ArthoSuchak
শুক্রবার, ১০ই এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page
তবে নিশ্চিত হতে ল্যাবে পরীক্ষা জরুরী

বাড়িতেই পরীক্ষা করা যাবে করোনায় আক্রান্ত কিনা

মরণব্যাধি করোনা ভাইরাস বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। একের পর এক গ্রাস করে যাচ্ছে। এই মৃত্যু মিছিলে সাধারণ মানুষ ঘরের বাহিরে বের হতেও সাহস পাচ্ছে না। ভয়াবহ অবস্থা চীনে, ইরান এবং ইতালিতে, যেন এক একটা মৃত্যুপুরী। তবে বিজ্ঞানীরা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শও দিচ্ছেন। তারা বলছেন, কিছু নিয়ম মেনে চললেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। এছাড়া ঘরে বসেই জানা যাবে করোনায় আক্রান্ত কিনা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হলে তার দেহে এর চিহ্ন বা লক্ষণ খুঁজে পেতে অনেকদিন সময় লেগে যায়। সাধারণত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জ্বর বা কাশি নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার আগেই তার ফুসফুসের ৫০% ফাইব্রোসিস (সূক্ষ্ম অংশুসমূহের বৃদ্ধি) তৈরি হয়ে যায়, যার মানে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।

অন্যদিকে সামান্য জ্বর-কাশি হলেই এখন অনেকে সেটি করোনা ভেবে ভড়কে যাচ্ছেন। কিন্তু জ্বর-কাশি মানেই করোনাভাইরাসের আক্রমণ নয়। এটি মৌসুমি ফ্লু’র কারণেও হতে পারে। শীত ঋতু শেষ হয়ে বসন্ত চলছে। সামনে গ্রীষ্ম কাল। এই মৌসুম পরিবর্তনের সময় জ্বর, সর্দি, কাশি ইত্যাদি সাধারণ বিষয়।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও জ্বর, কাশি, সর্দি ইত্যাদি হয়। কিন্তু বাড়তি উপসর্গ হচ্ছে শ্বাসকষ্ট। তাই জ্বর, কাশি হলেই ঘাবড়ে না গিয়ে নিজেই দেখে নিতে পারেন আপনার মধ্যে করোনার কোনো লক্ষণ আছে কি-না। আর সে জন্যে করতে পারেন একটি ছোট্ট পরীক্ষা এবং সেটি আপনার ঘরে বসেই।

পরীক্ষাটা হলো:
পরিচ্ছন্ন পরিবেশে লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে সেটাকে দশ সেকেন্ডের কিছুটা বেশি সময় ধরে আটকে রাখুন। যদি এই দম ধরে রাখার সময়ে আপনার কোনও কাশি না আসে, বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব না হয়, মানে কোনও প্রকার অস্বস্তি না লাগে, তার মানে আপনার ফুসফুসে কোনো ফাইব্রোসিস তৈরি হয়নি অর্থাৎ কোনো ইনফেকশন হয়নি, আপনি ঝুঁকিমুক্ত আছেন।

মনে রাখা ভালো, করোনাভাইরাস মূল আঘাতটাই কিন্তু করে ফুসফুসে। আক্রমণের মাত্রা তীব্র হয়ে গেলে রোগী শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারে না, তাকে ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে সহায়তা করা হয়। তাই শ্বাসকষ্টের সমস্যা না হওয়ার মানে দাঁড়ায় আপনার জ্বরটি অন্য যে সমস্যার কারণেই হয়ে থাকুক না কেন, সেটি করোনার কারণে হয়নি।

নিশ্চিত হতে ল্যাবে পরীক্ষা

জ্বর, সর্দি, কাশি ও গায়ে ব্যাথার সঙ্গে যদি শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় তাহলে কিন্তু সেটি বেশ উদ্বেগের কারণ হতে পারে। এমন অবস্থায় আপনাকে অবশ্যই ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে হবে।

এখন পর্যন্ত শুধু রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এ এই পরীক্ষার সুযোগ আছে। তবে কিছু দিনের মধ্যেই বিভাগীয় শহর এবং নির্ধারিত কিছু জেলার হাসপাতালে এই সুবিধা পাওয়া যাবে।

জ্বর না হলেই যে করোনামুক্ত তার গ্যারান্টি নেই

জ্বর-কাশি হলেই যেমন তা করোনা নয়; তেমনই জ্বর না থাকলেও এই মুহুর্তে যে আপনি করনোমুক্ত তার কিন্তু নিশ্চয়তা নেই। কারণ কারো দেহে করোনাভাইরাস প্রবেশ করার পর সেটি বেশ কয়েক দিন সুপ্ত থাকতে পারে। এমনকি ৫/৭ দিন সময়ও লেগে যেতে পারে দেহে প্রবেশের পর জ্বর আসা পর্যন্ত। তাই কারো দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর সেটি তিনি টের পাওয়ার আগেই তার মাধ্যমে আরও অনেকের দেহে ভাইরাস সংক্রমিত হয়ে যেতে পারে। তাই বর্তমান সময়ে সুস্থ-অসুস্থ সবার উচিত বেশি ভিড় আছে এমন কোনো জায়গায় না যাওয়া, যতটুকু সম্ভব বাসায় বা বাড়িতে থাকা, সব সময় পরিচ্ছন্ন থাকা এবং প্রযোজ্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।

 

অর্থসূচক/এনএম

এই বিভাগের আরো সংবাদ