অবসায়ন নয়, পিপলস লিজিং পুনর্গঠন করতে চায় সরকার
সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

অবসায়ন নয়, পিপলস লিজিং পুনর্গঠন করতে চায় সরকার

অনিয়ম অব্যবস্থাপনায় অবসায়নের প্রক্রিয়ায় থাকা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (পিএলএফএসএল) কার্যক্রম বন্ধ না করার প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠনের জন্য বেশ কয়েকটি শিল্পগ্রুপ আলোচনা করেছে। বিভিন্ন শর্তে তাদের সঙ্গে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দরকষাকষি চলছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের পরামর্শে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ না করে পুনর্গঠনের বিষয়ে ভাবা হচ্ছে।

এর আগে গত বছরের জুলাইতে পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক উচ্চ আদালতে আদেন করলে তা গ্রহণ হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিএমম আসাদুজ্জামান খানকে প্রতিষ্ঠানটির সাময়িক অবসায়ক নিয়োগ দেন আদালত। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে প্রতিষ্ঠানটি অবসায়ন চেয়ে ওই আবেদন করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন অবসায়ন না করে পুনর্গঠন চাইলে সে ক্ষেত্রে আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবসহ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আদালতের কাছে আবেদন করতে হবে।

জানা গেছে, পিপলস লিজিং বন্ধের সিদ্ধান্তের পর থেকে অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ব্যাপক চাপে পড়েছে। আরও অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হতে পারে এরকম গুজবে অনেকে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। এরকম অবস্থায় চরম সঙ্কটে পড়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত। এ খাতের তারল্য সঙ্কট কাটাতে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের অনুরোধ জানিয়েছেন এমডিরা। গত সপ্তাহে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এমডিরা বৈঠক করে এ দাবি জানান। একই সঙ্গে পিপলস লিজিং বাদে খারাপ অবস্থায় থাকা আরও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করে এ খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানোর অনুরোধ করেন তারা।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, পিপলস লিজিং পুনর্গঠনের জন্য ইতোমধ্যে তিনটি গ্রুপ দায়িত্ব নিতে চাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শামসুল আলামিন গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ ও বেক্সিমকো গ্রুপ। এসব গ্রুপ থেকে আটজন পরিচালকসহ মোট নয়জন পরিচালক করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেক্সিমকো ও বসুন্ধরা গ্রুপের দুজন করে মোট চারজন এবং শামসুল আলামিন গ্রুপের চারজন ও আমানতকারীদের মধ্য থেকে একজন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ধরনের একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

পিপলস লিজিংয়ের আগে বাংলাদেশে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়নের উদ্যোগ নেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অবশ্য এর আগে ব্যাংক একীভূতকরণ, অধিগ্রহণ এবং নাম পরিবর্তন হয়েছে। ২০০৯ সালে শিল্প ব্যাংক এবং শিল্প ঋণ সংস্থা একীভূত করে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গঠন করা হয়। আর ঋণসহ বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়মের তথ্য ফাঁস হওয়ায় ওরিয়েন্টাল ব্যাংক অধিগ্রহণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০০৭ সালে ব্যাংকটি পুনর্গঠন করে আইসিবি ইসলামী ব্যাংক নামকরণ করা হয়। এছাড়া নানা অনিয়মের কারণে আলোচিত ফারমার্স ব্যাংক নাম পরিবর্তন করে পদ্মায় রূপান্তরিত হয়েছে। ব্যাংকটির মালিকানায় এসেছে সরকারি পাঁচটি ব্যাংক।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, পিপলস লিজিংয়ের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের চেয়ে বড় বিষয় আদালত কী রায় দেন। কারণ অবসায়নের বিষয়টি আদালতে প্রক্রিয়াধীন। পিপলস লিজিংয়ের যে অবজার্ভার নিয়োগ দেয়া হয়েছে তার কাছে আদালত প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থা জানতে চেয়েছেন। এটি ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। আদালত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পরিদর্শনে উঠে আসে, পিপলস লিজিং থেকে বিতরণ করা ঋণের অধিকাংশই জালিয়াতির মাধ্যমে সাবেক পরিচালকরা তুলে নেন। ভুয়া কাগজ তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ২০১৫ সালে পাঁচ পরিচালককে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে শুধু প্রতিষ্ঠানের নামে জমি কেনার কথা বলে নিজ নামে জমি রেজিস্ট্রি করার মাধ্যমে আত্মসাৎ হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচশ’ কোটি টাকা। জমি রেজিস্ট্রির এ জালিয়াতির মাধ্যমে সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান ১১৬ কোটি টাকা, সাবেক পরিচালক খবির উদ্দিন মিয়া ১০৭ কোটি টাকা, আরেফিন সামসুল আলামিন, নার্গিস আলামিন ও হুমায়রা আলামিন ২৯৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন মর্মে তখন দুদকে প্রতিবেদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ