কোয়ারেন্টিনে রাখা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৬
শনিবার, ৬ই জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

কোয়ারেন্টিনে রাখা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৬

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ২৭ ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে রাখাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর হামলায় বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ ছয়জন আহত হয়েছেন।

ফাইল ফটো

গতকাল (৯ এপ্রিল) রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাটাপিটানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে একটি ভাড়া করা ট্রলারে করে বলদিয়া ইউনিয়নসহ পাশের কয়েকটি এলাকায় ২৭ জন লোক আসেন। এ খবর পেয়ে নেছারাবাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন বাবু ওই লোকদের কোনও একটি বিদ্যালয়ে কোয়ারেন্টিনে রাখার জন্য বলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদকে নির্দেশ দেন।

বলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহিন আহমেদ ও নেছারাবাদ থানার উপপরিদর্শক আল মামুনসহ একদল পুলিশ কাটাপিটানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারে কোয়ারেন্টিনে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই এলাকায় যান। কিন্তু সরকারি এ সিদ্ধান্ত মানতে আপত্তি জানায় বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিটানিয়া গ্রামের লোকরা। পরে ওই এলাকার ইউপি সদস্য সুখলাল ঢালী ও রনজিৎ বেপারীর নেতৃত্বে স্থানীয়রা তাদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় ওই এলাকার কয়েকশ মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে চেয়ারম্যান ও পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও লাঠিচার্জ করে। এ সময় চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ, স্থানীয় সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা, পুলিশের এসআই তাজেল, এসআই আল মামুন, ইউপি সদস্য মো. সুমন ও চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক মাসুম বিল্লাহ হামলার শিকার হন। আহতদের স্বরূপকাঠি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে আগতদের বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ট্রলারে বসিয়ে রাখে।

এ বিষয় স্বরূপকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু কিছু না বুঝেই কাটাপিটানিয়া গ্রামের মানুষকে উত্তেজিত করে এ হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন বাবু বলেন, ‘গত কয়দিনে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ট্রলারে করে বহু লোক বাড়িতে পালিয়ে আসছে। এ কারণে লোকগুলোকে একটি নিরাপদ দূরত্বে কোয়ারেন্টিনে রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু তারা এ সিদ্ধান্তকে না মেনে সরকারি কাজে বাধা দেয় এবং ইউপি চেয়ারম্যান, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ ছয় জনকে আহত করে।’

অর্থসূচক/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ