করোনায় ইতালিতে আরও ৬৫১ জনের মৃত্যু

ইতালিতে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। দেশটিত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৬৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে একদিনে মৃত্যুর সংখ্যা ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এনিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ৪৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। চীনে সংখ্যাটা ৩ হাজার ২৬১।

এর আগে গতকাল ইতালিতে রেকর্ড ৭৯৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। এদিকে একদিনে নতুন করে আক্রান্ত ৫ হাজার ৫৬০ জন। দেশটিতে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৪৬ হাজার ৬৩৮ জন। যা আগে ছিল ৪২ হাজার ৬৮১ জন। এনিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫৯ হাজার ১৩৮ জন। যা শনিবার ছিল ৫৩ হাজার ৫৭৮ জন।

আক্রান্তদের মধ্যে ৭ হাজার ২৪ জন অবশ্য সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো ইতালিতে বর্তমানে ১ হাজার ৯ জন কোভিড-১৯ রোগী বিভিন্ন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যাদের অবস্থাও ভালো না। যার ফলে দিনের পর দিন জনগণের মাঝে আতঙ্ক ও উৎকন্ঠা বেড়েই যাচ্ছে।

ইতালিতে মহামারি করোনাভাইরাস সবচেয়ে বেশি ছোবল মেরেছে উত্তরের লোম্বার্ডি অঞ্চলে। শুধু ওই অঞ্চলটিতেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৪৫৬ জন মানুষের। এছাড়া আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও সেখানে ২৭ হাজার ২০৬। গত একদিনে আক্রান্ত বেড়েছে ৩ হাজার ৯৫টি।

ইতালিতে গৃহবন্দি জনজীবন আর কঠিন নিয়মকানুনও ঠেকাতে পারছে না করোনার সংক্রমণ। তবুও যেন মৃত্যু থামছে না, হুহু করে বেড়েই চলেছে। করোনার ভয়ানক আঘাতে দিনদিন দেশটি মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি বিভাগের কাজ ছাড়া সব কার্যক্রম ৩ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে ইতালি সরকার। চলাফেরাও সীমিত করা হয়েছে।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিওসেপ কোঁতে বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় কড়াকড়ি আরো বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মানুষের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় উৎপাদন ছাড়া আর সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছি আমরা।

গত মাসে ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় লোমবার্ডি এলাকাতেই প্রথম ভাইরাসটির প্রকোপ শুরু হয়। বর্তমানে সেখানকার হাজার হাজার মানুষকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। সেখানে সহায়তা দিচ্ছেন চীনের মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞরা। এদিকে ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে লকডাউন কার্যকর করে নাগরিকদের ঘরে থাকতে বাধ্য করতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে বিশ্বের ১৮৯ দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯। এতে মৃত্যু হয়েছে ১৪ হাজার ৭৩০ জনের। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন তিন লাখ ৪৩ হাজার ২০৯ জন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৭ হাজার ৩৪৪ জন।

অর্থসূচক/এএইচআর