ArthoSuchak
বুধবার, ১লা এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘তুই কলেমা পড়ে ফেল, তোকে এনকাউন্টার দেওয়া হবে’

ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মধ্যরাতে কারাদণ্ড পাওয়া অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন ও ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এরপরই তাকে কারাগার থেকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ রোববার (১৫ মার্চ) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।

জামিনে মুক্ত হওয়ার পর ধরে নেওয়া এবং নির্যাতনের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার মধ্যরাতে আমার ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আমাকে মারধর করা হয়। এসময় আরডিসি (সহকারী কমিশনার, রাজস্ব) নাজিমুদ্দিন আমাকে টেনে হেঁচড়ে বাইরে বের করে নিয়ে আসেন। এরপর মাইক্রোতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আমার হাত ও চোখ বেঁধে ফেলা হয়। এসময় আমাকে এনকাউন্টার দেয়া হবে বলে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। আমি অনেক অনুরোধ করার পরও আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি দিতে থাকেন মাইক্রোবাসের অন্যরা। তারা আমাকে বারবার কালেমা পড়ে নিতে বলছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরপর সেই স্থান থেকে ঘুরিয়ে আমাকে ডিসি অফিসে নিয়ে আসা হয়। সেখানে অনেক কষ্টে বুঝতে পারি আমাকে ডিসি অফিসে নিয়ে আসা হয়েছে। পরে সেখানে একটি রুমে নিয়ে আবার আমাকে গালি দিতে থাকেন আরডিসি নাজিমুদ্দিন। তারা আমাকে মারধর করেন ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করেছেন। সবশেষে আমার চোখবাঁধা অবস্থায় ৪টি স্বাক্ষর করিয়েছেন। যেহেতু চোখ বাঁধা ছিল তাই কোথায় স্বাক্ষর করেছি আমি জানি না। এরপর তারা আমাকে কারাগারে রেখে আসেন। তারা যে আমাকে নির্যাতন করেছেন তার চিহ্ন আমার সারা শরীরে আছে।’

এদিকে, সাংবাদিক আরিফের জামিন আবেদিন নিয়েও ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন বলছেন আরিফুল ইসলাম তাকে নিযুক্ত করেছেন। তবে আরিফুল ইসলাম ও তার পরিবার বলছে তারা কোনো জামিন আবেদন করেননি। কাউকে নিযুক্ত করেননি। জামিন আবেদন কে করেছে সেটাও জানেন না।

এ বিষয়ে আরিফের বড় বোন রিমা আক্তার জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে জামিনের বিষয়টি তারা মেনে নিতে পারছেন না। তারা আরিফের জামিন আবেদন করেননি। তারা আরিফের জামিন চান না, নিঃশর্ত মুক্তি চান।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ১২টার পর জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমার নেতৃত্বে কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট আনসার সদস্যদের নিয়ে সাংবাদিক আরিফুলের বাড়িতে উপস্থিত হন। এক পর্যায়ে জোরপূর্বক দরজা ভেঙে তার ঘরে প্রবেশ করে স্ত্রী সন্তানের সামনেই মারধর করে ধরে নিয়ে আসেন। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। বাসায় আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা রাখার অভিযোগ এনে তাকে ১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে শনিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রংপুর বিভাগীয় কমিশনারকে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার কে এম তারিকুল ইসলাম তদন্তের দায়িত্ব দেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আবু তাহের মো. মাসুদ রানাকে।

এদিকে মধ্যরাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেয়ার ঘটনায় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

রোববার (১৫ মার্চ) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ