করোনা নিয়ে কিছু মজার কৌতুক
শুক্রবার, ২৯শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনা নিয়ে কিছু মজার কৌতুক

করোনা মহামারিতে বিশ্বজুড়ে বিরাজ করছে রুদ্ধশ্বাস অবস্থা। দেশে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, স্পেনের মতো শিল্পোন্নত দেশ করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে নাকানিচুবানি খাচ্ছে। বেশরভাগ দেশের মানুষ লকডাউনে নিজ ঘরে বন্দী হয়ে আছেন। আতঙ্ক, উদ্বেগ ও মানসিক চাপে জীবন পানসে হয়ে আসছে। কিন্তু চিকিৎসকদের পরামর্শ, সঙ্কট যত তীব্রই হোক না কেন চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে, কারণ করোনা দুর্বল মানুষকে কাবু করে বেশি! অর্থসূচকের পাঠকদের টেনশন থেকে একটু রিলিফ দিতে করোনা সম্পর্কিত কয়েকটি কৌতুক পরিবেশনের চেষ্টা।  তো দেখা যাক কৌতুকগুলো-

সমুদ্র সৈকতে হোম কোয়ারেন্টাইন

সাদেক আলী একজন ইতালি প্রবাসি। করোনাভাইরাসের ভয়ে পড়িমরি করে দেশে ফিরে এসেছেন। দেশে এসেই মনে হল-আহা, কত বছর কক্সবাজার যাই না, তাজা বাতাস খাই না। এটা মনে হতেই বিমানবন্দরে দেওয়া হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে চলে এসেছেন কক্সবাজার। পড়ন্ত বিকালে তাজা হাওয়ায় যেই একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন, তখন বাড়ির সামনে থেকে বেরসিক পুলিশের ওসির ফোন।

ওসিঃ হ্যালো, সাদেক সাহেব, আপনি কোথায়?

সাদেক আলীঃ  জি ভাই, আমি হোম কুয়ারিন্টিনে

ওসিঃ ঘরের দরজাটা একটু খুলে ভাই। একটু কথা বলে যাই।

সাদেক আলী থতমত খেয়েঃ জ্বি ভাই, দরজার সামনে তো সাগর…মানে….ইয়ে….মানে ইয়ে……..

ধুতে থাকো ধুতে থাকো

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, করোনা মোকাবেলার প্রধান উপায় হচ্ছে বার বার হাত ধোয়া। দিনে ৫৯ বার ২০ সেকেন্ড করে হাত ধুতে ধুতে শুক্কুর আলীর আজ এই অবস্থা-

ওয়ার্ক ফ্রম হোম

শহরে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন আফিস ঘোষণা দিয়েছে, তারা তাদের কর্মীদেরকে ঘরে বসে কাজ করার (Work from home) সুযোগ দেবে।  হঠাৎই মনু মিয়ার মনে হলো, আচ্ছা, সেও তো ওয়ার্ক ফ্রম হোম করতে পারে। সারাদিন গাধার খাটুনি খেটে সে ওয়ার্ক ফর হোমের জন্য ঘরের মধ্যে সব সাজিয়ে বসল

আমার তো ৫শ বোতল স্যানিটাইজার আছে

জ্যারিনা এ্যাক্টার (জরিনা আক্তার থেকে বিবর্তিত) সারা শরীর কাঁপিয়ে জ্বর এসেছে। সাথে কাশি ও গলা ব্যথা। সবাই বলল, ডাক্তার দেখাও। কিন্তু গুলশানের কোনোখানে ডাক্তার নাই। অবশ্য এটা কোনো ব্যাপার না। লাইন-জ্যাক কাজে লাগিয়ে আইইডসিআরের মাধ্যমে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারের সামনে জ্যারিনা

জ্যারিনাঃ ডাক্তার সাহেব মুখ গম্ভীর কেন? কী হয়েছে আমার?

ডাক্তারঃ আমি দুঃখিত। মিস জ্যারিনা, আপনার দেহে করোনা পাওয়া গেছে

জ্যারিনা চিৎকার করেঃ ইম্পসিবল। আমার বাসায় ৫শ স্যানিটাজার, ২শ হ্যান্ড ওয়াশ, ১ হাজার প্যাকেট টয়লেট রোল আছে

মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর আফসোস

বিশ্ব খ্যাত চিত্রশিল্পী মাইকেল এঞ্জেলো কবরে শুয়ে বিশ্বে করোনার তামাশা দেখছেন। একটা বিষয় হঠাৎ নজরে এল-লোকজন খুব যত্ন করে স্যানিটাইজার  দিয়ে হাত ধুচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে তার মানটা বিষাদে ছেয়ে গেল। আহা, তখন যদি হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়ার কোনো দৃশ্য তার চোখে পড়ত তাহলে সিস্টিন চ্যাপেলের ছাদে হাত ধোয়ার একটা ছবি আঁকতে পারতেন।

হাতের লেখন না যায় মুছন

করোনা থেকে বাঁচতে একগাদা হ্যান্ড স্যানিটাইজার আর হ্যান্ড ওয়াশ কিনেছেন রহেম আলী। তারপর থেকে ২০ সেকেন্ড পর পর ইচ্ছামত হাত ডলছেন সাবানে- স্যানিটাইজারে। প্রতিবার ৬০ সেকেন্ড করে। আর তাতেই দেখা দিয়েছে নতুন বিপদ। ১০ বছর আগে এসএসই পরীক্ষা সময় যে হাতে তালুতে নকল টুকে নিয়ে গিয়েছিলেন, সবগুলো আবার ফকফকাভাবে ভেসে উঠেছে। এখন ছেলেমেয়ের সামনে হাত (মুখ) দেখাবেন ক্যামনে সেই ভানায় পড়েছেন

কৌতুকগুলোর মধ্যে দু’দিনটি আইডিয়া নেওয়া হয়েছে, বোরপান্ডা থেকে। বাকিগুলো নিজস্ব। আর ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ