করোনায় মারা গেছেন গাদ্দাফির 'ঘাতক'
বৃহস্পতিবার, ২৮শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনায় মারা গেছেন গাদ্দাফির ‘ঘাতক’

মুসলিম বিশ্বের জনপ্রিয় নেতা,লিবিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে উৎখাত ও হত্যার প্রধান ষড়যন্ত্রী মাহমুদ জিবরিল করোনায় মারা গেছেন।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দালাল হিসেবে চিহ্নিত জিবরিল গত সপ্তাহে নভেল করোনাভাইরাসে (কোভি-১৯) আক্রান হন।পরে তার অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হলেও রোববার দুপুরে হঠাৎ তার মৃত্যু ঘটে।

খবর এএফপি ও আলজাজিরার

উল্লেখ,জ্বালানি তেলের বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালাচ্ছিল।কিন্তু সাহসী গাদ্দাফিকে কোনোভাবেই বাগে আনতে পারছিল না।বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরবের রাজপরিবার যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল হলেও কয়েকটি দেশের জন্য তেলের বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্বস্তিতে ছিল না তারা।ইরাকের সাদ্দামকে উৎখাতের পর বাকী শত্রু ছিল দুটি-ইরানের খোমেনি সরকার ও লিবিয়ার মোয়াম্মার গাদ্দাফি।

২০১১ সালে তিউনিশিয়ায় স্বৈরাচারি বেন আলী সরকারের পতন হলে পশ্চিমারা এটিকে আরব বসন্ত নাম দিয়ে অন্যান্য দেশেও সরকার বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করে।লিবিয়ায় এই আন্দোলনের ভাড়াটিয়া হিসেবে বেছে নেওয়া হয় গাদ্দাফির ঘনিষ্ট এবং তার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা জিবরিলকে।

বিশ্বাসঘাতক মাহমুদ জিবরিলকে সামনে রেখে পশ্চিমা মদত এবং তাদের আর্থিক ও সামরিক সমর্থন নিয়ে গড়ে তোলা হয় বিদ্রোহীদের একটি দল। এভাবে দেশটিতে একাধিক দল গড়ে উঠলে সেগুলোর সমন্বয়ে ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) নামে একটি মোর্চা গড়ে তোলা হয়,যেটির নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয় জিবরিলকে।

যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য ও পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সহযোগিতায় এনটিসি গাদ্দাফি বাহিনীকে হটিয়ে একের পর এক অঞ্চল দখল করে নেয়। এক পর্যায়ে রাজধানী ত্রিপলির পতন হলে পালিয়ে যাওয়ার সময় গাদ্দাফি ও তার সঙ্গীদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। যদিও জিবরিল নিজে গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করেননি, কিন্তু হত্যাকারীরা ছিল তারই অনুগত এবং তার অনুমতি নিয়েই তারা গাদ্দাফিকে হত্যা করেন। তাই জিবরিলকেই গাদ্দাফির খুনি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মিরজাফরির পুরস্কার হিসেবে মাহমুদ জিবরিলকে পরে লিবিয়ার প্রধানন্ত্রীর পদ দেওয়া হয়। তবে তিনি ওই পদে বেশি দিন থাকতে পারেননি। দেশের মধ্যে নানা উপদলীয় কোন্দল চলতে থাকলে সরকারের অবস্থা নাজুক হয়ে যায়। প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আর পাশে থাকেনি বলে কিছুদিনের মধ্যেই তাকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। এক সময় দেশ ছেড়েও তাকে চলে যেতে হয়।

জানা গেছে,  সর্বশেষ তিনি মিশরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থান করছিলেন। সেখানেই তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। মিশরে মার্কিন সমর্থিত সেনা সরকার অবশ্য তার চিকিৎসার কোনো ত্রুটি করেনি। তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে  চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওই চিকিৎসায় তিনি কিছুটা সেরে উঠলেও রোববার হঠাৎ অবস্থার অবনতি ঘটে এবং এক পর্যয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ