পুলিশি হয়রানিতে ব্যাংক কর্মকর্তারা
রবিবার, ৩১শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page
আইজিপিকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ গভর্নরের

পুলিশি হয়রানিতে ব্যাংক কর্মকর্তারা

সরকারের নির্দেশনা অনুসারেই নিয়মিত অফিস করছেন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা অফিসে আসা-যাওয়ার পথে পুলিশের হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে পুলিশের কাছেও সরকারি কোনো পরিষ্কার নির্দেশনা নেই। ফলে ব্যাংকারসহ সব মানুষকেই জনসমাগম থেকে বিরত রাখার চেষ্টার করছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আতাউর রহমান প্রধান জানান, ব্যাংক লেনদেনের সময়সীমা বেড়েছে। কিন্তু ব্যাংকের কর্মকর্তারা কিভাবে ব্যাংকে আসবেন সে নির্দেশনা নেই। বিশেষ করে অফিসে আসা-যাওয়ার সময় আইন শৃক্সক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনীর নানা জিজ্ঞাসার মুখোমুখি হতে হয়। এটা একটা বিব্রতকর অবস্থা। তিনি বলেন, ব্যাংকের কর্মকর্তারা যেন যানবাহন নিয়ে অফিসে আসা-যাওয়া করতে পারেন, সে ধরণের সুষ্পষ্ট দিক নির্দেশনা প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম বলেন, বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকে অবহিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। চিঠিতে গভর্নর উল্লেখ করেন, করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশে সাধারণ ছুটি বিরাজমান। এর মধ্যেও সীমিত আকারে ব্যাংক খোলা রাখা হয়েছে। প্রথমে ১০টা থেকে দেড়টা, পরে তা বর্ধিত করে ৩টা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা রাখা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা অফিসে যাতায়াত করছেন। কিন্তু পথে আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় আইনশৃক্সক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে কর্মকর্তাদের। এমতাবস্থায় কর্মকর্তাদের নিজ নিজ অফিসের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করলে যেন তাদের বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে না ফেলা হয়, সে বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গভর্নও অবহিত। ইতিমধ্যে তিনি পুলিশের আইজিপির সঙ্গে কথা বলে এর একটা সমাধান চেয়েছেন। আশা করি, এ সমস্যা আর থাকবে না। তবুও কেউ চাইলে ব্যাংক খোলা সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার সঙ্গে রাখলে পুলিশ বাধা দেবে না।

উল্লেখ, করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরপর ছুটি বাড়িয়ে ৯ এপ্রিল করা হয়। ফলে সরকারি অফিস খুলবে ১২ এপ্রিল। এ সময় পর্যন্ত সীমিত আকারেই ব্যাংকিং সেবা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রথম পর্যায়ে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১:৩০ মিনিট পর্যন্ত ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা ছিল। তবে দ্বিতীয় পর্যায়ে তা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন থেকে সীমিত আকারে ব্যাংকিং চালু রাখার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তাতে বলা হয়, নির্দিষ্ট কিছু শাখায় সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত নগদ জমা ও উত্তোলন করা যাবে। লেনদেন-পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করার জন্য ব্যাংক খোলা থাকবে বেলা তিনটা পর্যন্ত।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শুধু নগদ জমা ও উত্তোলনের জন্য অনলাইন সুবিধা থাকা ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের লেনদেনের সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করে শাখাগুলোর মধ্যে দূরত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক শাখা খোলা রাখা যাবে। অনলাইন সুবিধা ছাড়া ব্যাংকের শাখাগুলো শুধু নগদ জমা ও উত্তোলনের জন্য খোলা রাখা যাবে। শুধু জরুরি বৈদেশিক লেনদেনের জন্য এডি শাখাগুলো খোলা রাখা যাবে। পাশাপাশি ডিডি, পে–অর্ডার ইস্যু, ট্রেজারি চালান জমা, চেক ক্লিয়ারিং সেবা চালু থাকবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগেই জানিয়েছে, এটিএম ও কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন চালু রাখার সুবিধার্থে এটিএম বুথগুলোয় পর্যাপ্ত নোট সরবরাহ রাখতে হবে এবং সার্বক্ষণিক চালু রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ