ArthoSuchak
সোমবার, ৩০শে মার্চ, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

মুজিব বর্ষ উদযাপনে প্রস্তুত ব্যাংকগুলো

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর মুজিব বর্ষ শুরু হবে। দিনটি উদযাপনে বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়েছে দেশ ও বিদেশের মানুষ। দিনটিকে ঘিরে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বিভিন্ন প্রস্তুতি শেষ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রিশ তলা ভবনের নিচে বঙ্গবন্ধুর জীবনের বিভিন্ন সময়ের ছবি টানানো হয়েছে কর্মকর্তাদের জন্য। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগনানা শুরু হয়েছে ৭ মার্চ। সাজানো হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিটি প্রবেশ দ্বার। পাশাপাশি লাল সবুজ আলোতে আলেকিত রাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ত্রিশ তলা ভবনের নিচে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জীবনের বিভিন্ন সময়ের ৫৫টি ছবি টানানো হয়েছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে সুবিধা অনুযায়ী ছবিগুলো ঘুরে ঘুরে দেখছেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা। জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে সম্মান জানানো হবে আগামীকাল। ১৭ মার্চ সকাল আটটায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

এদিকে, দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন শাখায় মুজিব কর্নার উদ্বোধন করেছে। এর মধ্যে সরকারি খাতের অগ্রণী ও রূপালি ব্যাংক মুজিব কর্নার স্থাপন সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি অন্য সরকারি ব্যাংকগুলোতেও এটি প্রক্রিয়াধীন আছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে- মার্কেন্টাইল, ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি, আল-আরাফাহ ইসলামি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংক ইতিমধ্যেই মুজিব কর্নার স্থাপন করেছে। জানা গেছে, এবছরের মধ্যে দেশের সবগুলো ব্যাংক উদ্বোধন করবে মুজিব কর্নার।

ব্যাংকাররা জানান, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাংকগুলো মিলাদ মাহফিল, মুজিব কর্নার উদ্বোধন, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল উদ্বোধন, ফুলের শুভেচ্ছা, মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তা, স্কুল মেরামত এবং গরীব দুঃখীদের মধ্যে খাবার বিতরণের আয়োজন করেছে অনেক ব্যাংক।

উল্লেখ, ১৭ মার্চ বড় পরিসরে অনুষ্ঠানটি করার কথা থাকলেও করোনা ভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় এখন ছোট পরিসরে অনুষ্ঠানটি উদ্যাপন করা হবে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। রাত ৮টায় বঙ্গবন্ধুর জন্মসময় অনুযায়ী আঁতশবাজির আয়োজন থাকবে। তবে কর্মসূচিগুলোতে জনসমাগম এড়িয়ে চলা হবে।

২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় মুজিব বর্ষ উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত সরকার মুজিব বর্ষ উদযাপন করবে। দেশের ভেতর ছাড়াও বিভিন্ন দেশে উদ্যাপিত হবে জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিব বর্ষের আনন্দ আয়োজন।

করাচির কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি লন্ডন থেকে দিল্লি হয়ে দেশে ফিরেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন বিকেলে তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ থেকে বঙ্গবন্ধু নামার পর পূর্ণতা পেয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি এক উৎসবমুখর পরিবেশে লাখো মানুষ বরণ করে নিয়েছিলের তাদের প্রিয় নেতাকে। ঐতিহাসিক সেই দিনকে বেছে নেওয়া হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপকারের জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা হিসেবে। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী। বছরব্যাপী দিনটি দেশে-বিদেশে উদ্যাপন করা হবে।

অর্থসূচক/জেডএ/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ