ভাল হয়, যদি দিনে ৫টায় নামিয়ে আনতে পারেন। বা আরও নীচে। এবার কমাতে কমাতে দিন তিন-চারেকে একেবারে ছেড়ে দিন।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ধূমপানে করোনার আশঙ্কা বাড়ার অন্যতম কারণ হল ‘হ্যান্ড হাইজিন’ বজায় রাখতে না পারা। ধূমপান করার সময়ও মানুষ কিন্তু অসংখ্য বার নাকে-মুখে হাত দেন, একটু আগেই হয়তো সেই হাতে সিগারেটের প্যাকেট খুলেছেন, দেশলাই জ্বালিয়েছেন, যা হয়তো খানিক আগেই দোকানি বা অন্য কারও হাতে ছিল। কাজেই এদের কারও হাতে জীবাণু থাকলে তা আপনার হাতে-নাকে ও মুখে লেগেছে। আবার মাস্কের সামনের অংশটা ধরে মাস্ক খুলে সেই হাতে সিগারেট ধরিয়েছেন। সেখানে জীবাণু থাকলে, তাও আপনার হাতে লেগেছে।

উল্লেখ্য, প্রথমত সিগারেট ছেড়ে দিতেই হবে। যতক্ষণ না তা পারছেন, ততক্ষণ সিগারেট, সিগারেটের প্যাকেট, দেশলাই বা লাইটার আদান-প্রদান করবেন না। অর্ধেক খেয়ে অর্ধেক আরেকজনকে দেওয়ার তো কোন প্রশ্নই নেই। হুঁকোও ভাগাভাগি করে খাওয়া চলবে না।

অর্থসূচক/এনএম/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ