করোনা মিলেছে বাঘের শরীরে
বৃহস্পতিবার, ২৮শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনা মিলেছে বাঘের শরীরে

মানুষের সাথে পাঞ্জা লড়ে বুঝি আর মজা পাচ্ছে না প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। উন্নত-অনুন্নত সব দেশের মানুষ এত সহজে তার কাছে আত্মসমর্পণ করবে, এটা বোধহয় ভাবেনি আগে। বুঝবে-ই-বা কীভাবে! যে মানুষ ডিনামাইট দিয়ে পাহাড় উড়িয়ে দেয়, নিজেদের স্বার্থে কয়েক দিনের মধ্যে মাইলের পর মাইল বন উজার করে ফেলে, যাদের তাণ্ডবে লুপ্ত হতে চলেছে হাঙ্গর-তিমির মতো বিশাল সব প্রাণী, যারা বোমা মেরে প্রতিপক্ষের নির্দোষ হাজার হাজার নারী-পুরুষ-শিশুকে হত্যা করে-তাদের কী এমন দুর্বল ভাবা চলে?

কিন্তু মানুষে উদ্ধত অহঙ্কারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা নড়বড়ে অবস্থাটা জানার পর বোধহয় নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সাধ হয়েছে তার।  তা তো হবেই, এত দূর্বলের সঙ্গে লড়াই করলে তা কী আর জমে! তাই হয়তো নিজের প্রকৃত শক্তি যাচাই করতে বাঘের দিকে হাত বাড়িয়েছে করোনা। ইচ্ছা হয়েছে তাদের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার। নইলে নিউ ইয়র্কের ব্রোঞ্জ চিড়িয়াখানার বাঘের কাঁড়ে চড়ে বসবে কেন সে!

হ্যাঁ,ঠিকই পড়ছেন।এবার বাঘের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে।যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রোঞ্জ চিড়িয়াখানার চার বছর বয়সী বাঘ নাদিয়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

বিশ্বে কোনো বাঘের শরীরে করোনা সংক্রমণ শনাক্তের ঘটনা এটিই প্রথম। এর আগে পোষা কুকুর এবং বিড়ালের মধ্যে সংক্রমণ শনাক্ত হলেও কোনো বাঘ সংক্রমিত হয়নি।

মালয়ান বাঘ নাদিয়ার সঙ্গে একই শেডে থাকে আরও ৬ প্রাণী। যেগুলোর মধ্যে রয়েছে তার ছোট বোন আজুল,দুটি আমুর টাইগার ও দুটি আফ্রিকান সিংহ।নাদিয়ার সঙ্গী এবং প্রতিবেশীদের অবস্থাও ভাল না।এদের সবার মধ্যে শুকনা কাশি দেখা যাচ্ছে। লক্ষণ কিন্তু ওই করোনাভাইরাস সংক্রমণেরই।

কর্তৃপক্ষ এই প্রাণীগুলোরও নমুনা সংগ্রহ করেছে পরীক্ষার জন্য। এক দু’দিনের মধ্যেই পরীক্ষার রিপোর্ট জানা যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি (ডব্লিউসিএস) নিউইয়র্কের আলোচিত চিড়িয়াখানাটি পরিচালনা করে।নাদিয়ার নভেল করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হওয়ার খবরটি তারাই জানিয়েছে এক বিবৃতির মাধ্যমে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে,স্রেফ কৌতুহল থেকেই নাদিয়ার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। তারা তখনো ভাবতেই পারেননি যে,এই প্রাণীরাও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।কিন্তু তাদেরকে অবাক করে দিয়ে টেস্টের রেজাল্ট এসেছে পজেটিভ,মানে বাঘটির দেহে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।এর প্রেক্ষিতে একই শেডের বাকী প্রাণীগুলোর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের ধারণা প্রাণীগুলোর কোনো কেয়ারটেকার মাধ্যমে সংক্রমণের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। যদিও কোনো কেয়ারটেকারের শরীরে এখনো করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। তবু তারা যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করছেন। সব কেয়ারটেকারের নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিড়িয়াখানার চিকিৎসক নাদিয়াকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। প্রাণীটির অবস্থা অবশ্য ততবেশি খারাপ নয়।

উল্লেখ, বিশ্বে করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত মানুষের শহর হচ্ছে নিউইয়র্ক। শহরটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ