করোনা আতঙ্ক: মানসিক চাপ এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনা আতঙ্ক: মানসিক চাপ এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বর্তমান আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস যেন এখন সবার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনকে দিনকে আক্রান্ত আর মৃত্যুর সংখ্যা লাগামহীন বেড়েই চলছে।

এদিকে বিশ্ব এখন লকডাউন। প্রায় সবাই নিজেকে হোম কোয়ারেন্টিনে আবদ্ধ করে ফেলেছে। আর এতে করে অনেকের সময়ও পার হচ্ছে না। এক কথায় কাজের মানুষ যদি কাজ না করে সারাদিন বাসায় থাকে তাহলে সে তো হতাশায় ভুগবেই। সাথে আছে অসুস্থতা, মানসিক চাপ ইত্যাদি। যে কোন রোগ-শোকের সঙ্গেই মনের যোগ নিবিড়৷ কিন্তু তা বলে কি আর চাইলেই চাপ কমানো যায় এই পরিস্থিতিতে। চাপ তো চাপ, একে একে আরও কত উপসর্গই তো এসে ভিড় করছে এই সময়ে-

এক বিশেষজ্ঞের মতে, এরকম সংকটময় পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগ, মাথায় যেন বোঝা চাপিয়েছে কেউ এমন মনে হওয়া, কড়া নজর, এই বুঝি একটু নাক কি চোখ চুলকালো, কি একটা হাঁচি এল বা শুরু হল খুসখুসে কাশি, গা কি একটু গরম লাগছে এমন অনুভব করা। মেজাজ খিটখিটে হওয়া। অস্থিরতা, ভয়, স্বাভাবিক ব্যথা-বেদনাও মনে হচ্ছে ভাইরাসের কারণে হচ্ছে এরকম কিছু বিষয় সারাক্ষণই মাথায় যে কারও ঘুর ঘুর করতে পরে। তবে এই জিনিসটা সবারই পরোক্ষ যে এই ভাইরাসের হাত থেকে মুক্তি না পেলে রোগের আশঙ্কা আরও বাড়বে৷ কারণ ওষধ ও প্রতিষেধকহীন ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়ার হাতিয়ার বলতে আছে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা৷

তার উপর অশান্তি বাড়লে ঘুম কমে যায়, খাবারের বাছবিচার থাকে না, আগ্রহ থাকে না ব্যায়ামে৷ সবে মিলে প্রতিরোধ ক্ষমতার আরও অবনতি হয়৷ কাজেই যে কোনও উপায়ে মানসিক চাপ সামলাতে হবে৷ কীভাবে কী করতে হবে তা জানিয়েছেন মানসিক বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম৷ আসুন তবে দেখে নেয়া যাক:

সারা দিন-রাত যে স্রোতের মতো দুঃসংবাদ ভেসে আসছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, টিভিতে, কাগজে, তাতে গা ভাসাবেন না৷ তার চেয়ে মোবাইলে বা টিভিতে সিনেমা বা সিরিয়ালই নাই দেখুন৷ বেশি খবর জেনে কী করবেন? আপনার তো শুধু তিনটে কাজ, একটু গৃহবন্দি থাকা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা ও ক্ষণে ক্ষণে হাত ধোয়া৷ তারপর যা হবে, হবে৷ চরম খারাপ বলতে রোগ হওয়া৷ সে হলেও ৯৭-৯৮ শতাংশ সম্ভাবনা পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার৷ কাজেই টেনশন করবেন না৷

তাও কী টেনশন হচ্ছে? বাস্তববাদী ও বুদ্ধিমান মানুষের সঙ্গে আলোচনা করুন৷ মন হালকা হবে৷ উদ্বেগপ্রবণ মানুষের সঙ্গে খুব বেশি মেলামেশা করার দরকার নেই৷ করলে ভয় দ্বিগুণ-তিনগুণও হয়ে যাবে৷ ভাবছেন, ঘরে তো বন্দি, আলোচনা বা মেলামেশার হবে কীভাবে? হবে ওই ফোনে৷ যাকে নিয়মিত ভেজা টিসু্ দিয়ে পরিষ্কার করছেন আপনি৷ মন হালকা হচ্ছে না? পাগল পাগল লাগছে? বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন৷ মনোবিদ বা মনোচিকিৎসক আপনার উদ্বেগের উৎস বুঝে সঠিক পথ দেখাতে পারবেন৷ শরীর-স্বাস্থ্যকে অবহেলা করবেন না৷ প্রোটিনসমৃদ্ধ সুষম খাবার খান৷ হালকা ব্যায়াম করুন৷ ভাল করে ঘুমোনোর চেষ্টা করুন৷ ঘুম না এলে যা করবেন, তা বিশেষজ্ঞের কাছে জেনে নিন৷ রোগের বিরুদ্ধে এরাই কিন্তু শক্তি যোগাবে৷ মানসিক চাপ কমাতে রিল্যাক্সেশন এক্সারাসাইজ করুন৷ যোগা, মেডিটেশন, ডিপ ব্রিদিং৷ যা করলে মন হালকা থাকে, তাই করুন৷ তা সে বই পড়া হোক কী গান শোনা, বাগান করা হোক কী নাচ-গান করা৷ নেশায় অভ্যস্ত হলেও এ সময় বেশি মদ খাবেন না৷ এতে আরও বেশি অবসাদ গ্রাস করবে৷ এই মহামারির জন্য কাউকে দোষারোপ করে লাভ নেই৷ শান্ত মনে ব্যাপারটা মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন৷ বিপদ কোথা থেকে আসতে পারে তা বুঝে সামলানোর চেষ্টা করুন৷ প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন৷

অর্থসূচক/এনএম/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ