নওগাঁর সেই যুবকের মৃত্যু মেনিনজাইটিসে
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page
করোনা সন্দেহে মেলেনি চিকিৎসা

নওগাঁর সেই যুবকের মৃত্যু মেনিনজাইটিসে

নওগাঁর রাণীনগরে ঢাকা থেকে আসা আল আমিন (২২) নামের এক যুবক জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। অসুস্থ আল আমিন তিনটি হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যায়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল (২৮ মার্চ) রাতে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ করোনা ভাইরাস সন্দেহে চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন তিনি।

তবে যুবক আল আমিনের (২২) মৃত্যু করোনা ভাইরাসে নয়, মেনিনজাইটিসে হয়েছে বলে মৃত্যু সনদে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসক।

আল আমিন রাণীনগর উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়নের অলঙ্কারদীঘি গ্রামের কৃষক মকলেসুর রহমানের ছেলে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দারিদ্র্যের কারণে তিন-চার বছর আগে থেকে নারায়ণগঞ্জে একটি কাপড়ের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন আল আমিন। গত কয়েকদিন আগে থেকেই তিনি জ্বর ও কাশির কারণে অসুস্থ ছিলেন। শুক্রবার সকালে তিনি অসুস্থ অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ থেকে রাণীনগরে আসেন। সে সময় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও কিছু লোক তাকে গ্রামে প্রবেশ করতে দেয়নি। চিকিৎসার জন্য তাকে রাণীনগর, নওগাঁ সদর ও আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তিনটি হাসপাতাল থেকেই চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা না করে ফিরিয়ে দেন।

আল আমিনের বাবা মকলেসুর রহমান জানান, তার ছেলে আগে থেকেই এই রকম রোগে ভুগছে। আল আমিন কাপড়ের দোকানে কাজ করে যা বেতন পায় তাই দিয়ে নিজের চিকিৎসা করতেন আর নিজে চলতেন। বাড়িতে কোনও টাকা পয়সা দিতে পারতেন না। খুব অসুস্থ অবস্থায় নওগাঁতে আসার পর শনিবার সকালে আল আমিনকে তিনটি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসা না পেয়ে নিয়ে যান রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে কিছু ওষুধ আর ইনজেকশন লিখে দেন চিকিৎসকরা। সেগুলো দিয়েও তার ছেলের শরীরের জ্বর কোনও ভাবেই কমছিল না। এরপর থেকে কোনও চিকিৎসক তার ছেলের আশেপাশে আর আসেননি। সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে অতিরিক্ত জ্বরে আল আমিন শনিবার রাতে মারা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

কালিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, ওই যুবক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি। তিনি মেনিনজাইটিস রোগে মারা গেছেন। চিকিৎসক তার মৃত্যু সনদে নিশ্চিত করে দিয়েছেন। নিজ গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

অভিযুক্ত স্থানীয় মেম্বার মোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু বলেন, ছেলেটা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এমন খবর পাওয়ার পর তার পরিবারকে বলেছি মেডিক্যাল রিপোর্ট নিয়ে গ্রামে আসেন। যদি করোনা ভাইরাস না থাকে তাহলে সমস্যা নেই। আর যদি ভাইরাস থেকে থাকে তাহলে চিকিৎসা করান, গ্রামে আসা যাবে না। গ্রামের সবার নিরাপত্তার কথা ভেবে বাধা দেওয়া হয়েছিল।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, ওই যুবক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি। তিনি মেনিনজাইটিস রোগে মারা গেছেন। তবে বিষয়টি নিশ্চিত না হয়ে ছেলেটাকে গ্রামে উঠতে না দিয়ে অমানবিক কাজ করেছে।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ