'এবার প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ, আগামী বছর আরও কমবে'
শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘এবার প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ, আগামী বছর আরও কমবে’

চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০) দেশে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ২ থেকে ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এর পরের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

আজ রোববার (১২ এপ্রিল) বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

world_bankতবে বিশ্বব্যাংক এও বলেছে, করোনা পরিস্থিতি কতটা দীর্ঘায়িত হবে, এর ওপর নির্ভর করবে প্রবৃদ্ধি কত হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। তবে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ২ থেকে ৩ শতাংশ। পরবর্তী অর্থবছরে (২০২০-২১) প্রবৃদ্ধির পরিমাণ আরও কমতে পারে। এ সময় ১ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আর ২০২১-২২ অর্থবছরে অল্প বেড়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ দশমিক ৮ থেকে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক বলেছে, করোনার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপকভাবে পড়বে। উৎপাদন খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাকের চাহিদা বিশ্বব্যাপী কমে যাবে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ উৎপাদন খাতের পণ্যের চাহিদাও কমবে, যা কর্মসংস্থানে ঝুঁকি তৈরি করবে। দারিদ্র্যকে আরও গভীর করবে। নগর দারিদ্র্য বাড়বে। এ ছাড়া পল্লি এলাকায় গরিবের সংখ্যা বাড়বে।

বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, দেশব্যাপী সবকিছু বন্ধ থাকায় ব্যক্তিপর্যায়ে ভোগ কমে যাবে। এমন অবস্থায় কোভিড-১৯-এর ঝুঁকি কমানো এবং আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতার ঝুঁকি কমাতে অর্থনীতিতে মধ্যমেয়াদি পুনরুদ্ধার কর্মসূচি নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, করোনা মহামারি কতটা দীর্ঘায়িত হবে, এর ওপর নির্ভর করছে অর্থনীতিতে এর প্রভাব। বাংলাদেশ সরকার দ্রুত স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করার সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বাড়িয়েছে। সরকারকে করোনা প্রতিরোধের কাজে সহায়তা করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ১০ কোটি ডলার দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। করোনা নিয়ন্ত্রণে এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

করোনার প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশেই পড়বে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। চলতি বছরে দক্ষিণ এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক, যা চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম। এর আগে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, এবার দক্ষিণ এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে।

বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশের মধ্যে চলতি অর্থবছরে (নিজ নিজ দেশের) চারটি দেশের প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে যাবে। দেশগুলো হলো আফগানিস্তান (মাইনাস ৫ দশমিক ৯ থেকে মাইনাস ৩ দশমিক ৮ শতাংশ), মালদ্বীপ (মাইনাস ১৩ শতাংশ থেকে মাইনাস সাড়ে ৮ শতাংশ), পাকিস্তান (মাইনাস ২ দশমিক ২ শতাংশ থেকে মাইনাস ১ দশমিক ৩ শতাংশ) ও শ্রীলঙ্কা (মাইনাস ৩ শতাংশ থেকে মাইনাস দশমিক ৫ শতাংশ)।

চলতি অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। এ ছাড়া নেপালে ১ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ভুটানে ২ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ