ArthoSuchak
মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনা আতঙ্কে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম

করোনার প্রভাব পড়েছে বাজারে। বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম। চাল-ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আলু, ডিমসহ বেড়েছে অন্যান্য পণ্যের দাম। এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন করোনা আতঙ্কে ক্রেতারা বেশি করে পণ্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন- ফলে বাজারে সংকট তৈরি হচ্ছে। এতেই দাম বাড়ছে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, আগারগাঁও, কল্যাণপুর ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ সব তথ্য জানা যায়।

গত দুই দিন আগেও ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পেঁয়াজের দাম এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কোথাও ৭০ টাকা বিক্রি হলেও আবার কোথাও ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি আদা ও রসুনের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে আর আমদানি করা চায়না ও ইন্ডিয়ান রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। ১৫০ টাকার আদা বিক্রি হচ্ছে এখন ১০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকায়।

এদিকে ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আলু এখন বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। যে আলু গত সপ্তাহে প্রতি পাল্লা ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। বাজারে ৫ লিটার সয়াবিন তেলের বোতল এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকায়। আর ১ লিটার সয়াবিন তেলের বোতলগুলো বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। কেজি প্রতি ১০ টাকা বেড়ে মসুরের ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকায় তা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। অর্থাৎ ডজন প্রতি ডিমের দাম বেড়েছে ২০ টাকা।

এদিকে কিছুটা বেড়েছে গরুর মাংসের দাম। ৫৩০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে এখন ৫৭০ থেকে ৫৮০ টাকায়। আবার কোথাও কোথাও ৬০০ টাকা বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে নতুন করে দাম বাড়েনি বয়লার মুরগি ও পাকিস্তানি মুরগির দাম। বয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। পাকিস্তানি কক বিক্রি হচ্ছে ২২৫ টাকা থেকে ২৩০ টাকায়। খাসির মাংস আগের মতোই ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। কেজিতে ৩ টাকা কোনোটা ৫ টাকা আবার কোনটা ৭ টাকা বেড়েছে। ৫৩ টাকায় বিক্রি হওয়া মিনিকেট চাউল এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকায়। এদিকে ৩৬ টাকায় বিক্রি হওয়া ২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকায়। পাইজাম ৫ টাকা দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়।

শেওড়াপাড়ার গার্মেন্টস কর্মী মিতু আক্তার বলেন, গত সপ্তাহে যে চাল কিনেছিলাম ৪০ টাকা কেজি। আজ তার দাম চাচ্ছে ৪৮ টাকা। এবাবে যদি দাম বেড়ে যায় তাহলে আমাদের মতো গরীব মানুষের কি হবে। যাদের টাকা আছে তারা বেশি করে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের টাকা তো এত টাকা নাই যে আমরা বেশি করে কিনে রাখবো।

আগারগাঁওয়ের ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম বলেন, সবাই প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি করে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। যার দরকার ২ কেজি। সে কিনে নিচ্ছেন ২০ কেজি। তাহলে বাজারে পণ্য মজুদ থাকবে কি করে। দশজনের বাজার তো একজন কিনে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ চাইলে তো আমরা না কর পারি না।

এদিকে কাঁচাবাজারে খুব একটা প্রভাব পড়েনি করোনার। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে শাকসবজি। তেমন একটা দাম বাড়েনি। কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, লাউ, করলা, টমেটো, শসা, শিম, শালগম, মুলা, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন বাজারে ভরপুর রয়েছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে কোন সবজির দাম কমেনি।

গত কয়েক সপ্তাহের মতো এখনো বাজারে সব থেকে দামি সবজির তালিকায় রয়েছে করলা। গত সপ্তাহের মতো করলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা। মাঝারি আকারের লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা পিস। বরবটির কেজি ৮০-১০০ টাকা। শসা ২০-৩০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০, পাকা টমেটো ৩০-৪০, শিম ৩০-৪০, ফুলকপি-বাঁধাকপি পিস ৩০-৩৫, গাজর ২০-৩০, শালগম ২৫-৩০, মুলা ৩০-৩৫, বেগুন ৪০-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর কাঁচা মরিচের পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা।

এদিকে মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০-৫০০ টাকা। তেলাপিয়া ১৩০-১৭০, শিং ৩০০-৪৫০, শোল মাছ ৪০০-৭৫০, পাবদা ৪০০-৫০০, টেংরা ৪৫০-৬০০, নলা ১৮০-২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

অর্থসূচক/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ