করোনায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের হিড়িক চলছে
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের হিড়িক চলছে

বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা নোবেল করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশ্বের প্রায় সব দেশের অর্থনীতি। যার থেকে রেহাই পায়নি বাংলাদেশও। এই করোনা ভাইরাসের ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত পোশাক শিল্পে। অধিকাংশ পোশাক কারখানার অর্ডার বাতিল স্থগিত হয়ে গেছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করা শ্রমিকদের বেতন দেওয়া নিয়ে সংকটে পড়েছে কারখানাগুলো। এক্ষেত্রে সংকট কাটিয়ে উঠতে পোশাক কারখানাগুলোর জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে জাতি এই সংকটের মুহূর্তে কোন শ্রমিক ছাটাই করা না হয়। তারপরও বন্ধ হচ্ছে না পোশাক কারখানাগুলো থেকে শ্রমিক ছাঁটাই।

পোশাক কারখানার মালিকরা গত ১০ থেকে ১২ দিনে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই করেছেন বলে অভিযোগ করেছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (জিটিইউসি)। সংগঠনটি বলছে, সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ও পোশাক খাতের সংগঠনগুলোর শীর্ষ পর্যায় থেকে বারবার শ্রমিক ছাঁটাই না করার আহ্বান জানানো হলেও কারখানার মালিকরা তা মোটেও আমলে নিচ্ছেন না। বরং করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের দেওয়া সাধারণ ছুটির মধ্যে তৈরি পোশাক কারখানাগুলো শ্রমিক ছাঁটাই অব্যাহত রেখেছে। এমনকি ছাঁটাইয়ের সময় অধিকাংশ কারখানা বকেয়া মজুরিও দিচ্ছে না।

কলকারখানা প্রতিষ্ঠান ও পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) এবং বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এই সংকট মুহূর্তে কোনো শ্রমিক ছাঁটাই না করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। এর আগে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে কোনো শ্রমিক ছাঁটাই করা হবে না বলে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বারবার গণমাধ্যমে আশ্বস্ত করেছিলেন। বাংলাদেশ অ্যামপ্লয়ার্স ফেডারেশন থেকেও ছাঁটাই না করার করার অনুরোধ জানানো হয়।

আজ গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, সাধারণ ছুটির সুযোগ নিয়ে গতকাল গাজীপুর ও হেমায়েতপুরে কয়েকটি কারখানায় দুই হাজারের বেশি শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) তথ্য অনুসারে গত ১০ থেকে ১২ দিনে প্রায় ১৫ হাজার কর্মী ছাঁটাই হয়েছে।

এই শ্রমিক নেত্রী আরও বলেন, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মালিকরা যে হারে শ্রমিক ছাঁটাই করছে এতে শ্রমিকরা মজুরি পাবেন কি না এই নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

আজ শুক্রবার বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, গতকাল ১০টি কারখানা শ্রমিক ছাঁটাই করেছে। এর মধ্যে ব্যাবিলন ক্যাজুয়েল লিমিটেড এক হাজার ৫০০, ভবস অ্যাপারেলস লিমিটেড ২০০, টর্গ ফ্যাশন ৪০০ ও স্প্যার্টান গার্মেন্টস ২১০ জন শ্রমিক ছাঁটাই করেছে। তবে এসব কারখানার বেশির ভাগ শ্রমিককে মজুরি দিয়ে আইডি কার্ড রেখে চলে যেতে বলে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

এই শ্রমিক নেতা জানান, যেসব গার্মেন্টস শ্রমিকের চাকরির মেয়াদ এক বছর হয়নি বা যারা বেশি বয়স্ক হয়ে গেছে তাদেরকে কারখানাগুলো ছাঁটাই করে দিচ্ছে। যাদের চাকরির মেয়াদ কম তাদের চাকরি পার্মানেন্ট না হওয়ায় শুধু বেতন দিয়েই ছাঁটাই করে দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজের পরামর্শক আবু ইউসুফ মোল্লা শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়ে বলেন, পোশাক খাতে বরখাস্ত না করে ছাঁটাই করা হয় বেশি। টার্মিনেশান ক্লজটাও তারা ব্যবহার করেন। তবে ছাঁটাই করার প্রবণতাই বেশি। এতে কম বেনিফিট দিতে হয়। আবার শ্রমিক এটিকে আইনত কোন চ্যালেঞ্জ করতে পারে না। আর এসব তারা আইনজীবীদের পরামর্শেই করে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপত্রের বালাই নেই সেখানে মৌখিক কথাতেই চাকরিচ্যুতি হয়। পোশাক খাতে আজকাল তারা বরখাস্ত করার দরকার পরলে তদন্ত করে। আগের মতো একপাক্ষিক তদন্তও হয় না। কমপ্লায়ান্সের কারণে তাদের এটা করতে হয়।

এদিকে এই সংকটের মুহূর্তে পোশাক শ্রমিকদের ছাঁটাই না করার আহ্বান জানিয়ে বিজিএমইএ পরিচালক রেজোয়ান সেলিম বলেন, আমরা পোশাক কারখানাগুলোকে এই মুহূর্তে শ্রমিকদের ছাঁটাই না করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। আমার জানামতে যেসব কারখানার শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে আমরা তাদেরকে অনুরোধ করছি না করার জন্য। কোন কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই করা হলে শ্রমিক নেতারা যদি আমাদেরকে বিষয়টি অবহিত করে তাহলে আমরা তাদেরকে এই মুহূর্তে ছাঁটাই না করার জন্য কারখানা মালিকদের বলবো।

জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, পোশাক কারখানার মালিকরা শ্রম আইন মেনে কারখানা লে অফ করতে পারে। এ ছাড়া প্রয়োজনে ন্যায্য মজুরি দিয়ে শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারে। তবে আমরা অনুরোধ করেছিলাম, এমন মানবিক বিপর্যয়ের সময় যেন কোন কর্মী এই মুহূর্তে ছাঁটাই করা না হয়। বর্তমানে প্রায় সব কারখানা বন্ধ। ৪০টি কারখানায় কাজ চলছে, যারা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করছে।

অর্থসূচক/এমআরএম/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ