করোনায় সংকটে পোশাকশিল্প, টিকে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনায় সংকটে পোশাকশিল্প, টিকে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ

বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করেছে নোভেল করোনা ভাইরাস। যার প্রভাব পড়েছে বিশ্বব্যপী সামগ্রিক অর্থনীতিতে। যার থাবা থেকে বাদ যায়নি বাংলাদেশও। এই মহামারি ভাইরাস প্রতিরোধে থেমে গেছে জনজীবন, থমকে গেছে অর্থনীতি। ফলে দেশের ছোট-বড় সব ধরনের শিল্পের উপর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরিপোশাক শিল্পের ওপর।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পর্যন্ত ৯৬৬টি কারখানার ৮২৮ মিলিয়ন পিস পোশাকপণ্যের অর্ডার বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। এর মূল্য ২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক গণমাধ্যমকে জানান, করোনার কারণে পোশাক খাতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিভিন্ন দেশ ও মহাদেশ থেকে ক্রেতারা তাদের সব ক্রয়াদেশ (অর্ডার) আপাতত বাতিল করছেন।

তবে এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে সবাই সংকটের মধ্যে রয়েছে। যারা আমাদের থেকে পণ্য নেন তারাও খারাপ সময় পার করছেন। তারা এক ধরনের সমস্যায় পড়েছেন, আমরা আরেক ধরনের সমস্যায় পড়েছি। আমাদের সমস্যা হচ্ছে শ্রমিকদের বেতন দিতে হবে। তবে সব গার্মেন্টস মালিকদের প্রতি ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে ভালো সম্পর্ক রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রুবানা হক।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের চলার পথ কখনোই মসৃণ ছিল না। সবসময়ই কিছুনা কিছু বাধা আমাদেরকে পার করতে হয়েছে। আর এটা যেহেতু বৈশ্বিক সমস্যা। তাই এটাকে সবার মেনে নিতেই হবে। দেখা যাবে এই সমস্যা কেটে গেলে আগের মতোই আবার পরিবেশ তৈরি হয়ে যাবে। এই অর্ডার বাতিলে একবারে বাতিল হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় সাময়িক বাতিল হয়েছে। এর জন্য আমাদেরকে কষ্ট করে টিকে থাকতে হবে।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটি আপৎকালীন ধাক্কা সামলাতে সহায়ক হবে বটে, কিন্তু পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ক্রেতাদের পরবর্তী আচরণের ওপর।

দেশের অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব সম্পর্কে অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, রপ্তানি আয়ে করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ, আমাদের তৈরি পোশাক খাতের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালিতে করোনার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। এই পরিস্থিতিতে তারা পোশাক নেওয়া কমিয়ে দিয়েছে। সামনে তাদের অর্থনীতিতেও মন্দা দেখা দেবে। এর সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে পড়বে।

করোনা ভাইরাসের কারণে দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়েও নেতিবাচক ধারা হতে পারে বলে মনে করে গবেষণা সংস্থাটি।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এই সংকটকালে আমাদের টিকে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। এই সময়টা সারা বিশ্বের জন্যই অর্থনৈতিকভাবে খুব খারাপ সময় যাচ্ছে। আমাদের অর্ডারগুলো বাতিল হয়নি বা হয়তো হয়েছে। আমরা যদি এই সমস্যা কাটিয়ে টিকে থাকতে পারি তাহলে তেমন একটা আমাদের জন্য ক্ষতি হবে না।

চীন থেকে কাঁচামাল আমদানি বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে যেহেতু আমাদের কোন বড় ধরনের অর্ডার নেই। সেতু কাঁচামাল আমদানি বন্ধ থাকায় তেমন একটা সমস্যা হবে না। আর যেহেতু চীনের পরিবেশ ভালো হয়ে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আর কোন সমস্যা থাকবে না।

এই মুহূর্তে টিকে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে সিপিডির এই গবেষণা পরিচালক বলেন, সংকট মোকাবেলায় পোশাক খাতের জন্য স্পেশাল ফান্ড গঠন করা যেতে পারে। সেই ফান্ড থেকে কারখানাগুলোকে কম সুদে ছয় মাস বা এক বছরের জন্য ঋণ দিলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

পোশাক শিল্পের সঙ্কট নিয়ে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান সহ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমরা আশা করি সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবো। প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই আমাদের সাথে আছেন এবং পাশে থাকবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। এই সংকট মোকাবেলায় যা করা দরকার সব বিষয়ে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

অর্থসূচক/এমআরএম/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ