ঋণ হিসাবে টাকা দেয়া হচ্ছে পোশাকশিল্পে, যাবে শ্রমিকের অ্যাকাউন্টে
শুক্রবার, ২৯শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ঋণ হিসাবে টাকা দেয়া হচ্ছে পোশাকশিল্পে, যাবে শ্রমিকের অ্যাকাউন্টে

বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করেছে নোভেল করোনা ভাইরাস। যার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে দেখা দিয়েছে এক ধরনের স্থবিরতা। করোনা ভাইরাস রুখতে দেশের সব কল-কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত পোশাকশিল্পের হাজার হাজার কোটি টাকার অর্ডার বাতিল হয়েছে। এর ফলে শঙ্কার মধ্যে পড়েছে মালিকরা। তাই পোশাক খাতকে বাঁচাতে শ্রমিকদের বেতনের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেছে সরকার। সেই তহবিলের প্রজ্ঞাপন জারি হচ্ছে আজ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে এ তহবিল পরিচালনা করবে দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো। এই তহবিলের কোনও টাকা পাবেন না পোশাকশিল্প মালিকরা। এই টাকা সরাসরি চলে যাবে ক্ষতিগ্রস্ত পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের ব্যাংক একাউন্টে বেতন হিসেবে। আরে তহবিল থেকে মালিকরা অনুদান হিসেবে কোন অর্থ পাবেন না, নিতে হবে ঋণ হিসেবে। এছাড়া নির্ধারিত গ্রেস পিরিয়ডসহ লম্বা সময় ২% সুদে শিল্প মালিকরা ওই অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

এর আগে গত ২৫ মার্চ জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংকটের মুহূর্তে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ৫০০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা দেন। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ওই তহবিল গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার ওই তহবিল গঠন করে অর্থ বিভাগের মনিটরিং সেল সার্কুলার জারি করবে বলে জানাগেছে।

অর্থ বিভাগের এক বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, এ তহবিল পরিচালনা করবে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো। ব্যাংক থেকে ২ শতাংশ সুদে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পমালিকরা তাদের শ্রমিকদের বেতন-ভাতার অর্থায়ন করতে পারবেন। তবে তহবিলের অর্থ মালিকদের হাতে বা অ্যাকাউন্টে যাবে না। ব্যাংক থেকে সরাসরি শ্রমিকদের স্যালারি অ্যাকাউন্ট বা বেতন হিসেবে চলে যাবে।

জানা যায়, এ ঋণ পরিশোধে মালিকদের লম্বা সময় দেওয়া হবে। এর মধ্যে গ্রেস পিরিয়ডও থাকবে। তবে কতদিনের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে হবে ও কতদিন গ্রেস পিরিয়ড থাকবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকগুলো এ তহবিল পরিচালনা করলেও তহবিলে ৫ হাজার কোটি টাকার জোগান দেবে সরকার। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোকে সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা দেবে। ব্যাংক এই ৫ হাজার কোটি টাকা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাবদ ঋণ দেবে ২ শতাংশ সুদে। আর সরকার ব্যাংকগুলোকে যে ৫ হাজার কোটি টাকা দেবে, ব্যাংক শিল্প মালিকদের কাছ থেকে ঋণের অর্থ আদায় করে সরকারকে ওই ৫ হাজার কোটি টাকাই ফেরত দেবে। যে ২ শতাংশ সুদ আরোপ করা হয়েছে, তা সরকার নেবে না। ব্যাংকগুলো এ তহবিল পরিচালন ব্যয় ও সার্ভিস চার্জ বাবদ ওই ২ শতাংশ অর্থ পাবে।

আজ অর্থ বিভাগের মনিটরিং সেল থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার এ তহবিল গঠনের সার্কুলার জারি হবে। এরপরে এ সার্কুলারের আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি গাইডলাইন তৈরি করে জারি করবে। ওই গাইডলাইন অনুযায়ী তফসিলি ব্যাংকগুলো এ তহবিল পরিচালনা করবে। এ তহবিল এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পরিচালিত হবে। অর্থাৎ চলতি মার্চ মাসের বেতন পরিশোধে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প মালিকরা চাইলে এ তহবিল ব্যবহার করে শ্রমিকদের বেতন দিতে পারবেন।

অর্থসূচক/এমআরএম/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ