ArthoSuchak
বুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনায় বাসায় গড়ে তুলুন কাজের পরিবেশ

বর্তমান আতঙ্কের আরেক নাম করোনা ভাইরাস। যা কাল বৈশাখী ঝড়ের মতো হঠাৎ করে এসে পুরো পৃথিবীকেই যেন অভিশপ্ত করে তুলেছে। ভয়ে যেন কেউ বাহিরে পা রাখার সাহস পাচ্ছে না। একের পর এক দেশ লকডাউন করে দিচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও বাধ্য হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হচ্ছে। আবার কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাসায় বসে কাজ করার কথা বলছে।

এখন প্রশ্ন হলো বাসায় বসে কর্মীরা কীভাবে কাজ করবে বা তাদের উৎপাদনশীলতা কমে যাবে কী? বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে সে প্রশ্নের উত্তর উঠে এসেছে।

গুগল, মাইক্রোসফট, টুইটার, হিটাচি, অ্যাপল, আমাজন, শেভরন, সেলসফোর্স, স্পটিফাইয়ের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্মীদেরও বাড়ি থেকে কাজ করতে বলেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্তরাজ্য, জাপান থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কয়েক দিন ধরেই বাড়িতে বসে কাজ করছেন। আমাদের দেশের টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোও ইতিমধ্যে এ পথে হেঁটে চলেছে। এর বাইরেও বেশ কয়েকটি ছোট-বড় প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে বলেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কিছুদিন আগে করোনা ভাইরাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে মহামারি বলায় ‘বাড়ি বসে অফিস’ ধারণাটি অনেকের জন্য স্বাভাবিক নতুন ধারণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই প্রথমবারের মতো এ ধরনের অভিজ্ঞতার মুখে পড়বেন বলেলেও ভুল হবে না। বাড়িতে বসে কাজ করে কীভাবে উৎপাদনশীলতা ধরে রাখা যায় সেই বিষয়টি এখন খেয়াল রাখা জরুরি। এ কাজের জন্য বাড়িতেই তৈরি করতে হবে কাজের উপযুক্ত পরিবেশ এবং মানতে হবে দূরে বসেও দলীয়ভাবে কাজ করার সব নিয়মকানুন।

জেনে নিন কীভাবে এসব কাজ করতে পারেন:

অফিস টাইম মানে অফিস টাইম। আপনি আপনার অফিস টাইমের মতো সকল প্রকার আলসতা দূর করে বসে পরুন কাজে। আর বাড়িতে বসে কাজ করা মানেই যা খুশি তা করা নয়। করোনাভাইরাসের কারণে হোক বা অন্য কারণেই হোক, বাড়ি থেকে কাজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যোগযোগ ব্যবস্থা সুস্পষ্ট। আপনার অফিসের বস যেমন অফিসে সব সময় আপনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারে, বাড়িতে বসে কাজের ক্ষেত্রেও যেন তেমনটা হয় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। তিনি আপনার কাছ থেকে কী আশা করছেন, তা জানা সবচেয়ে জরুরি।

মনে রাখবেন সবার আগে কাজের পরিবেশ তৈরি করে তারপর বসবেন। তার জন্য সবার আগে যেটা প্রয়োজন তা হলো ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্যাড। আর আরেকটা জিনিস খেয়াল রাখবেন বাসায় আছেন বলে যে শুয়ে বসে বা পরিবারের সঙ্গে সময় দিয়ে কাজ করবেন তা কিন্তু ভুলেও করবেন না। গত বছর অনলাইন ব্র্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি বাফার ২ হাজার ৫০০ জনকে নিয়ে একটি গবেষণা চালায়। তাতে দেখা যায়, বাড়িতে বসে কাজের দ্বিতীয় বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে একাকিত্ব। কর্মী একাকী বোধ করলে তখন তার উৎসাহ কমে যায় এবং ঠিকমতো কাজ করতে পারে না।

আপনার বাড়ির মধ্যে এমন সীমানা তৈরি করুন, যা আপনার পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারে। যখন দরজা বন্ধ করে দেবেন মনে করুন, আপনি সেখানে নেই। অফিসে বসেই কাজ করছেন। আপনার যে কাজটা জরুরি তা আগেই সেরে ফেলুন। আর আজ কী কাজ আপনার জন্য আসতে পারে তা ঠিকঠাক বুঝে নিন। সবসময় অনলাইনে একটিভ থাকার চেষ্টা করবেন যেন আপনার সহকর্মীদের সাথে যোগাযোগ অফিসের মতোই থাকে। ইমেইল, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যা, স্কাইপ সবসময় চেক করবেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইনফরমেশন যেন মিস না হয়ে যায়।

বাড়িতে বসে কাজের ক্ষেত্রেও ২০ মিনিটের জন্য সকালে কফি খাওয়ার জন্য বা বিকেলে কিছুক্ষণ ব্যায়ামের জন্য কাজের বাইরে থাকতে পারেন। যদি যাতায়াতের ঝামেলা কমে যায়, তবে কাজের জন্য একটি সীমারেখা তৈরি করতে পারবেন সহজেই। এর বাইরে নিজের জন্য বাড়তি কিছু সময় পাবেন। মনের মধ্যে সত্যিকারের কাজের একটি চিত্র ধরতে পারলে দূরে বসে কাজের সুবিধা পাওয়া যাবে।

করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মীকে কতক্ষণ বাড়িতে থাকতে হবে, তা পরিষ্কার নয় বলে বাড়তি সমস্যা সৃষ্টি করছে। অফিসের পরিবেশ থেকে হঠাৎ ভিন্ন পরিবেশে কাজ শুরু করার পর পরিবর্তনটা সহজে মেনে নেওয়া কঠিন হয়। সেক্ষেত্রে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবেন।

পরিশেষে বলা যায়, বাসায় বসে কাজ করার যেমন সুবিধা রয়েছে তেমনি চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সুবিধা হলো আপনি বাসায় বসে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করছেন। আবার চ্যালেঞ্জ হলো পরিবারের সাথে থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ বজায় রেখে কাজ করাটাও কিন্তু কঠিন। তবে এই সংকটময় মুহূর্তে সকল চিন্তা ভাবনা দূরে রেখে অফিসের কথা চিন্তা করে কাজ করার মনোভাব নিয়ে বাসায় গড়ে তুলুন আপনার কাজের পরিবেশ।

অর্থসূচক/এনএম/এএইচআর

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ