করোনায় নষ্ট হতে পারে 'ঘ্রাণশক্তি'
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনায় নষ্ট হতে পারে ‘ঘ্রাণশক্তি’

করোনা ভাইরাসের দখলে সমগ্র বিশ্ব। সংক্রমণ লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে। চিকিৎসকরাও রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাস রুখে দেয়ারও ওষুধের খোঁজ দিতে পারেনি কোন বিশেষজ্ঞ।

চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মতে এই করোনা ভাইরাস একেক সময় নতুন নতুন চরিত্র নিয়ে হাজির হচ্ছে একেক জনের শরীরে। বুঝা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন উপসর্গ দেখা দিচ্ছে মানুষের শরীরে। এরকম কিছু তথ্য ওঠে এসেছে ভারতীয় আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে। চলুন তবে জেনে নেই-

আপনার জ্বর হয়নি। সর্দিও হয়নি। হাঁচি, কাশিও তেমন নেই। শুধুই ঘ্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন হঠাৎ। কোন কিছুরই গন্ধ অনুভব করতে পারছেন না। এ বার এমন উপসর্গ দেখা গেলেও করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় আগেভাগে সতর্ক হওয়া উচিত। সরাসরি না হলেও, ভয়ঙ্কর কোভিড-১৯ ভাইরাস আমাদের ঘ্রাণশক্তিকে নষ্ট করে দেয় পরোক্ষভাবে। ভারতের দিল্লি ‘ইন্দ্রপ্রস্থ ইনস্টিটিউট অফ ইনফর্মেশন টেকনোলজি’-র একটি সাম্প্রতিক গবেষণা এই দাবি করেছে।

ফলে নোভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে হঠাৎ ঘ্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলা। মাসখানেক আগে ব্রিটেনের চিকিৎসকদের একটি গবেষণাও এমন দাবি করেছিল। গবেষণাপত্রটি অবশ্য এখনও কোনও আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নালে প্রকাশিত হয়নি। অন্য বিজ্ঞানীরা গবেষণার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন।

গবেষকরা জানিয়েছেন, কোভিড-১৯ ভাইরাস আমাদের মস্তিষ্কের নিউরনগুলোর কোন ক্ষতি করে না। কিন্তু আমাদের নাসারন্ধ্রের উপরের স্তরে থাকা এক ধরনের কোষের ক্ষতি করে। এই কোষগুলোকে বলা হয়, ‘সাসটেনটাকুলার কোষ’ এবং ‘ব্যাসাল কোষ’। এই ব্যাসাল কোষগুলো নাসারন্ধ্রের উপরের স্তরে সাজানো থাকে সমান্তরালভাবে। নাসারন্ধ্রের এই দু’ধরনের কোষের জন্যই যে আমরা কোনকিছুর ঘ্রাণ নিতে পারি, তা কিন্তু নয়। এই দুই ধরনের কোষ আমাদের ঘ্রাণশক্তির সহায়ক। যে কোষগুলোর জন্য আমরা বিভিন্ন জিনিসের ঘ্রাণ নিতে পারি, এই দুই ধরনের কোষ তাদের সাহায্য করে।​

গবেষকরা দেখেছেন, হঠাৎ ঘ্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলার ৫ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলোর দেখা মিলতে শুরু করে। তখন জ্বর আসে, কফ খুব শুকনো হয়ে যায়। শুরু হয় শ্বাসকষ্টও।

এই গবেষণা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ‘কাউন্সিল ফর সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর)’-এর প্রাক্তন ডিরেক্টর-জেনারেল, মলিকিউলার বায়োলজিস্ট সমীর ব্রহ্মচারী জানিয়েছেন, এর ফলে ঘ্রাণশক্তি হারালেই কেউ নিজেকে আইসোলেশনে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস জানাচ্ছেন, এটা কিছুটা নতুন ধরনের পর্যবেক্ষণ। এর আগে কেউ কেউ ঘ্রাণশক্তি হারালে পরে তাদের কেউ করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন জানা যায়নি। তবে ব্রিটেনের চিকিৎসকদের এই পর্যবেক্ষণ অন্য চিকিৎসকদের আরও সতর্ক হতে সাহায্য করবে। জ্বর, সর্দি, হাঁচি, কাশি না হলেও যারা হঠাৎ ঘ্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন বলে এবার ডাক্তারদের চেম্বারে আসবেন, এখন তাদেরও হোম আইসোলেশনে রাখার কথা ভাবতে পারবেন চিকিৎসকেরা। তাতে সংক্রমণের সম্ভাবনা কমবে।

এর আগে ব্রিটিশ গবেষকরাও জানিয়েছিলেন, ব্রিটেনে হঠাৎ শুধুই ঘ্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলা কয়েকজনের রক্তপরীক্ষায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। তাই এই উপসর্গটিকেও করোনা সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ বলে ধরা যেতে পারে। পরে আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ অটোল্যারিঙ্গোলজির তরফেও মার্কিন মুলুকে এমন পর্যবেক্ষণের কথা জানানো হয়েছে।

চিকিৎসকেরা অবশ্য এও বলছেন, ব্রিটেনের গবেষণা এখনও শেষ হয়নি। করোনা সংক্রমণ শুরুর মাস দুয়েকের মধ্যেই হয়েছে এই পর্যবেক্ষণ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে গেলে আরও তথ্য, আরও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন।

অরিন্দমের কথায়, যারা হঠাৎ ঘ্রাণশক্তি হারিয়েছিলেন প্রাথমিকভাবে তাদের মধ্যে কতজন পরে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন এখনও পর্যন্ত তা জানা যায়নি। তবে এটাও জানা যায়নি যে, ব্রিটেনের যে এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে সেখানে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা কত।

তবে চিকিৎসকদের মতে, এই ঘ্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলার উপসর্গটিকেও করোনা সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ বলে ধরে নিয়ে এগোলে আরও সতর্ক হওয়া যাবে। তারা যাতে সংক্রমণ ছড়াতে না পারেন, সে জন্য তাদের হোম আইসোলেশনে রাখার কথা আগেভাগেই ভাবতে পারেন ডাক্তাররা। জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টের মতো অন্য উপসর্গগুলোর জন্য অপেক্ষায় সময় নষ্ট না করে।

অর্থসূচক/এনএম/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ