'আমরা সুবাস বিক্রি করি কিন্তু কেউ আমাদের পাশে দাঁড়ায় না'
রবিবার, ৩১শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘আমরা সুবাস বিক্রি করি কিন্তু কেউ আমাদের পাশে দাঁড়ায় না’

‘আমরা এমন একটা পর্যায়ে আছি, না আমরা কাউকে বলতে পারি। না কেউ আমাদের ডাকে। আমরা তো না খেয়ে থাকলেও এটা বলতে পারছি না। আমরা সুবাস বিক্রি করি, সুবাস বিলাই…কিন্তু কেউ আমাদের পাশে দাঁড়ায় না’ কথাগুলো বলছিলেন শাহবাগের বটতলার ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ।

প্রিয়জনকে ফুল দেয়া। বিয়ে, জন্মদিন, সভা, সেমিনার এবং বিশেষ দিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন- কোনো আনুষ্ঠানিকতা এখন ফুল ছাড়া বেমানান লাগে। রাজধানীসহ সারাদেশে অনেক ফুলের দোকান গড়ে উঠেছে। দেশে ফুলের বাজারের প্রতীক হয়ে উঠেছে রাজধানীর শাহবাগ। ফুল কেনার কথা ভাবলেই চোখের সামনে সবার আগে চলে আসে এই জায়গাটির কথা। ফলে সারাদিনই ভিড়বাট্টা লেগেই থাকে এখানে।

এখানে খুচরা ও পাইকারি মূল্যে ফুল বিক্রি হয়। কিন্তু বর্তমান করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সংকটে পড়েছেন এখানকার ফুল ব্যবসায়ীরা। বন্ধ রয়েছে তাদের দোকান। ৫১টি ফুলের দোকানে গড়ে প্রতিদিন ১০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হতো। এখন বন্ধ দোকানের মালিক-কর্মীরা বেকার। কবে এই দুর্ভোগ কাটবে জানা নেই কারও। সরকারকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

শাহবাগ ফুটপাতে ৫১টি দোকানে ফুল বিক্রি করা হয় জানিয়ে আবুল কালম আজাদ বলেন, দোকান ২৬ তারিখ (মার্চ) থেকে বন্ধ। প্রতিদিন যে বেচাকেনা হতো, তা দিয়ে পরিবার চলত আমাদের।

এ ছাড়া সরকারের বন্ধ ঘোষণার পর এ কদিন দোকানে থাকা সব ফুল পোঁচে গেছে বলে জানান আজাদ।  এতে সবারই বড় একটা লোকসান হয়ে গেছে।

আজাদ বলেন, এখন তো দোকান বন্ধ। কারও এমন কোনো সঞ্চয় নেই যে ভেঙে খাবে। আর যাদের কিছু আছে, তাতে আর কত দিন বসে চলে! বিভিন্ন খাতের অনেকেই অনুদান পাচ্ছে। কিন্তু আমরা কোনো অনুদান এখনো পাইনি। কেউ আমাদের কাছে আসেওনা বললেন ফুল ব্যবসায়ীদের এ নেতা।

ফুল ব্যবসায়ী ও কর্মীরা অনেকে খাবার সংকটে পড়ছেন জানিয়ে আজাদ বলেন, আজ (সোমবার) আমাকে একজন ফোন দিয়ে বলল দুই দিন ধরে তার ঘরে বাজার নেই। আমি তাকে ডেকে ৫০০ টাকা দিয়েছি। আমিই বা কত জনকে দিতে পারি। আমাদের মার্কেটটাতো সারা বাংলাদেশে পরিচিত। কিন্তু তবুও আমাদের পাশে কেউ এগিয়ে আসছে না।

তিনি বলেন, আমরা সরকারের ঘোষণামতো বন্ধ রেখেছি। আরও সময় বাড়লে সেটাও আমরা মেনে নেব। আমাদের টিকে থাকার জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানাই।

অর্থসূচক/ এমআরএম

এই বিভাগের আরো সংবাদ