করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু, বগুড়ায় ১৫ বাড়ি লকডাউন
বৃহস্পতিবার, ২৮শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু, বগুড়ায় ১৫ বাড়ি লকডাউন

করোনা উপসর্গ নিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় ১৫টি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

৪৫ বয়সী ওই ব্যক্তি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার একটি মুদি দোকানে কাজ করতেন। সেখান থেকে গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) উপজেলা ময়দানহাটা ইউনিয়নের দাড়িদহ গ্রামের বাড়িতে আসেন তিনি। এরপর থেকে তার প্রচণ্ড জ্বর ও সর্দি-কাশি শুরু হয়।

আজ শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই ব্যক্তির বাড়ির আশ-পাশের ১৫টি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর কবির জানান, মৃত ওই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহের জন্য স্বাস্থ্য দফতরের মাধ্যমে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (আইইডিসিআর) নমুনা সংগ্রহের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. গাওসুল আজিম চৌধুরী জানান, আইইডিসিআর কর্তৃপক্ষ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠাতে বলেছে। সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শিবগঞ্জের ইউএনও আলমগীর কবির জানান, ওই ব্যক্তি গাজীপুরে কর্মরত ছিলেন। মঙ্গলবার তিনি শিবগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে আসেন। তার সর্দি-কাশি এবং গায়ে জ্বর ছিল। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার অসুস্থতার খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একজন চিকিৎসককে পাঠানো হয়েছিল তার বাড়িতে। কিন্তু তখন তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

যেহেতু ওই ব্যক্তির মধ্যে করোনা উপসর্গ ছিল সে কারণে তার শরীরের নমুনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই ব্যক্তির বাড়ির আশ-পাশের ১৫টি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে, যোগ করেন ইউএনও আলমগীর কবির।

এদিকে মৃত ব্যক্তির স্ত্রী অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, তার স্বামী গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার একটি মুদি দোকানে কাজ করেন। গত মঙ্গলবার তিনি বাড়িতে ফেরেন। পরের দিন তাঁর প্রচণ্ড জ্বর আসে। শুরু হয় সর্দি–কাশি। স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে জ্বরের ওষুধ সেবন করছিলেন তিনি। কিন্ত গতকাল রাতে অবস্থার চরম অবনতি হয়। বাড়িতে আট বছরের মেয়ে ছাড়া তার সঙ্গে আর কেউ নেই। গতকাল মধ্যরাতে তার স্বামী প্রচণ্ড জ্বরে একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েন। দিশেহারা হয়ে প্রথমে তিনি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ফোন দেন। কিন্ত জ্বরের রোগী শোনার পর কেউ আসতে রাজি হয়নি। এরপর হাসপাতালে নেওয়ার জন্য পাড়া–প্রতিবেশী ও পরিচিতজনদের সহযোগিতা চান। করোনা ভাইরাসে আত্রান্ত হওয়ার আতঙ্কে কেউ কাছে আসতে রাজি হননি। এরপর তিনি একে একে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শিবগঞ্জ থানার পুলিশ, শিবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসে ফোন দেন সহযোগিতার জন্য। কোনো সাড়া না পেয়ে আইইডিসিআরের হটলাইনে ফোন দেন। কিন্তু লাইন পাননি। পরে ফোন দেন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের হটলাইনে।

আজ হটলাইনে বিষয়টি জানার পর শেষে এগিয়ে আসেন মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিক আমিন। তিনি বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জন গউসুল আজিম চৌধুরী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তীকে জানান। পরে সিভিল সার্জন একজন চিকিৎসা কর্মকর্তাকে ওই ব্যক্তির বাড়িতে পাঠান।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিক আমিন বলেন, হাসপাতালের হটলাইনে ফোন করা নারীর বর্ণনা শুনে মনে হলো, মানবতার কাছে আমরা হেরে গেছি। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হোক বা না হোক, একজন নাগরিক হিসেবে তার চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার আছে। আমরা কেউ তার পাশে দাঁড়াতে পারিনি। আমি নিজেও সকাল থেকে আইইডিসিআরের হটলাইনে যোগাযোগের দীর্ঘ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। শেষে সিভিল সার্জন ও পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ