বিজিএমইএ'র নির্দেশনা মানছে না অনেক পোশাক কারখানা
বুধবার, ৩রা জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বিজিএমইএ’র নির্দেশনা মানছে না অনেক পোশাক কারখানা

তৈরি পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এর পক্ষ থেকে বারবার কারখানা বন্ধের আহ্বান জানানো হলেও সেই আহ্বান উপেক্ষা করে আজ সোমবারও দেশের প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ পোশাক কারখানা খোলা ছিল। এদিকে কারখানাগুলোতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনাও। তাই চাকরি বাঁচাতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়েও পোশাক কারখানাগুলোতে কাজ করছে শ্রমিকরা।

গত শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে পোশাক কারখানা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু গতকাল রোববার দেখা যায় প্রায় সাড়ে তিনশোর ওপরে কারখানা খোলা রাখা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকালেও বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে আবারো কারখানা বন্ধের আহ্বান জানানো হয় এবং শ্রমিকদেরকে বেতন দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

তবে আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হামিম গ্রুপের মত বড় পোশাক কারখানাসহ দেশে প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ কারখানা খোলা ছিল। এতে খুব শঙ্কার মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চাকরি বাঁচাতে কাজ করছেন শ্রমিকরা। এদিকে শ্রমিক নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায় এসব কারখানায় করোনা প্রতিরোধে যেসব প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়ে খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল সেগুলো মানা হচ্ছে না।

পোশাক কারখানায় কাজ করা শ্রমিকদের সংগঠন গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বলেন, পোশাক মালিকদের সংগঠনের নির্দেশনা না মেনেই খোলা রাখা হচ্ছে কারখানা। শ্রমিকরা চাকরি বাঁচাতে আতঙ্ক নিয়েই কাজ করছেন। এদিকে কারখানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনো নির্দেশনাও মানা হচ্ছে না। কারখানায় প্রবেশের সময় শ্রমিকদেরকে ডিজিটাল মেশিনে পান্স করে কারখানায় ঢুকতে হচ্ছে। এতে করোনা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া কারখানার মধ্যেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা।

গাজীপুরের এক পোশাক কারখানায় কাজ করা জাহাঙ্গীর আলম নামে এক শ্রমিক বলেন, চাকরি বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছি। যদি একবার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যায় তাহলে দেখা যাবে গার্মেন্টস মালিকরা কোনো খোঁজ খবর রাখবে না। এই ভয় নিয়ে আমাদের সবাই কারখানায় কাজ করছে।

একটি শ্রমিক সংগঠনের তথ্যমতে, রোববার অন্তত ৩৮০টি কারখানায় কাজ চলেছে। আর আজকেও প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ পোশাক কারখানা খোলা ছিল। এছাড়া বিজিএমইএ’র এক সূত্রে জানা যায় রোববার ৩৯৭টি কারখানা খোলা ছিল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, যদি গার্মেন্টস খোলা রাখতে হয় তাহলে শ্রমিকরা যেন চার ফিট দূরে দূরে বসে কাজ করতে পারে সে ব্যবস্থা রাখতে হবে। আর যাদের সর্দি-কাশি আছে তারা যেন কাজে যোগ না দেয়। তারা যেন বিশ্রামে থাকে। সবাই যেন স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলে।

যারা গাদাগদি ঢাকায় এসেছে তারা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে মন্তব্য করে ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, এখানে ঝুঁকি আছে। সে জন্য তারা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বজায় রাখবে। আলাদা আলাদা থাকা, যদি কাজে যোগও দেয় তারা যেন চার ফিট দূরে দূরে বসে কাজ করে।

জানতে চাইলে বিজেএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, আমরা এখনও কারখানা বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করছি। একদিনে আমাদের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসার কথা না। আমরা আমাদের সদস্যদের বলছি যথা সময়ে মার্চ মাসের বেতন দেওয়া জন্য। তাদের (কারখানা মালিক) যেকোনো সহায়তা দেওয়ার জন্য আমরা একটি সেল করেছি।

অর্থসূচক/এমআরএম/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ