বিশ্বজিৎ হত্যায় ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৩ জনের যাবজ্জীবন
বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

বিশ্বজিৎ হত্যায় ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৩ জনের যাবজ্জীবন

bishhojitআলোচিত বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ২১ জনের মধ্যে ৮জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল-৪। ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ বি এম নিজামুল হক এই মামলার রায় দেন। অভিযুক্তদের মধ্যে বাকি ১৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছন আদালত। এছাড়া অভিযুক্তদের প্রত্যেককে  ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বিশ্বজিৎ হত্যামামলার যে আট আসামির মৃত্যুদণ্ড হয়েছে তারা হচ্ছে, রফিকুল ইসলাম শাকিল, মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন, কাইয়ুম মিয়া টিপু, সাইফুল ইসলাম, রাজন তালুকদার ও নুরে আলম লিমন।

আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হল, ইউনুস আলী, ওবায়দুর কাদের তাহসিন, আজিজুর রহমান, আলাউদ্দিন, ইমরান হোসেন, আল-আমিন, রফিকুল ইসলাম, কামরুল হাসান, তারিক বিন জোহর তমাল, মনিরুল হক পাভেল ও মোশাররফ হোসেন, কিবরিয়া ও ।

৯ ডিসেম্বর, ২০১২। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের অবরোধ। পেট অবরোধ মানে না বলেই  নিজের দোকান খুলতে অবরোধ উপেক্ষা করেই বাসা থেকে বেড় হন দরজি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস। হাতের টিফিন কেরিয়ারে ছিল দুপুরের খাবার। কিন্তু সে খাবার আর খাওয়া হয়নি তার, খোলা হয়নি দোকান। নিজের চোখটিও আর খুলতে পারেন নি তিনি। কেননা এই দিনই তাকে নির্মম ভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে, গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে তাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগের সহযোগী ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

হত্যাকাণ্ডের পর অজ্ঞাতনামা ২৫ জনকে আসামি করে সূত্রাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন ওই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জালাল আহমেদ।

সরকারি দলের সংগঠন এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে এর সঠিক বিচার হওয়া নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় সেই সময়। এর পরেই মামলাটি পাঠানো হয় দ্রুত বিচার আদালতে।

প্রসঙ্গত, আসামির তালিকায় থাকা ২১ জনের সবাই আদালতপাড়া সংলগ্ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।পুলিশের তদন্ত চলতে থাকার মধ্যেই গণমাধ্যমে যাদের নাম ও ছবি আসছিল, তাদের একে একে বহিষ্কার করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

হত্যাকাণ্ডের তিন মাসের মধ্যে গত ৫ মার্চ ২১ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক তাজুল ইসলাম। আসামিদের মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন, বাকি ১৩ জন পলাতক।

অভিযোগপত্র গ্রহণের পর মামলা চলমান অবস্থায় বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে সরকারের সিদ্ধান্তে তা গত জুলাই মাসে পাঠানো হয় দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে। দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে গত সেপ্টেম্বর মাসে সাক্ষ্য দিতে দাঁড়ান বিশ্বজিতের বাবা অনন্ত চন্দ্র দাস ও ভাই উত্তম কুমার দাস।

এ হত্যাকাণ্ডের বিচার পেছাতে বিভিন্ন উদ্যোগ ছিল আসামিপক্ষের। এ মামলার কার্যক্রম স্থগিতে ৬ আসামির আবেদন করা হলে তা খারিজ করে হাই কোর্ট।

মামলার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করায় আসামি পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ শাহ আলমকে ১ হাজার টাকা খরচ জমা দিতে নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

এই বিভাগের আরো সংবাদ