'পকেটেও কিছু নাই ঘরেও কিছু নাই, কার কাছে বলবো আর কেই-বা দিবে'
রবিবার, ৩১শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘পকেটেও কিছু নাই ঘরেও কিছু নাই, কার কাছে বলবো আর কেই-বা দিবে’

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করায় সবচেয়ে বিপদে পড়েছে দেশের নিম্নআয়ের মানুষ। যারা দিন আনে দিন খায়। তাদের বন্ধ হয়ে গেছে উপার্জনের সব ধরনের পথ। এখন বাসায় বসে দুই বেলা খাবার কোথায় পাবেন সেটা নিয়েই ক্ষুধার যাতনায় দুর্বিষহ জীবন পার করছেন তারা।

আজ শনিবার বিকেলে মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় কথা হয় রিকশাচালক মন্টু মিয়ার সাথে। বলছিলেন, দুইদিন বাসায় বসেছিলাম এখন পকেটেও কিছু নাই, ঘরেও কিছু নাই, কার কাছে বলব আর কেই-বা আমাকে দিবে। তাই রিশকা নিয়া বাইর হইছি।

নাটোর থেকে ঢাকায় রিশকা চালাতে আসা মন্টু মিয়া মিরপুর ১ নাম্বারে থাকেন বোনের সাথে। তিনি বলেন, তার বোন গার্মেন্টসে চাকরি করেন। গার্মেন্টস বন্ধ করে দেওয়ায় বোনও বাসায় বসে আছেন। এখন ঘরে চাল-ডাল কিছুই নেই। আর কাছে কোনো টাকাও নেই। তাই করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও রিকশা নিয়ে ভাড়া মারতে বেরিয়েছেন মিন্টু।

রিশকা চালক মন্টু মিয়া বলেন, বাড়িতে বউ, সন্তান আছে। ২০ দিন আগে বাড়িতে টাকা পাঠাইছি। এখন তো টাকাই নাই কিভাবে পাঠাবো । আমারই তো চলা দায় হয়ে গেছে। যেমন এখন বাইর হইছি, না বাইর হইলে খাওন হইব না। এ জন্য আমি বাইরে বের হইছি। তাছাড়া আমারও ইচ্ছা ছিল ঘরে থাকার।

প্রতিটা নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যেই এমন সব গল্প লুকিয়ে রয়েছে। অনেকেই হয়তো খাবার না থাকায় উপোস জীবনযাপন করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে এসব নিম্নআয়ের মানুষকে সহযোগিতা করার কথা থাকলেও সেটা কতদূর করা হচ্ছে আর কতটুকুই বা এই নিম্ন আয়ের মানুষেরা সহায়তা পাচ্ছে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অর্থসূচক/এমআরএম/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ