চাহিদা কমলেও চালের দাম কমছে না
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

চাহিদা কমলেও চালের দাম কমছে না

দেশব্যাপী করোনা আতঙ্কে বেড়েছে চালের দাম। প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা। গরিবের চাল, বড়লোকের চাল কোনটারই দাম বাড়তে বাকি নেই। বাজারে চালের আড়তদাররা বলছেন মিলমালিকরা চাহিদা বেশি দেখে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আর মিলমালিকরা বলছেন ধানের দাম বাড়ায় বেড়েছে চালের দাম।

আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর বেশ কিছু বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোটা চাল বা চিকন চাল বাজারে সব চালের দামই বেড়েছে। কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৮ টাকা থেকে ১২ টাকা।

বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৮ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে নাজিরশাইল। করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার আগে এই দুই ধরনের চাল ৫৪ থেকে ৫৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

এদিকে বাজারে পাইজাম ও লতা চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, যা করোনা আতঙ্কের আগে ছিল ৪২ থেকে ৪৮ টাকা কেজি। স্বর্ণা চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা করোনা ভাইরাস আতঙ্কের আগে ছিল ৩২ থেকে ৩৫ টাকা।

দাম বাড়ার বিষয়ে শেওড়াপাড়ার চাল ব্যবসায়ী রতন বলেন, করোনা ভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর বাজারে চালের চাহিদা বেড়ে যায়। সবাই চাহিদার তুলনায় বেশি চাল কেনেন। এতে দেখতে দেখতে চালের দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। এখন চালের বিক্রি কমলেও দাম কমছে না।

তিনি বলেন, বর্তমানে বড় বড় প্রতিষ্ঠানের চাল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ছোট কিছু প্রতিষ্ঠানের চাল পাওয়া যাচ্ছে। যে কারণে চাহিদা কমলেও চালের দাম কমছে না।

মিরপুর ১ নাম্বারের চাল ব্যবসায়ী রফিক বলেন, মূলত নওগাঁ, জয়পুরহাট, নাটোর ও কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মে চাল আসে। এখন আগের মত আসছে না। যা আসছে তারও দাম বাড়ানো হয়েছে। তাই বেশি দাম দিয়েই কিনে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বলেন, দেশের চালের সবচেয়ে বড় মোকাম নওগাঁ ও কুষ্টিয়ায়। এই দুই মোকাম থেকে চাল আসা কমে গেলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে রাজধানীর চালের বাজারে। গত ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে নওগাঁ ও কুষ্টিয়া থেকে চালের স্বাভাবিক সরবরাহ আসছে না। এ কারণে রাজধানীতে চালের দাম বেড়েছে।

এদিকে চালের দাম বাড়ার বিষয়ে বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাস্কিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম লায়েক আলী বলেন, বর্তমানে ধানের দাম বেড়ে গেছে। মিনিকেট চালের ধান এখন আমাদেরকে সাড়ে বারোশো টাকা মন কিনতে হচ্ছে। স্বর্ণা ৫ যে ধান সেটাও বিক্রি হচ্ছে হাজার টাকার উপরে। এজন্য চালের দাম বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, আমরা এখন মিল থেকে মিনিকেট চাল ৬০ টাকা কেজির ওপরে বিক্রি করছি। ধানের মৌসুম শেষ হয়ে আসায় মূলত ধানের দাম বেড়েছে। আর দুই সপ্তাহ পরেই নতুন ধান উঠবে। ধান উঠার পরে আবার দাম কমবে।

বাজারে রশিদ মিনিকেটসহ ভালো মানের চাল না পাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যাদের সক্ষমতা আছে তারা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি চাল কিনেছে। এর ফলে চালের দাম বেড়ে গেছে। আর যে ধান দিয়ে মিনিকেট চাল হবে সেটাই ফুরিয়ে এসেছে। তাহলে চাল কোথা থেকে আসবে।

অর্থসূচক/এমআরএম/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ