লকডাউনের মধ্যে একঘেয়েমি দূর করার উপায়
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

লকডাউনের মধ্যে একঘেয়েমি দূর করার উপায়

সমগ্র বিশ্ব এখন করোনা ভাইরাসের দখলে। গভীর সঙ্কটের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে মানবসভ্যতা। এখন পর্যন্ত বিশ্বে নোভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ লাখেরও বেশি এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৯৫ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়েই চলেছে। এর প্রতিকারে গোটা বিশ্ব এখন লকডাউনে। ঘরে বসে দমবন্ধ হয়ে আসছে মানুষের, পাশাপাশি দেখা দিচ্ছে নানা মানসিক সমস্যাও। এর সমাধান নিয়ে কথা বললেন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম। চলুন তবে জেনে নেই:

ডা. তাজুল ইসলাম বলেন, লকডাউনের ফলে সবাই গৃহবন্দী। সারাদিন ঘরে বসে থেকে সকলের দমবন্ধ করা অবস্থা। তার মধ্যেও নানাভাবে নিজেকে ব্যস্ত রাখার মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করা যেতে পারে। বাড়ির দৈনন্দিন যেসব কাজকর্ম- যেমন ধরুন রান্না করা, ঘর মোছা, বাসন মাজা, কাপড় কাচা রয়েছে সেগুলো পরিবারের সকল সদস্য মিলেমিশে যদি করা হয়, তাহলে কারও কষ্ট হবে না আবার একসঙ্গে কাজ করার মধ্য দিয়ে পারিবারিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।

তিনি বলেন, প্রতিদিন শরীরচর্চা করা একটি অন্যতম প্রধান সু-অভ্যাস। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, সময় না থাকার অজুহাতে, বেশির ভাগ মানুষই শরীরচর্চা করেন না। এখন অফুরন্ত সময়ে, প্রতিদিন শরীর চর্চা করুন। এটা শরীরচর্চার সু-অভ্যাস শুরু করার যেমন সুবর্ণ সুযোগ ঠিক তেমনই শরীরচর্চার মধ্য দিয়ে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা আপনাকে নোভেল করেনা ভাইরাসের হাত থেকেও রক্ষা করবে। ফুরন্ত অবসর সময়ের কারণে, স্মার্টফোন আপনাকে আকর্ষণ করবে। কিন্তু খুব সাবধান। এই সময় ইন্টারনেট অ্যাডিকশন ডিজঅর্ডার-এ আপনি আসক্ত হয়ে যেতে পারেন। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ফলে মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ার নানা রকম গুজবে আপনি আতঙ্কিত হতে পারেন। সে জন্য মোবাইলের সীমিত ব্যবহারই এই সময় শ্রেয়। তবে পরিবেশের সাথে আপটুডেট থাকার জন্য, সংবাদ পত্র পড়ুন অথবা টিভিতে সংবাদ দেখতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, এই সময় নিজের পছন্দমত বই (বিভিন্ন ধরনের গল্পের বই অথবা কবিতার বই) পড়ে ফেলতে পারেন, পুরনো দিনের গান শুনতে পারেন, পুরনো সিনেমা দেখতে পারেন। এই অবসরে নিজের শিল্পীসত্তাকে (যা দৈনন্দিন কাজের চাপে নষ্ট হয়ে গেছিল) একটু অক্সিজেন দিতে পারেন। যেমন গান করা, আবৃত্তি করা, ছবি আঁকা, বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র (গিটার, তবলা) বাজানো, কবিতা অথবা গল্প লেখা অথবা যে কোনো সৃজনশীল কাজ করা যেতে পারে। এতে নিজের মন ভাল থাকবে এবং করোনা আতঙ্ক থেকে খানিকটা রেহাই পাওয়া যাবে।

এই মানসিক বিশেষজ্ঞ বলেন, বাড়িতে যদি কারও কোন পোষ্য প্রাণী থাকে (কুকুর, বেড়াল, রঙিন মাছ) তবে এই সময় তাদের পরিচর্যা করা যেতে পারে। সবশেষে বলি, পরিবারের সবাই মিলে বসে গল্পের মাধ্যমে সময় কাটান। দেখবেন মন অনেক হালকা হবে।

অর্থসূচক/এনএম/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ