জাবির সেই শিক্ষার্থী করোনা নয়, অ্যাজমায় ভুগছেন
রবিবার, ৩১শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

জাবির সেই শিক্ষার্থী করোনা নয়, অ্যাজমায় ভুগছেন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই শিক্ষার্থী করোনায় নয় ভুগছেন অ্যাজমায়। চিকিৎসা শেষে আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে ছাড়পত্র দিয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অধীনস্ত সংক্রমণ ব্যাধি (আইডি) হাসপাতাল। তবে আগামী ১০ দিন তাকে নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাতে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ওই ছাত্রকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছিল।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে ওই ছাত্রকে রাজশাহী বক্ষব্যাধি হাসপাতালের করোনা ভাইরাস আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তাকে হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা (এমও) মামুন কবীর পরীক্ষা করেন। রোগীর সঙ্গে কথা বলে ও উপসর্গ পর্যালোচনা করে তাকে ১০ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়। তবে তার শরীরে করোনা ভাইরাস আছে কি না, তা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস জানান, ওই ছাত্রকে আইসোলেশন ইউনিটের চিকিৎসক মামুন কবীর চিকিৎসা দিয়েছেন। তিনি তাকে জানিয়েছেন, উপসর্গ পর্যালোচনায় নমুনা সংগ্রহ করার প্রয়োজন নেই বলে তিনি বুঝতে পেরেছেন। ওই ছাত্রকে প্রথমে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক তাকে ১০ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়ে ছাড়পত্র দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে চিকিৎসক মামুন কবীর গণমাধ্যমকে বলেন, ওই ছাত্রের অ্যাজমা সমস্যা রয়েছে। তবে তা করোনা ভাইরাসের উপসর্গ বলে মনে হয়নি। রাজশাহীতে যেহেতু নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা এখনো চালু হয়নি, তাই তাকে ১০ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।

ওই শিক্ষার্থী জানান, গত ১১ মার্চ রাজধানী ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় হাঁটার সময় একজন বিদেশির সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হলে বাড়ি ফেরেন তিনি। প্রায় দশদিন পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

সন্দেহ করছিলেন, তিনি করো না আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। এ নিয়ে ২২ মার্চ তিনি আইইডিসিআর হটলাইনে যোগাযোগ করেন। নমুনা সংগ্রহে ওই সময় তার কাছে আসার কথা জানিয়ছিল আইইডিসিআর। কিন্তু দুদিন পেরিয়ে গেলেও যোগাযোগ করেনি। এরপর আবারও ওই ছাত্র হটলাইনে যোগাযোগ করেন। সেইবারও আইইডিসিআর নমুনা পরীক্ষায় আসার প্রতিশ্রুতি দেয়।

সাড়া না পেয়ে ২৫ মার্চ আবারও তিনি যোগাযোগ করেন। ওই সময় লক্ষণ শুনে তিনি করোনা আক্রান্ত নন বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে নমুনা না নেয়ার কথাও জানানো হয় তাকে।

এই ঘটনায় হতাশ হয়ে ওইদিনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন ওই শিক্ষার্থী। এরপর ঘটনা জানাজানি হয়ে যায়।

শেষে নম্বর সংগ্রহ করে নিজ উদ্যোগে নাটোর জেলার করোনা হটলাইনে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারাই তাকে রামেক হাসপাতালে নেয়।

ওই শিক্ষার্থী আরও জানান, করোনা সন্দেহে স্বেচ্ছায় তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। হাসপাতাল থেকে ফিরে তিনি আবারও কোয়ারেন্টাইনে আছেন। তার বাড়িতে এখনও প্রশাসনের টানানো লাল নিশান উড়ছে।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ