নায়লা নাঈমের ভিন্ন উদ্যোগ
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

নায়লা নাঈমের ভিন্ন উদ্যোগ

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে স্থবির সারাদেশ। নগরজীবন বেশ বিপর্যস্ত। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শোবিজের তারকারাও গৃহবন্দী। এরমধ্যে নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য নিয়ে অস্বচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তবে তারকাদের মধ্যে ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মডেল ও অভিনেত্রী নায়লা নাঈম।

স্থবির সময়ের মধ্যেও আলোচিত এ মডেল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে পথের কুকুরদের খাবারের যোগান দিচ্ছেন।

নায়লা নাঈম বলেন, আজও ৮০টির মতো কুকুর খাইয়ে এসেছি। লকডাউনের কারণে কেউ বের হতে পারছেন না। আগে চায়ের দোকান ও হোটেল থেকে উচ্ছিষ্ট খাবার খেতে পারতো কুকুরগুলো। কিন্তু এখন সব বন্ধ থাকায় তাদের খাবারের উৎস নেই। এতে করে রাস্তার প্রাণী বিশেষ করে কুকুর অনাহারী থাকছে। মানবিকতার জায়গা থেকে আমি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পথের কুকুরদের খাবার দিয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, গত ৭ দিনে রামপুরা, খিলগাঁও চৌরাস্তা, রাজারবাগ, বনশ্রী, আফতাবনগর, বাড্ডা, লিংক রোড, হাতিরঝিল, গুলশান-১ সহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১৩০০ কুকুরের খাবারের ব্যবস্থা করেছি। একবার খাওয়ালে কয়েকঘন্টা তাদের খাবারের ঘাটতি পূরণ হচ্ছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দেশের হাজারও সংগঠন খুঁজে পাওয়া যাবে। কিন্তু রাস্তায় এসব নিরীহ পশুদের জন্য এখন কাউকে দেখা যাচ্ছে না।

যতদিন নগরীতে লকডাউন অবস্থা চলবে ততোদিনই নায়লা নাঈম নিজের সামর্থ্য দিয়ে রাস্তার কুকুরদের খাইয়ে যাবেন বলে জানান।

বিগত ১২ বছর ধরে প্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করছেন নায়লা নাঈম। রাস্তায়, বাড়িতে অসুস্থ পশুপাখি দেখলেই নিজে চিকিৎসা দিয়ে পুনর্বাসনের চেষ্টা করেন।

তিনি বললেন, করোনার আগে থেকে দীর্ঘ পাঁচ বছর আমি যে এলাকায় থাকি সেখানে দৈনিক ৪০-৫০ টি কুকুরকে খাওয়াই। যেখানেই যাই সেখানেই চেষ্টা করি হেল্প করার। আগে যারা আমার মতো পশুপাখির খাবার দিতো এখন লকডাউনে হয়তো ঘর থেকেই বের হতে পারছেন না। তাই আমি আমার পক্ষ থেকে এখন যতটুকু পারছি কাজ করার চেষ্টা করছি।

এদিকে বুধবার নায়লা, লিমন নামে এক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর পাশে দাঁড়ান।

এ নিয়ে নায়লা তার ফেসবুকে লিখেন, কুকুরগুলাকে খাওয়াচ্ছিলাম ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি’র সামনে। যারা এই ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেন, তারা এই ছেলেটাকে সবাই চেনেন!

হঠাৎ করে ছেলেটা এসে বললো, ‘আপু, একটা কথা বলি? কিছু মনে যদি না করেন!’

আমি বললাম, ‘বলো!’

বললো, ‘আপু, আজকে আমার বাসায় তো চাল, ডাল কোনো কিছুই নাই। কিভাবে, কি চলবো, বুঝতেছি না!’

বললাম, ‘তোমার আম্মা, আব্বা কোথায়?’

বললো, ‘আমার মা তো অসুস্থ, মানসিক ভারসাম্যহীন। মা আছে কিন্তু, বাবা তো আরেকটা বিয়ে করছে।

আমি ওকে আমার স্কুটির পেছনে বসালাম এবং লিমন আর আমি মিলে ৫০ টার মতো কুকুরকে খাওয়ালাম। পরে লিমনকে ওর প্রয়োজনীয় চাল, ডাল, ডিম যা যা দরকার, সেগুলো কিনে, ওকে বাড়ি পাঠিয়ে দিলাম।

অর্থসূচক/এএ/এমএস

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ