করোনাঃ জেল থেকে বন্দিদের মুক্তি দিচ্ছে অনেক দেশ
শুক্রবার, ২৯শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনাঃ জেল থেকে বন্দিদের মুক্তি দিচ্ছে অনেক দেশ

করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে নাকাল বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে নিজেদের সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি সারাদেশে লকডাউন তথা পরিবহন, কল-কারখানা ও অফিস আদালত বন্ধ করে দিয়েছে অনেক দেশ। কোন কোনো দেশ জরুরী অবস্থা জারি করেছে। ঘরবন্দী করে দেওয়া হয়েছে মানুষকে। একজনের বেশি মানুষের চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি দেশ আরও একধাপ এগিয়ে জেলের বন্দিদের একাংশকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, সৌদি আরব, ইরান, কেনিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে কিছু বন্দিকে ছেড়ে দিয়েছে অথবা ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এদিকে গতকাল জাতিসংঘের অধিকার বিভাগের প্রধানও করোনার ঝুঁকি কমাতে জেল থেকে কিছু বন্দিকে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

খবর সিএনএন, আল জাজিরা, রয়টার্স ও  ইউএস টুডে’র

যুক্তরাষ্ট্রঃ

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য কর্তৃপক্ষ স্বল্প মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত তথা কম গুরুতর অপরাধে সাজাপ্রাপ্তদের ছেড়ে দিতে শুরু করেছে। দেশটির ক্লিভল্যান্ড রাজ্য ইতোমধ্যে ৭০০ বন্দিকে ছেড়ে দিয়েছে। টেনেসি রাজ্যে মুক্তি দেওয়া হয়েছে; ক্যালির্ফোনিয়া ও অকল্যান্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে ২৫০ করে বন্দিকে। নিউজার্সি কর্তৃপক্ষ ১০০০ বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

নিউইয়র্কের নিউইয়র্ক সিটি’জ বোর্ড অব কারেকশন কর্তৃপক্ষকে ১০০০ বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন।

কানাডাঃ

কানাডার ওন্টারিও প্রদেশে ১০০০ বন্দিকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য রাজ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

ইরানঃ

কারাবন্দি মুক্তির সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটছে ইরানে। দেশটি ৮৫ হাজার বন্দিকে মুক্ত করে দিচ্ছে। এর মধ্যে ১০ হাজার বন্দির ক্ষমা প্রার্থণার আবেদন মঞ্জুর করে স্থায়ীভাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বাকীরা শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি পেয়েছেন।

জেল-প্রতীকী ছবি

সৌদি আরবঃ

সৌদি আরব ইমিগ্রেশন আইনের বিভিন্ন ধারা লংঘনের দায়ে রেসিডেন্সি ও বিদেশি বন্দিদের মধ্য থেকে ২৫০ জনকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জার্মানিঃ

জার্মানির নর্থ রাইন প্রদেশে সরকার ১০০০ কারবন্দিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদের সবারই সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি।

কেনিয়াঃ

আফ্রিকার দেশটি কয়েক হাজার কারাবন্দিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই কারগারগুলোর মান তত উন্নত নয়। অনেক দেশে জায়গার সঙ্কট তীব্র। ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি কারাবন্দি রাখা হয়। তাই কোনোভাবে কারাগারে কনো বন্দি করোনায় আক্রান্ত হলে তাকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া মুশকিল। আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার আগেই ভারাসটি সহজেই আরও অনেক বন্দির মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তখন সেটি সামাল দেওয়া অত্যন্ত দুরুহ হবে।

গত সপ্তাহে অর্থসূচককে দেওয়া এক সাক্ষাতকালে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বাংলাদেশে করোনাভাইরাসজনিত সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে কারাবন্দি মুক্তিসহ বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ছোটখাট অপরাধে যারা শাস্তি পেয়ে জেলে আছেন, যাদের শাস্তির মেয়াদ শেষের পথে এমন কারাবন্দিদেরকে অবিলম্বে মুক্ত করে দেওয়া উচিত। কারণ বাংলাদেশের প্রতিটি জেলে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি আছে। তাদেরকে গাদাগাদি করে রাখা হয়। এখানে সামাজিক দূরত্বের কোনো সুযোগ নেই। তাই কোনোভাবে একজন বন্দি করোনায় আক্রান্ত হলে সহজেই অন্যদের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এদিকে গত সপ্তাহেই সরকার দেশের সব কারাগারে বন্দীদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। করোনার ঝুঁকি কমাতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ