তাবলীগ জামাতের জমায়েত, ৩১ জন করোনায় আক্রান্ত, ৭ জনের মৃত্যু
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

তাবলীগ জামাতের জমায়েত, ৩১ জন করোনায় আক্রান্ত, ৭ জনের মৃত্যু

মালয়েশিয়ার পর এবার ভারত। তাবলীগ জামাতের জমায়েত থেকে বাড়ছে করোনা মহামারির বিপদ। দিল্লির একটি মসজিদের জমায়েত থেকে সারাদেশেই ঝড়িয়েছে করোনা। মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে দিল্লি। ইতোমধ্যে এই জমায়েতে অংশ নেওয়া মানুষদের মধে ৩১ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।  তাদের মধ্যে ৭ জন মারা গেছেন।

জানা গেছে,  মার্চের প্রথম সপ্তাহে দিল্লির ওই মসজিদে বড় ধরনের একটি জমায়েত ছিল। তাতে প্রায় ২ হাজার মানুষের সমাগম হয়েছিল। দিল্লিতে ওই মসজিদে (Markaz Nizamuddin) শুধু ভারত নয়, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কিরগিজিস্তান থেকেও বিভিন্ন বয়সের মানুষজন এসে ওই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখান থেকেই ব্যাপক হারে প্রানঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে বলে খবর।

দিল্লিতে নিজাম উদ্দিন আউলিয়ার মাজারের কাছে অবস্থিত বাংলাওয়ালে নামের চারতলা মসজিদটিকে ঘিরে পুরো দিল্লিতে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত সপ্তাহে সরকার সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করার পরও মসজিদটি প্রায় দেড় হাজার মানুষ অবস্থান করছিলেন। ছোট্ট একটি ভবনে এত মানুষের অবস্থানে কোনোভাবেই সামাজিক দূরত্ব রক্ষা হয়নি। তাছাড়া সেখানে অবস্থানরত মুসল্লিরা সামাজিক দূরত্বের পরোয়াও করেনি।

অসংখ্য মানুষের সংক্রমণের বিষয়টি নজরে আসার পর দিল্লির সরকার মসজিদটি সিলগালা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মসজিদে অবস্থানরতদের জোর করে অন্য জায়গায় কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে কমপক্ষে ২০০ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনায় দিল্লির ওই মসজিদটির ইমামের বিরুদ্ধে পুলিশকে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে কেজরিওয়াল সরকার।

এদিকে এক বিবৃতিতে দিল্লির পশ্চিম নিজামুদ্দিনে তবলিগ জামাতের “মার্কাজ” কর্তৃপক্ষ আত্মপক্ষ সমর্থন করে জানিয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী মোদি ২২ মার্চ “জনতা কারফিউ” ঘোষণা করার পরে এই অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে ওই মসজিদ চত্বরে প্রচুর মানুষের জমায়েত ছিল। তাঁরা ওই কারফিউয়ের কারণে আটকা পড়ে। তাঁদের আর অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা ছিল না। আর এরপরেই শুরু হয়ে যায় দেশ জুড়ে লকডাউন। তাই বাধ্য হয়েই মসজিদ সংলগ্ন এলাকাতেই গা ঘেঁষাঘেঁষি করে থাকতে বাধ্য হন ওই মানুষজন।

এর আগে মালয়েশিয়াতেও তাবলীগ জামাতের একটি জমায়েত থেকে ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। দেশটির সেরি পেটালিং মসজিদের মসজিদের তাবলীগ জামাতের কাফেলা থেকে মালেয়শিয়ার ৮০% করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে। গত ২১ মার্চ তারিখ পর্যন্ত মালেয়শিয়ার ১১৮৩ জন রোগীর মাঝে ৮০% এই চিল্লার অংশ নিয়েছে যাদের মাঝে ৪ জন মারা যায়। ওইদিন মালেয়শিয়াতে ১৫৩ জন নতুন রোগী চিহ্নিত হয়, যাদের মধ্যে ৮৩ জন তাবলীগের ওই চিল্লায় অংশ নিয়েছে। চিল্লায় এশিয়ার অনেকগুলো দেশের লোক ছিল। তারা যখন দেশে ফিরে যায় তাদের মাধ্যমে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে  ভাইরাসটিতে আরও কিছু মানুষ সংক্রমিত হয় বলে জানা গেছে। ২১ মার্চ পর্যন্ত  ব্রুনেই এ মোট ৫৬ জন করোনা ভাইরাস রোগী পাওয়া যায়, যার মধ্যে ৫০ জন ওই জামাতে অংশ নিয়েছিল,  সিঙ্গাপুরের ৫ জন রোগী পাওয়া যায় ওই জামাতের, কম্বোডিয়ার ১৩ জন এবং থাইল্যান্ডে ২ জন রোগী পাওয়া যায় যারা জমায়েতে অংশ নিয়েছিলেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ