করোনায় বয়স্কদের মৃত্যুহার বেশি বাংলাদেশে
শুক্রবার, ২৯শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনায় বয়স্কদের মৃত্যুহার বেশি বাংলাদেশে

বাংলাদেশ করোনায় আক্রান্ত বয়স্ক মানুষ বেশি মারা যাচ্ছে। এ পর্যন্ত যে কয়জন বাংলাদেশে মারা গেছেন তাদের সবার বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়াতেও করোনায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মৃত্যুহার বেশি বাংলাদেশে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় আক্রান্ত বয়স্কদের আগে থেকেই অন্যান্য রোগ থাকায় তারা মারা যাচ্ছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পর্যন্ত আইইডিসিআরের মতে, বাংলাদেশে ৪৪ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে পাঁচজন মারা গেছেন। সুস্থ হয়েছে ১১ জন করোনা আক্রান্ত রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত নতুন রোগী পাওয়া গেছে ৫ জন।

আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত যারা মারা গেছেন তারা সবাই ৬০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে। বয়স্কদের বেশি করোনায় মারা যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, বয়স্কদের আক্রান্ত হওয়ার কারণ হলো বয়সের কারণেই তারা ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, কার্ডিওভাস্কুলার রোগ, কিডনি জটিলতা, অ্যাজমাসহ (হাঁপানি) অন্যান্য রোগে ভুগে থাকেন। সে কারণে বয়স্কদের করোনার চিকিৎসা করতে হলে এ সম্বন্ধে প্রশিক্ষিত ডাক্তার ও নার্স লাগবে। তাদের জন্য লাগবে ভেন্টিলেশন-আইসিইউ সুবিধা। তাদের চিকিৎসার জন্য সার্বক্ষণিক ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট সম্বন্ধে দক্ষ চিকিৎসক, প্যারামেডিক ও নার্স লাগবে।

বাংলাদেশে যে বয়স্কদের মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি তা আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার বক্তব্য থেকেই পাওয়া যায়। অধ্যাপক ফ্লোরা বয়সভিত্তিক আক্রান্তদের তথ্য দিতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশে ষাটোর্ধ্ব মোট ছয়জন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত যে পাঁচজন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, তাদের সবারই কো-মরবিডিটি (করোনার সাথে অন্যান্য অসুখ) ছিল।

বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত বয়স্ক ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হলে শতকরা তা ৮৩-এর বেশি হয়। এ সংখ্যাটি করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত চীন থেকেও বেশি। চীনে ৬০ থেকে ৬৯ বছর বয়সীদের মৃত্যু ছিল ৩.৬ শতাংশ, ৭০ থেকে ৭৯ বছর বয়সীদের মৃত্যু ছিল ৮ শতাংশ এবং ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে করোনা আক্রান্তদের মৃত্যু ছিল ১৪.৮ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ৮০ বছরের বেশি বয়সীদের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য নেই। এখানে যারা মারা গেছেন তাদের সবার বয়স ৬০ থেকে ৭৯ বছরের মধ্যেই ছিল। চীনের এ তথ্য থেকেই তুলনা করা যায় যে, বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যুহার বেশি।

তাছাড়া ইউরোপেও এত বেশি বয়স্ক ব্যক্তি মারা যাননি। বয়স্কদের মৃত্যু কমানো সম্ভব হবে, যদি তাদের জন্য আরো বেশি প্রশিক্ষিত চিকিৎসক বাড়ানো এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের আইসিইউ ও ভেন্টিলেশন সাপোর্ট সিস্টেম শক্তিশালী করা যায়।

এদিকে দক্ষিণ এশিয়াযর মধ্যে বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সবথেকে মৃত্যুহার বেশি। ভারতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুহার পর্যালোচনা করে দেখা যায় ৬৯৩ জন করোনায় আক্রান্ত হলেও মাত্র ১৩ জন মারা গেছে। পাকিস্থানে ১ হাজার ১০৬ জন আক্রান্ত হলেও মারা গেছে মাত্র ৮ জন। শ্রীলঙ্কায় ১০২ জন আক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত কেউ মারা যায় নাই। এছাড়া মালদ্বীপে ১৩ জন, নেপালে ৩ জন এবং ভুটানে ২ জন আক্রান্ত হলেও কেউ মারা যায় নাই। সেখানে বাংলাদেশে ৪৪ জন আক্রান্ত হলেও মারা গেছে ৫ জন। যা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি।

আমাদের দেশে আক্রান্ত তুলনায় বেশি রোগী মারা যাওয়ার কারণ হিসেবে স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খান বলেন, আমাদের দেশে যারা মারা গেছেন তারা অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিলেন। আর যারা মারা গেছেন তাদের বয়স একটু বেশি। তবে আমাদের দেশে আক্রান্ত কম হচ্ছে সেটাকে তিনি একটা ভালো দিক হিসেবে উল্লেখ করেন।

রোগীদের সেবার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের দুর্বলতা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোগটা আমাদের দেশ তথা সারা বিশ্বের জন্যই নতুন। এক্ষেত্রে একটু হয়তো সমস্যা হচ্ছে। তবে আমাদের ডাক্তাররা তাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলে তিনি দাবি করেন।

অর্থসূচক/এমআরএম/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ