লকডাউনে ঢাকা!
বৃহস্পতিবার, ২৮শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

লকডাউনে ঢাকা!

আজ থেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনো মানুষ রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না। একইভাবে রাজধানীর বাইরেও যেতে পারবেন না কেউ।

পুলিশ সদর দপ্তর আজ রোববার (৫ এপ্রিল) বিকালে এ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে পুলিশ সদস্যদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কার্যত ঢাকা লকডাউনে চলে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

উল্লেখ, করোনাভাইরাসের মহামারি মোকাবেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। কোনো কোনো দেশ কারফিউ, এমনকি জরুরি অবস্থা পর্যন্ত জারি করেছে। বাংলাদেশে সরকারের উপর অনেক দিন ধরে লকডাউনের চাপ থাকলেও সরকার সে পথে হাঁটেনি। সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে অবৈজ্ঞানিক দাবি করা হয়েছে।

সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করার মাধ্যমে করোনার বিস্তার ঠেকাতে লকডাউনের বিকল্প হিসেবে সাধারণ ছুটির পথ বেছে নেয় সরকার। গত ২৪ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। পরে দুই দফায় এটি বাড়িয়ে ১৪ এপ্রিল করা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় গণপরিবহন।

কিন্তু গণপরিবহণ বন্ধ করার আগেই প্রথম দফায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পর এক কোটির বেশি মানুষ ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে যায়। এদিকে সরকার ১ এপ্রিল ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও তাতে গার্মেন্টস খাতকে অন্তর্ভূক্ত করা  হয়নি। বিজিএমই ৫ তারিখ থেকে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি খোলার সিদ্ধান্ত নিলে সারাদেশ থেকে কয়েক লাখ শ্রমিক পায়ে হেঁটে, ট্রাকে চড়ে  ঢাকা ও গাজীপুরে ফিরে আসে। কিন্তু তীব্র সমালোচনার মুখে বিজিএমইএ ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। তাতে ঢাকা-গাজীপুরে কয়েক লাখ শ্রমিক আটকে যায়।

এমন অবস্থায় মূলত গার্মেন্টস শ্রমিকরা যাতে ফের ঢাকা ছেড়ে গ্রামে ফিরে যেতে না পারে সে জন্যেই নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এতদিন গণ পরিবহণ বন্ধ থাকলেও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, এসইউভিসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত যানে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকায় এসেছেন এবং ঢাকা ছেড়ে গেছেন। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে এগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে।

জানা গেছে, ঢাকায় আসা এবং বাইরে যাওয়া বন্ধের পাশাপাশি শহরের ভেতর চলাচল সীমিত করার বিষয়েও কঠোর হবে পুলিশ। গত ক’দিন ধরে সাধারণ ছুটির মধ্যেও রাজধানীতে যানবাহন চলাচল ও সাধারণ মানুষের ঘোরাফেরা বেড়ে যাওয়ায় সেনা বাহিনী ও পুলিশ নানাভাবে তা রোধ করার চেষ্টা করছে। এতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে নতুন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

এছাড়া গত তিনদিন ধরে দেশে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা টানা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৮ জন মানুষের দেহে করোনাভাইরাস  শনাক্ত হয়েছে, যা গত ৮ মার্চ প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এটিই সংশ্লিষ্টদেরকে সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ