ArthoSuchak
সোমবার, ৩০শে মার্চ, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বিশেষ তহবিল হচ্ছে ইউসিবি ও শাহজালাল ব্যাংকে

পুঁজিবাজারে গতি সঞ্চারে ঘোষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিল সুবিধা কাজে লাগাতে আগ্রহী ব্যাংকের সংখ্যা বাড়ছে।এবার এই তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেসরকারি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক।এ নিয়ে এই প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংকে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাতে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।


অর্থসূচকে প্রকাশিত পুঁজিবাজার ও ব্যাংক-বিমার খবর গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো এখন নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে আমাদের ফেসবুক গ্রুপ Sharebazaar-News & Analysis এ। প্রিয় পাঠক, গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।


ইউসিবি এবং শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, তারা প্রত্যেকেই ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে। দুটি ব্যাংকই নিজস্ব অর্থায়নে এই তহবিল গঠন করছে। ইতোমধ্যে ব্যাংক দুটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে তহবিল গঠনের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এর আগে সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক (এনবিএল) বিশেষ তহবিল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে বলে জানা যায়।

আলোচিত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সিটি ব্যাংক আগেই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য রেপো সুবিধার আওতায় ৫০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছিল।সম্প্রতি ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ওই সুবিধার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানালে বাংলাদেশ ব্যাংক তা অনুমোদন করে।

সোনালী ব্যাংক ২০০ কোটি এবং রূপালী ব্যাংক ৮০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকা ব্যাংকও ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এখনো এ প্রস্তাব ব্যাংকটি পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুমোদিত হয়নি। অন্যদিকে এনবিএল নিজস্ব অর্থায়নে প্রাথমিকভাবে ৪০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।

তহবিল গঠনের বিষয়ে ইউসিবি’র কোম্পানি সচিব এটিএম তাহমিদুজ্জামান অর্থসূচককে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বিশেষ তহবিল গঠনের যে সুযোগ দিয়েছে তা খুবই ইতিবাচক একটি বিষয়। এই তহবিলের ২০০ কোটি টাকা ব্যাংকের ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপোজারের বাইরে থাকবে বলে ব্যাংকগুলোর পক্ষে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানো সহজ হবে।

তিনি বলেন, এই মুহুর্তে পুঁজিবাজার অত্যন্ত বিনিয়োগ অনুকূল অবস্থানে আছে। অনেক শেয়ারের মূল্যস্তর যে পর্যায়ে আছে, তাতে একটু দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করলে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

ইউসিবি’র কোম্পানি সচিব আরও বলেন, অন্য ব্যাংকগুলোও যদি এগিয়ে আসে এবং সবার সম্মিলিত চেষ্টা থাকে তাহলে বাজারে গতিশীলতা ফেরানো কঠিন কিছু হবে না।

ইউসিবি’র সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্রোকারহাউজ ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রহমত পাশা অর্থসূচককে বলেন, বিশেষ তহবিলের অনেক সুপরিকল্পিত ও অনেক নমনীয়। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই তহবিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে এই তহবিলকে ব্যাংকের পুঁজিবাজার এক্সপোজার থেকে বাইরে রাখায় শেয়ারের মূল্য বাড়লেও বিনিয়োগ সমন্বয়ের জন্য ব্যাংকগুলোকে কোনো চাপে পড়তে হবে না। ব্যাংকগুলো এখন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী-এই তিন পরিকল্পনার অনুসারে তহবিলকে সুষ্ঠুভাবে বিনিয়োগ করতে পারবে।

তিনি বলেন, ধীরে ধীরে বিশেষ তহবিল সুবিধা গ্রহণকারী ব্যাংকের সংখ্যা বাড়ছে। এই সংখ্যা বাড়তে থাকলে বাজারের তারল্য সঙ্কট অনেকটাই কেটে যাবে।

সোমবারের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যাক্তি শনাক্ত হওয়ার পর আজ ছিল প্রথম লেনদেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রথম দিনে উদ্বেগের ধাক্কাটাবেশি লেগেছে। তাছাড়া আজ সকাল থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুঁজিবাজারে বড় দর পতন হতে থাকে। তার পেছনেও বড় কারণ ছিল করোনা ভাইরাস। বিশ্বব্যাপী দরপতনের খবরে দেশের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্কের মাত্রাটা বেড়ে যায়। বিশেষ করে তীব্র পতনের কারণে লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানের স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ (Halted) হয়ে গেলে তার খবর বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলে। তবে এই আতঙ্ক ধীরে ধীরে কেটেযাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

উল্লেখ, পুঁজিবাজারে তীব্র মন্দার প্রেক্ষিতে বাজার উন্নয়নে গত ১৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বাজারের উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য ৬টি নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-বাজারে তারল্য বাড়াতে বিশেষ তহবিল গঠন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে পুঁজিবাজারে তফসিলি ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াতে গত ১১ ফে্ব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ তহবিল গঠন বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন অনুসারে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রতিটি ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারবে। ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে এই তহবিল গঠন করা যাবে। চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ধারণকৃত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সুবিধা নেওয়া যাবে। পুনঅর্থায়নযোগ্য এই তহবিলের মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত। এর সুদের হার ৫ শতাংশ। তহবিলের একটি বিশেষ দিক হচ্ছে, তা ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হিসাব (Exposure to Capital Market) এর বাইরে থাকবে। বিশেষ তহবিল সুবিধা গ্রহণকারী ব্যাংক চাইলে সরাসরি নিজে বিনিয়োগ করতে পারবে, আবার ওই তহবিল থেকে ব্রোকারহাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংককে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ঋণ দেওয়া যাবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ