৪১টি পোশাক কারখানা এখনো খোলা, মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি
বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

৪১টি পোশাক কারখানা এখনো খোলা, মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সদস্যভুক্ত ৪১টি পোশাক কারখানা এখনো খোলা রয়েছে। সব কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে বলে বিজিএমইএ দাবি করলেও শ্রমিক নেতারা বলছেন দু’একটি বাদে বেশিরভাগ কারখানায় মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। যার ফলে শ্রমিকরা শঙ্কা নিয়েই কাজ করছেন।

আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) বিজিএমমইএর পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটি জানায়, সাভারের আশুলিয়া এলাকায় ছয়টি, চট্টগ্রামে ১০টি, গাজীপুরে ২১টি এবং ঢাকা মেট্টপলিটন এলাকায় ৪টি গার্মেন্টস খোলা রয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জে কোন পোশাক কারখানা খোলা নেই বলে জানা গেছে।

পোশাক কারখানা খোলা রাখলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে নেওয়া উচিত বলে মনে করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রমিকরা যেন চার ফুট দূরে দূরে বসে কাজ করতে পারে সে ব্যবস্থা রাখতে হবে। আর যাদের সর্দি-কাশি আছে তারা যেন কাজে যোগ না দেয়। তারা যেন বিশ্রামে থাকে।

যে পোশাক কারখানাগুলো খোলা রয়েছে তাতে কতটা স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে জানতে চাইলে বিজিএমইএ পরিচালক মঈনউদ্দিন রুবেল বলেন, যেসব কারখানা খোলা রাখা হয়েছে সেগুলোতে মাস্ক ও পিপিই তৈরি করা হচ্ছে। আমার জানামতে প্রতিটা কারখানাতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করানো হচ্ছে শ্রমিকদের। যারাই কারখানা খোলা রেখেছেন তারা বিজিএমইএকে জানিয়েই খোলা রেখেছেন। আমাদের পক্ষ থেকেও বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, কয়েকটি কারখানা ছাড়া সবগুলোতেই মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিধি। শুধু যে কয়টা পোশাক কারখানায় মাস্ক এবং পিপিই তৈরি করা হচ্ছে সেখানে কিছুটা স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে। তবে সব পোশাক কারখানায় মাস্ক এবং পিপিই তৈরি করা হচ্ছে না বলে তিনি জানান।

এই সংকটের মুহূর্তে সিরাজুল ইসলাম রনি সবচেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন পোশাক কারখানাগুলোতে শ্রমিক ছাঁটাই নিয়ে। তিনি বলেন, অনেক কারখানায় এই মুহূর্তে শ্রমিকদের ছাঁটাই করে দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যাদের বয়স বেশি বা যারা পোশাক কারখানায় নতুন কাজ শুরু করেছে, তাদেরকে ছাঁটাই করে দেওয়া হচ্ছে। আজকেও অনেক কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, ৬ এপ্রিল বিজিএমইএ ও নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) যৌথভাবে সরকারের ছুটির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে সদস্যভুক্ত যে সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানের জরুরি রপ্তানি আদেশ রয়েছে এবং করোনা ভাইরাস মোকাবেলার উপকরণ মাস্ক এবং পিপিই তৈরি করছে সে সকল প্রতিষ্ঠন প্রয়োজনে খোলা রাখতে পারবে বলে জানায়। তবে সে ক্ষেত্রে স্ব স্ব অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ/বিকেএমইএ), কল কারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং শিল্প পুলিশকে অবহিত করতে হবে।

অর্থসূচক/এমআরএম/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ