লকডাউনে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ ডব্লিউএইচও'র
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

লকডাউনে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ ডব্লিউএইচও’র

মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে লকডাউনে চলে গেছে। লকডাউনে সরকারের পক্ষ থেকে মূলত গণপরিবহন, সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট বন্ধ রাখতে বলা হয়। ভাইরাসের বিস্তার রোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়। প্রয়োজনে মাঠে সেনাবাহিনী নামানো হয়। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য, কাঁচা বাজার এবং ওষুধের দোকান ছাড়া সব ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয়া হয়।

কিন্তু এই লকডাউন বা শাটডাউন আসলে চলতে পারে কতদিন ধরে? এই লকডাউন পরিস্থিতিতে কী হবে? এগুলো কী করোনা ভাইরাস আসলেই ঠেকাতে পারবে?

এ বিষয়ে মহামারিতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে জনসাধারণের সচেতনতায় একটি ভিডিওবার্তা দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর প্রধান ট্রেড্রস। এতে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং মানসিক শক্তি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাধনম ঘেব্রেইয়েসুস বুধবার এক প্রেস বিফ্রিংয়ে বলেন, আমরাও বুঝি যে এসব দেশ আসলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে যে কখন এবং কীভাবে এসব পদক্ষেপগুলো শিথিল করা যায়। এই পদক্ষেপগুলো কার্যকর থাকার সময়টাতে দেশগুলো কী ব্যবস্থা নেয় – তার উপর এর উত্তর নির্ভর করছে।

তিনি বলেন, মানুষকে ঘরে থাকতে বলা এবং চলাচল বন্ধ করার অর্থ হচ্ছে সময় নেয়া এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর চাপ কমানো। কিন্তু বিভিন্ন দেশ এসব পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও ভাইরাস বিস্তারের আশঙ্কা কমাতে পারবে না। কেননা এই সময়টাকে কাজে লাগাতে হবে। কীভাবে এই সময়টাকে কাজে লাগাবে এসব দেশ- সেটিও একটি প্রশ্ন। এই লকডাউনের সময়টাতে ভাইরাসটিকে অ্যাটাক বা হামলা করার জন্য তৈরি হতে দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক।

আন্তর্জাতিক এ সংস্থা জানিয়েছে, লকডাউন বা শাটডাউন পরিস্থিতিতে দেশগুলোকে একান্ত জরুরি কিছু বিষয়ের দিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে।

এই বিষয়গুলোই লকডাউনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে ভাইরাস বিস্তারের আশঙ্কা অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। সেগুলো হলো-

১. যতটা সম্ভব স্বাস্থ্য সেবা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যা বাড়ানো, তাদের প্রশিক্ষণ ও সেবা কাজে নিয়োগ দান।

২. কমিউনিটি লেভেলে সম্ভাব্য সংক্রমণের প্রতিটি ঘটনা খুঁজে বের করার ব্যবস্থা করা।

৩. টেস্ট করার জন্য সকল ব্যবস্থার গতি বাড়ানো।
৪.চিকিৎসা এবং আইসোলেট করার জন্য রোগীদের পর্যাপ্ত সুবিধার ব্যবস্থা করা।

৫. রোগীদের সংস্পর্শে আসা প্রত্যেকের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

৬. ইতোমধ্যে কোভিড-১৯ মোকাবেলা করার জন্য গৃহীত সরকারি পদক্ষেপগুলো পুর্নমূল্যায়ন করা।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এই ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করা সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ বলে মনে করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এই ব্যবস্থাগুলো নিশ্চিত করার পর স্কুল-কলেজ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুললেও অসুবিধা নেই।

ঘেব্রেইয়েসুস বলছেন, কঠোর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাইতে করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের খুঁজে বের করা, আইসোলেট করা, টেস্ট করা এবং নজরদারিতে রাখার বিষয়ে কঠোর ও আগ্রাসী পদক্ষেপ নেয়া গেলেই সবচেয়ে অল্প সময়ে ও কার্যকর উপায়ে ভাইরাসটিকে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

সুত্র: বিবিসি

অর্থসূচক/এসএস/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ