স্পেনের কান্না থামছেই না
শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

স্পেনের কান্না থামছেই না

মহামারি করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ইউরোপে। আর ইউরোপের দেশ স্পেনে প্রাণহানির মাত্রা যেভাবে বেড়ে চলেছে তাতে দেশটির প্রেসিডেন্টও শঙ্কিত।

স্পেনের অবস্থা এতই ভয়াবহ যে প্রতি ১৫ মিনিটে কফিন ভর্তি একটি লাশ আসছে লা আলমুদেনা সেমেট্রিতে। এই সেমেট্রির ক্যাথলিক ধর্মজাযক ফাদার এদুয়ার সবসময় তৈরি থাকছেন তাদের ধর্মীয় পোশাক পরিধান করে।

শেষ বিদায় জানানোর জন্য প্রতি পরিবার থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন আসতে পারছেন সেমেট্রিতে। শেষ কৃত্যের জন্য এলেও তারা কেউ করোনার আগের নিয়মে পারছেন না প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানাতে। কিছুদিন আগেও যারা প্রিয়জনকে চুমু খেয়ে কবরে শুইয়েছেন তারা এখন কাছেও যেতে পারছেন না। দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মাস্ক আর গ্লাভস পড়ে।

আগে কোনো স্প্যানিশ মারা গেলে শেষকৃত্য করতে যেখানে থাকতো নানা রকমের আয়োজন সেখানে এখন সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট সময় পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে ফাদার এদুয়ার পবিত্র পানি ছিটিয়ে দেন। ঠিক তার পরপরই দুইজন কর্মী লাশের কফিন কবরে নামিয়ে দেন। এইওভাবেই শেষ হয়ে যায় একজন স্প্যানিশের শেষ বিদায়।

ফাদার এদুয়ার বলেন, তার জীবনে তিনি এভাবে কোনো শেষকৃত্য হতে দেখেননি। এত নির্দয়ভাবে একজনের শেষ বিদায় হবে তা তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি বলে জানান তিনি।

স্পেনে এর আগে এমন মৃত্যুর মিছিল দেখা গিয়েছে দুইবার। একবার ঠিক একশত বছর আগের স্প্যানিশ ফ্লু এর সময়। আরেকবার দেখা গিয়েছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে। আর এবার করোনার জন্য এত এত লাশের মিছিল দেখছে স্প্যানিশরা।

এলিসা নামের এক স্প্যানিশ মেয়ের পরিবারের ৭ জনই করোনায় মারা গেছে। এলিসা এবং তার দুই ভাই বেঁচে আছে। এমন হৃদয় বিদারক দৃশ্যের স্বাক্ষী হয়েছে অসংখ্য স্প্যানিশ।

করোনা চীনে উৎপন্ন হলেও সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে ইতালি এবং স্পেনে। যুক্তরাষ্ট্রও আছে করোনার ভয়াবহ আঘাতের তালিকায়। কিন্তু স্পেনে যেভাবে এই ভাইরাসে মানুষ মারা যাচ্ছে তা অবর্ণনীয়। এভাবে চলতে থাকলে স্পেনের কান্না কবে শেষ হবে তা বলা মুশকিল।

অর্থসূচক/এসএ/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ